শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ১

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

পূর্বশত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর পুরো উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াতকর্মী মাহদি হাসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাহদি হাসানকে সুটিয়া গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদ্রাসা সামনে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। গুরুতর আহত ৪ জনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল।

জীবননগর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/