শিরোনাম

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে ম্লান করছে: ভয়েস নেটওয়ার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে ম্লান করছে: ভয়েস নেটওয়ার্ক
ভয়েস নেটওয়ার্কের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ভয়েস নেটওয়ার্ক একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা সেই সাফল্যকে ম্লান করছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছে সংস্থাটি। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে ১,০৬৯ জন পর্যবেক্ষক ১৫০টি আসনের ৩,৫৪১টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেন, যার মধ্যে ১,০০৮টি কেন্দ্রে ভোট গণনা পর্যন্ত নজরদারি করা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রায় ৭ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা ও আইডি সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। প্রায় ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না এবং ২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি অপর্যাপ্ত এবং প্রায় ১৫.৫ শতাংশ সদস্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪৯ শতাংশ কেন্দ্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণে অনিয়মের মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট না থাকা, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের এজেন্টকে বের করে দেওয়া, ব্যালট ছিনতাই এবং যথাযথ পরিচয় যাচাই ছাড়া ভোট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৪ শতাংশ কেন্দ্রে জাল ভোট এবং ৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের হুমকির মুখে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের কারণে ভোটগ্রহণকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক বলা হয়েছে।

ভোট গণনা ও ফলাফল ট্যাবুলেশনে নির্দেশনার অভাব, যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতি, তথ্য সমন্বয়ে বিলম্ব এবং কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের সীমিত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কাভারেজ সীমিত ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে ফলাফল ঘোষণার পর প্রায় ৪০টি জেলায় অন্তত ৭০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভয়েস নেটওয়ার্ক। বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জে দুজন নিহত হয়েছেন এবং নোয়াখালীতে এক নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। দিনাজপুর, নাটোর, ফেনী, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাবাদকে ম্লান করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইম্প্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের সিইও এনায়েত হোসেন জাকারিয়া এবং রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দীন। সংবাদ সম্মেলনে এসময় ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দীন, সেক্রেটারি একরামুল হক সায়েমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/টিই/