পাবনা-৩ আসন
বিএনপি-স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, পিছিয়ে নেই জামায়াত

বিএনপি-স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, পিছিয়ে নেই জামায়াত
পাবনা সংবাদদাতা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ আসনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারদের মন জয় করতে ছুটছেন প্রার্থীরা। চা-স্টল থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়াও প্রার্থীদের চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কে জিতবে আর কে হারবে– সেই সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত সবাই।
স্থানীয় বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংকট রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রতিপক্ষ বিএনপিরই বহিষ্কৃত নেতা। তার মার্কা ঘোড়া। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা। ফলে ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ অবস্থা বিরাজ করছে আসনটিতে। শেষ হাসি কে হাসবে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি সুজানগর উপজেলার বাসিন্দা। পাবনা-২ আসনের মনোনয়ন চাইলেও দল তাকে উন্নয়নের স্বার্থে পাবনা-৩ আসনে মনোনীত করে। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নানা অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিএনপির একটি পক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে তুহিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নামেন। স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তুলে শুরু হয় মশাল মিছিলসহ নানা আন্দোলন।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাসাদুল ইসলাম হীরা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাইজুলসহ বিএনপির অন্য নেতারা।
এদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভীর জুয়েল লিখন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান লেবু ধানের শীষের প্রার্থী তুহিনের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে অভ্যন্তরীণ কারণে তারা গত ২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে দল আনোয়ারুল ইসলাম, হাসাদুল ইসলাম হীরা, তাইজুল, লিখন, ফারুক, লেবু, আরিফকে বহিষ্কার করে বিএনপি। অন্যদিকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে কাজ করছেন।
চাটমোহর উপজেলায় বিএনপির এমপি নেই গত দুই যুগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন চাটমোহরের মানুষ। নিজেদের উপজেলার এমপি বানাতে তাই অনেকে একাট্টা। তারা চাইছেন ‘চাটমোহর ইজম’ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীক জিতবে। এছাড়া আরেকটি সমীকরণ রয়েছে, তিন উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর দুই উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২ জন। সেই হিসেবে দুই উপজেলার ভোটারের চেয়ে চাটমোহর উপজেলায় ৩৪ হাজার ১৯৮ ভোট বেশি। তাই চাটমোহরের এই ৩৪ হাজার ভোট যে বেশি পাবেন তিনি বিজয়ী হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। এছাড়া, এই প্রার্থী হিন্দুদের একটি বড় অংশের ভোটও পাবেন। পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থকদেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ) চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাড়তি সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বিরতিহীনভাবে চলনবিলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নানা উন্নয়ন আর ওয়াদা দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। প্রচারণার প্রথম দিকে দলে বিভক্তি প্রকট থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী সংগঠিত হয়েছে। তারা তাদের দলের প্রার্থী তুহিনকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। হাসান জাফির তুহিন নির্বাচিত হলে চলনবিল নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা মাওলানা আলী আছগার তাদের দলে অভ্যন্তরীণ কোন সংকট না থাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কর্মীরা ভোট প্রার্থনায় দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের ভোটের সংখ্যা কম থাকলেও এই নির্বাচনে জামায়াতের ভোট অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের স্থানীয় একাধিক নেতা। সেক্ষেত্রে পাবনা-৩ আসনে ভোটের লড়াই ত্রিমুখীও হতে পারে বলে ধারণা মিলেছে। বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বন্দ্বে ভোট ভাগ গয়ে যাবে এবং সেই ফাঁক গলিয়ে জামায়াত প্রার্থী জিতে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেও আভাস পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাবনা-৩ আসনে জয়ের ব্যাপারে মূল ফ্যাক্টর হবে ফরিদপুরের ভোট। কারণে চাটমোহর এবং ভাঙ্গুড়ায় শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও ফরিদপুরের কোনো প্রার্থী নেই। এই কারণে ফরিদপুরে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন তারই জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পাবনা-৩ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন– গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল খালেক (হাতপাখা), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য্য), জাতীয় পার্টির মীর নাদিম ডাবলু (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান জয় (একতারা)।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮০২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে চাটমোহর উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৭১১ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯১ জন।
চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর– এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ আসনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারদের মন জয় করতে ছুটছেন প্রার্থীরা। চা-স্টল থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়াও প্রার্থীদের চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কে জিতবে আর কে হারবে– সেই সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত সবাই।
স্থানীয় বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংকট রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রতিপক্ষ বিএনপিরই বহিষ্কৃত নেতা। তার মার্কা ঘোড়া। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা। ফলে ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ অবস্থা বিরাজ করছে আসনটিতে। শেষ হাসি কে হাসবে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি সুজানগর উপজেলার বাসিন্দা। পাবনা-২ আসনের মনোনয়ন চাইলেও দল তাকে উন্নয়নের স্বার্থে পাবনা-৩ আসনে মনোনীত করে। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নানা অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিএনপির একটি পক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে তুহিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নামেন। স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তুলে শুরু হয় মশাল মিছিলসহ নানা আন্দোলন।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাসাদুল ইসলাম হীরা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাইজুলসহ বিএনপির অন্য নেতারা।
এদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভীর জুয়েল লিখন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান লেবু ধানের শীষের প্রার্থী তুহিনের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে অভ্যন্তরীণ কারণে তারা গত ২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে দল আনোয়ারুল ইসলাম, হাসাদুল ইসলাম হীরা, তাইজুল, লিখন, ফারুক, লেবু, আরিফকে বহিষ্কার করে বিএনপি। অন্যদিকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে কাজ করছেন।
চাটমোহর উপজেলায় বিএনপির এমপি নেই গত দুই যুগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন চাটমোহরের মানুষ। নিজেদের উপজেলার এমপি বানাতে তাই অনেকে একাট্টা। তারা চাইছেন ‘চাটমোহর ইজম’ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীক জিতবে। এছাড়া আরেকটি সমীকরণ রয়েছে, তিন উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর দুই উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২ জন। সেই হিসেবে দুই উপজেলার ভোটারের চেয়ে চাটমোহর উপজেলায় ৩৪ হাজার ১৯৮ ভোট বেশি। তাই চাটমোহরের এই ৩৪ হাজার ভোট যে বেশি পাবেন তিনি বিজয়ী হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। এছাড়া, এই প্রার্থী হিন্দুদের একটি বড় অংশের ভোটও পাবেন। পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থকদেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ) চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাড়তি সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বিরতিহীনভাবে চলনবিলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নানা উন্নয়ন আর ওয়াদা দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। প্রচারণার প্রথম দিকে দলে বিভক্তি প্রকট থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী সংগঠিত হয়েছে। তারা তাদের দলের প্রার্থী তুহিনকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। হাসান জাফির তুহিন নির্বাচিত হলে চলনবিল নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা মাওলানা আলী আছগার তাদের দলে অভ্যন্তরীণ কোন সংকট না থাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কর্মীরা ভোট প্রার্থনায় দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের ভোটের সংখ্যা কম থাকলেও এই নির্বাচনে জামায়াতের ভোট অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের স্থানীয় একাধিক নেতা। সেক্ষেত্রে পাবনা-৩ আসনে ভোটের লড়াই ত্রিমুখীও হতে পারে বলে ধারণা মিলেছে। বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বন্দ্বে ভোট ভাগ গয়ে যাবে এবং সেই ফাঁক গলিয়ে জামায়াত প্রার্থী জিতে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেও আভাস পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাবনা-৩ আসনে জয়ের ব্যাপারে মূল ফ্যাক্টর হবে ফরিদপুরের ভোট। কারণে চাটমোহর এবং ভাঙ্গুড়ায় শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও ফরিদপুরের কোনো প্রার্থী নেই। এই কারণে ফরিদপুরে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন তারই জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পাবনা-৩ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন– গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল খালেক (হাতপাখা), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য্য), জাতীয় পার্টির মীর নাদিম ডাবলু (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান জয় (একতারা)।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮০২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে চাটমোহর উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৭১১ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯১ জন।
চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর– এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসন।

বিএনপি-স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, পিছিয়ে নেই জামায়াত
