শিরোনাম

ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা জামায়াত কর্মীর

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা জামায়াত কর্মীর
জামায়াত নেতা আবু বক্কর

ভাড়াটে খুনিকে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে খুন করানোর অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরের এক জামায়াত কর্মীকে। আবু বক্কর সিদ্দিক নামের ওই ব্যক্তি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ছিলেন।

গত বছরের ২০২৫ সালের ১৫ জুন সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র ওই বছরের ২৮ নভেম্বর দিয়েছিলো পুলিশ। তদন্তে মূল আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বক্করের নাম উঠে এলেও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এত দিন। গত সোমবার ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করতে এলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, একসময় আবু বকর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পূর্ব চর মার্টিনের বালির পোলে সালেহা বেগমের বাড়িতে থাকতেন। সেখানে তার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতেন। সালেহার স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তাকে বিয়ে করেন। সেই সময় আবু বকরের গ্রামের বাড়ি কমলনগরের চর কালকিনিতে স্ত্রী ও পরিবার ছিলো।

জানা গেছে, সালেহাকে বিয়ে করে টাকা নিয়ে সটকে পড়েছিলেন আবু বক্কর। স্ত্রীকে তালাকও দিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর স্ত্রী সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন আবু বক্কর। এই টাকা দিয়ে জমি কেনার কথা ছিল তার। তবে জমি না কিনে তিনি স্ত্রীর কাছে আরও টাকা দাবি করেন। মূলত ওই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সালেহা টাকার জন্য চাপ দিলে তিনি তাকে খুন করার কথা ভাবেন। এ জন্য ৫০ হাজার টাকায় মো. সেলিম নামের একজনকে খুনের প্রস্তাব দেন। চুক্তি অনুযায়ী সেলিম খুন করেন সালেহাকে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট–সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে সালেহা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর এক দিন আগে ১৫ জুন সালেহাকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কমলনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে গত বছরের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির পর পুলিশ একাধিবার আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

তবে তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে বলা হয়, আবু বক্করের কথামতো সেলিম কৌশলে সালেহা বেগমকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে সাভারে বিক্রি করেন। এক বছর আগের সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করে গত সোমবার কারাগারে যান স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক।

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ বলেন, ‘আবু বকর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদে নেই। তবে তিনি অনেক আগে দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।’

/এসআর/