শিরোনাম

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি আওয়ামী লীগ কর্মীর, মৃত বাবাকে কারাগারে শেষ বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি আওয়ামী লীগ কর্মীর, মৃত বাবাকে কারাগারে শেষ বিদায়
ছেলে মিলন মিয়াকে দেখানোর জন্য বাবা ফুল মিয়ার লাশ কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয় (ছবি:সংগৃহীত)

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের হাজতি মিলন মিয়া। রাজনৈতিক মামলার আসামি তিনি। কারাগারেই বসেই তিনি তাঁর বাবার মারা যাওয়ার খবর পান। বাবার জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানানোর আশা ছিল তার। সেজন্য তিনি প্যারোলে মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেননি। তাই বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার আশা পূরণ হয়নি তার।

শেষ পর্যন্ত মিলন মিয়ার বাবার লাশ আনা হয় কারাগারে। সেখানেই বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বৃুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এই ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫)। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। তার বাবা ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ ডিসেম্বর মিলন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৬ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, মিলন আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না।

আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবারই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে মিলন মিয়াার পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মূর্ছা যাাচ্ছিলেন।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেলে জেলখানায় থাকা ভাতিজাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করায় আমার ভাইয়ের মরদেহ জেলখানায় আনা হয়।’

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো পত্র অনুযায়ী কারাগারে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

/বিবি/