শিরোনাম

কৃষকের দুঃখ নেত্রকোনার কইজুরি বিল

নেত্রকোনা  সংবাদদাতা
কৃষকের দুঃখ নেত্রকোনার কইজুরি বিল
কইজুরি বিল। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

কইজুরি খাল ভরাট ও দখলের কারণে কয়েক গ্রামের কৃষকরা কইজুরি বিলে চাষাবাদ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষকের প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি রয়েছে এই বিলে। জলাবদ্ধতার কারণে এসব জমিতে চাষাবাদ করা যায় না। তবে বিলের যেসব জমিতে চাষাবাদ করা হয়, তা-ও বৃষ্টি হলে পানিতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক আনু মিয়া, হাবিবুল্লাহ, আব্দুল মোতালেব, মোমেন মিয়া, আতিকুর রহমান সবুজ, আজিজুল হক, হাবিবুর রহমান, আবু তাহের, সম্রাজ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নে অবস্থিত কইজুরি বিল। এ বিলে স্থানীয় কালেঙ্গা, চিকনি, সাখড়া, পূবাইল ও চন্দলাড়া গ্রামের কৃষকের ফসলি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করেই চলে কৃষকদের সারা বছরের খাদ্য চাহিদা। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কইজুরি খালটি ভরাট হয়ে আছে। ফলে সারা বছরই বিলটি পানিতে ভরপুর থাকে। অনাবাদী পড়ে থাকে বিলের অর্ধেক জমি।

বিলের জমিতে ধান চাষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
বিলের জমিতে ধান চাষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জানা গেছে, বিল থেকে কইজুরি খালটি স্থানীয় কালেঙ্গা গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাটেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশেছে। খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার।

স্থানীয় কৃষক আনু মিয়া বলেন, এ বিলে আমাদের জমি রয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও এই বিলের জমির পানি নিষ্কাশনের কোনো সমস্যা ছিল না। কইজুরি খাল দিয়ে সব পানি প্রবাহিত হতো। খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিল এখন সারাবছরই জলাবদ্ধ থাকে। কোনো ফসলই আবাদ করা যায় না। বোরো মৌসুমে অর্ধেক বিলে আবাদ হলেও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ফসল।

কৃষক হাবিবুল্লাহ বলেন, বিলে আমাদের প্রায় দুই একর জমি আছে। পানি থাকায় কচুরিপানার ভরে গেছে বিল। কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

Screenshot ৩

কৃষক সম্রাজ মিয়া বলেন, আমাদের একমাত্র দুঃখই হলো বিলে জমে থাকা পানি। খাল খনন হলেই এ দুঃখ দূর হবে। এজন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে তদবির করছি। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব মিয়া বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি এই খাল দিয়ে নৌকা চলতো। কিন্তু এখন খালটি প্রায় বিলুপ্ত। খাল ভরাটের কারণে কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা কইজুরি বিলে চাষাবাদ করতে পারছেন না। যতটুকুও চাষাবাদ হচ্ছে সেটাও আবার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা শুনেছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে খালটি খনন করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি, কৃষকদের কথা চিন্তা করে পুনরায় খালটি খননের ব্যবস্থা করা হোক।

দখলকৃত ভরাট খালে ধান চাষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
দখলকৃত ভরাট খালে ধান চাষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন তালুকদার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, খাল দখলমুক্ত করে ৩ কিলোমিটার খনন করলেই এলাকার শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। স্থানীয় কালেঙ্গা গ্রামের লোকজন নিজেরা চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটারের মতো খালটি খনন করেছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে দখলদাররা বাধা দেওয়ায় আর খনন করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, দখল হওয়া নদ-নদী ও খালগুলো পর্যায়ক্রমে দখলমুক্তসহ পুনর্খনন করা হবে। খননের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

/এসআর/