শিরোনাম

নির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
নির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার, ভোগান্তিতে ক্রেতারা
গ্যাস সিলিন্ডার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে মুদি দোকানে কাজ করেন ইসমাইল মিয়া। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে রান্না শেষ না হতেই তার বাড়িতে সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে যায়। খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ছুটে যান। সন্ধ্যায় গ্যাস কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। পরে পরিচিত দোকান থেকে বাকিতে ১৬৫০ টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে যান বাড়িতে।

ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ইসমাইলের সংসার। তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় থাকা ও খাওয়ায়। সঞ্চয় বলে কিছুই থাকে না। আক্ষেপ করে ইসমাইল বলেন, দিনদিন নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছেই। এরমধ্যে জ্বালানির দামও বেড়েই চলছে। শহরের মানুষের চলা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই ভাবে তো আয় বাড়ছে না।

শহরের আরেক বাসিন্দা সুজন। চাকরির সুবাদে থাকেন শহরের ভাড়া বাসাতে। পরিবারে লোকসংখ্যা ৭ জন। মাসে একটার বেশি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। বেশি দামে গ্যাস ক্রয় করে সংসার চালানো তার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলে জানান। তার অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

সোমবার (২ মার্চ) মার্চ মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্চ মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর আগে গত মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয়েছে এলপিজি গ্যাসের দাম। সেই সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের ধার্যকৃত মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস সিলিন্ডার।

সচেতন মহল বলছে , প্রশাসন যদি প্রতিনিয়ত বাজার তদারকি করে তাহলে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাওয়া যাবে।

গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

সাতক্ষীরা জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক চাহিদার চার ভাগের এক ভাগও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা কিছু গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন, তারাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। কাজেই সংকট না কাটলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

শহরের মুনজিতপুর এলাকার এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী বাবু বলেন, কোম্পানি থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না। কোম্পানি থেকে চাহিদার তুলনায় খুবই কম গ্যাস পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

শহরের হোটেল মালিক আব্দুল আহাদ বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে বেশিরভাগ হোটেল মালিকদের গ্যাস কিনতে হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে।

সাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান রাশি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের গ্যাস সিলিন্ডার আসছে দুই চালান। অনেক চেষ্টার পর মাসের প্রথম এক গাড়িতে ৩০০টি সিলিন্ডার পেয়েছি। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুত এই গ্যাস ফুরিয়ে যায়। পরে আবার আমরা আমরা গাড়ি পাঠিয়ে দুই দিন অপেক্ষার পর আরেক চালানে গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছি ৫০০টি। আমাদের প্রতি মাসে গ্যাস সিলিন্ডার লাগে ৩ হাজারের বেশি। আমাদের চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা চাইলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারছি না। এর কারণ কোম্পানি থেকে বেশি দামে গ্যাস ক্রয় করছি। সরকার যদি কোম্পানিদের সঙ্গে দামের সমন্বয় করে তাহলে ওই মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হতো।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে সাতক্ষীরা জেলার সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, সরকার নির্ধারিত এলপিজি গ্যাসের ধার্যকৃত মূল্য বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন গ্যাসের ডিলার পয়েন্ট, খুচরা দোকানে তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ব্যাপারেও ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

/এসআর/