শিরোনাম

বিদেশে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন কমেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর

বরিশাল সংবাদদাতা
বরিশাল সংবাদদাতা
বিদেশে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন কমেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, একসময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যেত। তবে বর্তমান সময়ে সেই ঘটনার হার আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে এসেছে। আমাদের কোনো প্রবাসী যদি বিদেশে অন্যায় বা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে এখন আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারি এবং আইনি প্রতিকারও চাইতে পারি। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকালে বরিশাল টিটিসি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যাওয়া অনেক কর্মী কাঙ্ক্ষিত কাজ পান না। বিশেষ করে নারী কর্মীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গৃহকর্মীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এক কোটি বিদেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ১২টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে কয়েকটির দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কেয়ারগিভারসহ কিছু ট্রেডে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ রয়েছে। শুধু সনদনির্ভর চাকরির পেছনে না ছুটে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে একজন তরুণ নিজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন এবং অন্যদের জন্যও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন।

তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। দালালনির্ভরতা কমিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। বিভিন্ন দেশের নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী সেই ডেটাবেজ থেকে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। যে দেশের ভাষা জানা থাকবে, সে দেশে কাজ পাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া সহজ হবে। তাই কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

/এফআর/