শিরোনাম

ঢাবি ছাত্রীসহ তিনজনকে হত্যা, প্রতিবেশীর কাছে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
ঢাবি ছাত্রীসহ তিনজনকে হত্যা, প্রতিবেশীর কাছে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
লক্ষ্মীপুরে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার মা ও তার ৩ মেয়ে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহতদের প্রতিবেশী আফরোজা বেগম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ঘটনার সময় নিজেকে কল ও পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয় দিয়ে বাসার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়, যার ফলে অভিযুক্ত পালাতে পারেননি।

আফরোজা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে আমি জানালা দিয়ে, অন্তরের হাতে একটি প্যান্ট দেখি। কেন সে ঘরের ভেতরে রয়েছেন জানতে চাইলে নিজেকে একজন মিস্ত্রি বলে পরিচয় দেয় অভিযুক্ত। কিন্তু বিষয়টি আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এর কিছুক্ষণ আগেই ঘরের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে আমি ছুটে গিয়ে শাহিনুর বেগমকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাই নি।

তিনি বলেন, প্রথমে চিৎকার শোনা গেলেও কিছুক্ষণ পর সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে যায়। পরে জানালা দিয়ে একজনকে রান্নাঘরের দিকে যেতে দেখি। প্রথমে আমি তাকে নিহত শাহিনুরের ছেলে শিফাত ভেবেছিলাম। ডাকাডাকি করেও কোনো উত্তর না পেয়ে এবং জানালা বন্ধ করার শব্দ শুনে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেই।

আফরোজা বেগম বলেন, স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে ঘরে প্রবেশ করলে ফ্লোরজুড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার (২০), কলেজছাত্রী ইকরা বেগম (১৭) এবং শিশু সিপার (৯) মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় পালাতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘ প্রায় ২৫-২৬ বছর ধরে তারা রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। শাহিনুরের ‍স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত শাহিনুরের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এছাড়া অভিযুক্তকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ। দুটি মামলার তদন্ত চলছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যার মূল কারণ এখনো উদঘাটন করা যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। শুক্রবার দুপুরে মা, তিন মেয়েকে ছেলে শিফাতসহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

/এসবি/