শিরোনাম

রংপুরে চার খুন: ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ভয়েই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ’

রংপুর সংবাদদাতা
রংপুর সংবাদদাতা
রংপুরে চার খুন: ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ভয়েই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ’
আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ হেফাজতে আসামি

রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার পর বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং সেখানে নিজেদের উপস্থিতি ধরা পড়তে পারে এই ভয়ে খুনিরা বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী মঙ্গলবার বলেন, ‘চারজনকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে নিজেদের উপস্থিতির আলামত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল সিদ্ধার্থ দাসের। বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে পারে- এমন সন্দেহ থেকেই হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। এ সময় বৈদ্যুতিক মিটারের তার কাটতে গিয়ে শর্টসার্কিটও হয়, ফলে পুরো বাড়ি বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’

শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা দুজনই নিহত পরিবারের বাড়ির আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়। ওইদিন বিকালেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এই তথ্য পাওয়া যায় বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়।

ডিবি কর্মকর্তা সনাতন গণমাধ্যমকে চক্রবর্তী বলেন, ‘পুলিশের কাছে কিছু বিষয় গোপন করলেও আদালতে দুই আসামিই পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থানীয়দের সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইরে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। তবে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা করছে।’

/এসআর/