পাবনা সংবাদদাতা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ আসনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারদের মন জয় করতে ছুটছেন প্রার্থীরা। চা-স্টল থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়াও প্রার্থীদের চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কে জিতবে আর কে হারবে– সেই সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত সবাই।
স্থানীয় বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংকট রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রতিপক্ষ বিএনপিরই বহিষ্কৃত নেতা। তার মার্কা ঘোড়া। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা। ফলে ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ অবস্থা বিরাজ করছে আসনটিতে। শেষ হাসি কে হাসবে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি সুজানগর উপজেলার বাসিন্দা। পাবনা-২ আসনের মনোনয়ন চাইলেও দল তাকে উন্নয়নের স্বার্থে পাবনা-৩ আসনে মনোনীত করে। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নানা অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিএনপির একটি পক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে তুহিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নামেন। স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তুলে শুরু হয় মশাল মিছিলসহ নানা আন্দোলন।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাসাদুল ইসলাম হীরা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাইজুলসহ বিএনপির অন্য নেতারা।
এদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভীর জুয়েল লিখন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান লেবু ধানের শীষের প্রার্থী তুহিনের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে অভ্যন্তরীণ কারণে তারা গত ২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে দল আনোয়ারুল ইসলাম, হাসাদুল ইসলাম হীরা, তাইজুল, লিখন, ফারুক, লেবু, আরিফকে বহিষ্কার করে বিএনপি। অন্যদিকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে কাজ করছেন।
চাটমোহর উপজেলায় বিএনপির এমপি নেই গত দুই যুগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন চাটমোহরের মানুষ। নিজেদের উপজেলার এমপি বানাতে তাই অনেকে একাট্টা। তারা চাইছেন ‘চাটমোহর ইজম’ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীক জিতবে। এছাড়া আরেকটি সমীকরণ রয়েছে, তিন উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর দুই উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২ জন। সেই হিসেবে দুই উপজেলার ভোটারের চেয়ে চাটমোহর উপজেলায় ৩৪ হাজার ১৯৮ ভোট বেশি। তাই চাটমোহরের এই ৩৪ হাজার ভোট যে বেশি পাবেন তিনি বিজয়ী হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। এছাড়া, এই প্রার্থী হিন্দুদের একটি বড় অংশের ভোটও পাবেন। পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থকদেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ) চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাড়তি সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বিরতিহীনভাবে চলনবিলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নানা উন্নয়ন আর ওয়াদা দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। প্রচারণার প্রথম দিকে দলে বিভক্তি প্রকট থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী সংগঠিত হয়েছে। তারা তাদের দলের প্রার্থী তুহিনকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। হাসান জাফির তুহিন নির্বাচিত হলে চলনবিল নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা মাওলানা আলী আছগার তাদের দলে অভ্যন্তরীণ কোন সংকট না থাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কর্মীরা ভোট প্রার্থনায় দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্ভার রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের ভোটের সংখ্যা কম থাকলেও এই নির্বাচনে জামায়াতের ভোট অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের স্থানীয় একাধিক নেতা। সেক্ষেত্রে পাবনা-৩ আসনে ভোটের লড়াই ত্রিমুখীও হতে পারে বলে ধারণা মিলেছে। বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বন্দ্বে ভোট ভাগ গয়ে যাবে এবং সেই ফাঁক গলিয়ে জামায়াত প্রার্থী জিতে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেও আভাস পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাবনা-৩ আসনে জয়ের ব্যাপারে মূল ফ্যাক্টর হবে ফরিদপুরের ভোট। কারণে চাটমোহর এবং ভাঙ্গুড়ায় শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও ফরিদপুরের কোনো প্রার্থী নেই। এই কারণে ফরিদপুরে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন তারই জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পাবনা-৩ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন– গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল খালেক (হাতপাখা), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য্য), জাতীয় পার্টির মীর নাদিম ডাবলু (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান জয় (একতারা)।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮০২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে চাটমোহর উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ জন। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৭১১ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯১ জন।
চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর– এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসন।




