শিরোনাম

চট্টগ্রামে প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি নিয়ে এনসিপি নেতার হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রামে প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি নিয়ে এনসিপি নেতার হুঁশিয়ারি
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জোবাইরুল আলম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এখনও দলীয় স্বজনপ্রীতি থেকে বের হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জোবাইরুল আলম। গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক শিক্ষা মনে করিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। দলীয় এজেন্ডা ছেড়ে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত না করলে আবার জনরোষের তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক বার্তা দেন এই এনসিপি নেতা।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গণসমাবেশে এ কথা বলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজিত হয়। আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল গনির সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

বক্তব্যে জোবাইরুল আলম গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। এনসিপির এ নেতা বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে সরকারি প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষতা হারিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মতো আচরণ করেছিল। তবে আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কীভাবে ৩৬ জুলাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং থানায় হামলা চালিয়েছিল, সে দৃশ্য সবার মনে রাখা উচিত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা ও থানা প্রশাসন সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ছাড়া কোনো কাজ করছে না। সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক সেবা চাইতে গেলে তাদের এমপির সুপারিশ আনতে বলা হয়। এমনকি ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও নিয়োগের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। আর কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে বক্তব্যের ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জোবাইরুল আলম নিজেও সেটি ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে তার পুরো বক্তব্য আসেনি। মূলত তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যেন প্রশাসনের কোনো ভুল আচরণের কারণে জনগণের ক্ষোভ আর না বাড়ে। জুলাই আন্দোলনের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি কিংবা সংঘাতময় পরিস্থিতি তারা আর দেখতে চান না। তিনি চান প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখুক।

/এমএকে/