শিরোনাম

যুবলীগ নেতা শাহজাহানের হত্যাকারীরা এখনো অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুবলীগ নেতা শাহজাহানের হত্যাকারীরা এখনো অধরা
মো. শাহজাহান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতা মো. শাহজাহান ডিলারকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়ার তালতলা মোড়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগেও তাকে খুন করা হতে পারে বলে স্ত্রীকে আভাস দিয়েছিলেন শাহজাহান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে শাহজাহানকে চাঁদা দিতে হতো, যা ক্রমেই বেড়ে উঠেছিল। এ পর্যায়ে চাঁদা না পেয়ে তার ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা দখল করতেই হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার বাদী হয়ে ডিএমপির দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা হত্যা করেছে– এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। আমরা আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছি। গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত বলা যাবে। তদন্তাধীন বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এমনটা জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে ঝর্ণা আক্তার উল্লেখ করেন, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহজাহান বাসা থেকে বের হন। সাড়ে ৮টার দিকে নদ্দাপাড়া তালতলা মোড়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগেও শাহজাহান ভাই ভাবিকে বলেছিলেন– আমি হয়তো বেশি দিন থাকবো না। তুমি আমার ছেলে-মেয়েদেরকে দেখে রেখো।

তিনি বলেন, শাহজাহান ভাই আওয়ামী যুবলীগের বিমানবন্দর থানার সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের পর থেকে থেকে তার কাছ সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তার কিছু ব্যবসা-বাণিজ্যও তারা দখল করে নিয়েছে।

সোহেল বলেন, নদ্দাপাড়া এলাকায় শাহজাহান ভাইয়ের একটি ফ্ল্যাট কেনা ছিল। রাতে তিনি ওই ফ্লাটে গিয়ে থাকতেন।

আরেক চাচাতো ভাই নাহিদ পারভেজ বলেন, ৫ আগস্টের পর চাঁদার জন্য একাধিকবার তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। এছাড়া বহুবার ওসিকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়ার তালতলা মোড়ে যুবলীগ নেতা শাহজাহান ডিলারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও হত্যাকারীদের একটি মাথার ক্যাপ জব্দ করে পুলিশ।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত শাহজাহান আশকোনা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এবং ইন্টারনেট ও ডিস ব্যবসায়ী ছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।