ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার, বেড়েছে লেনদেন

ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার, বেড়েছে লেনদেন
মরিয়ম সেঁজুতি

মন্দাভাব কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। আগের অর্থবছরের দরপতন ও স্থবিরতা কাটিয়ে সমাপনী সূচক, বাজার মূলধন এবং দৈনিক গড় লেনদেনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের জোয়ার এবং ব্লক মার্কেটের সক্রিয়তা বাজারকে নতুন গতি দিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজার পর্যালোচনা থেকে পুঁজিবাজারের এই চাঙ্গাভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা ও বাজার মূলধনের চিত্র
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট সিকিউরিটিজের সংখ্যা আগের বছরের ৬৫৫টি থেকে সামান্য কমে ৬৪০টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা আগের বছরের মতোই ৩৬০টিতে অপরিবর্তিত ছিল। এই সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৭টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সংখ্যা ২৩৪টি থেকে কমে ২২০টি হয়েছে। অন্যদিকে, ডিবেঞ্চার ৮টি এবং করপোরেট বন্ডের সংখ্যা ১৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাজার মূলধনে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮৬ হাজার ৯২৩.০৫ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ লাখ ৬২২ হাজার ৭১০.৭৬ মিলিয়ন টাকা।
সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদ দিয়ে হিসাব করলে বাজার মূলধন ৩ লাখ ২৯৬ হাজার ৫৬.৪২ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ৬৫৪ হাজার ৮২৭.২২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। মোট বাজার মূলধনের কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ইক্যুইটি বা শেয়ারের অংশ দাঁড়িয়েছে ৫১.৩২ শতাংশ, সরকারি বন্ড ৪৭.৬৯ শতাংশ, করপোরেট বন্ড ০.৬০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ০.৩৯ শতাংশ এবং ডিবেঞ্চার ০.০১ শতাংশ। তবে দেশের জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত আগের বছরের ১১.৯৩ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ১১.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের বড় উত্থান
আগের অর্থবছরের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৯.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বছর শেষে এই সূচকটি ৫,৭৬২.৮৩ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান এবং এই বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ৪,৭০২.৬৯ পয়েন্ট।
একইভাবে বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক ‘ডিএস৩০’ ১৯.৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বছর শেষে ২,১৭৮.৩৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’-ও এই অর্থবছরে ১০.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৬৮.১৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরটি সূচকের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।
লেনদেনে অভাবনীয় গতি
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় গতি লক্ষ করা গেছে। এই অর্থবছরের মোট ২৩৯টি কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৭২৬,৮৯৪.২০ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫.৫৩ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের ৪,৭২৪.৯২ মিলিয়ন টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ৭,২২৫.৫০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।
পুরো বছরে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ১৫,২৯০.৫৫ মিলিয়ন টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল ২,৬৭৬.৪৬ মিলিয়ন টাকা। লেনদেনের এই চাঙ্গাভাবের সাথে সাথে শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদলের পরিমাণও ৪৫.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯,৩৩১.৪৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
ব্লক মার্কেট, মোবাইল লেনদেন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত ব্লক মার্কেটেও লেনদেনের পরিমাণ ১২.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১,২৯৩.৬৪ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪.১৩ শতাংশ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মোবাইল লেনদেনের ক্ষেত্রে। অ্যাপ ও মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৭৮.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮৭,৯৩৫.৩৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের ২৬,০৬৭ থেকে কমে ১৬,৩১৩ জনে নেমে এসেছে, তবুও মোট লেনদেনে এর অবদান ছিল ১৬.৬৭ শতাংশ।
অন্যান্য বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মগুলোতেও একই চিত্র
সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন ৯.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬০০.৮৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এসএমই মার্কেট: প্রধান এসএমই বোর্ডে লেনদেন ১.৪৬ শতাংশ কমে ১৮,০৯২.৬৭ মিলিয়ন টাকা হয়েছে এবং এসএমই ব্লক মার্কেটে লেনদেন ৩৩.৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩,০৭৯.৬১ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড: এই নতুন বোর্ডের লেনদেন ৭৩.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১.১৩ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
পিই রেশিও, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রাজস্ব
অর্থবছর শেষে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯.২৬-এ, যা আগের বছর ছিল ৯.৩৪। পিই রেশিও যৌক্তিক পর্যায়ে থাকায় বাজার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে; এই অর্থবছরে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের ৩৯,৪১৪.১০ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,৪৩০.৯২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে লেনদেন ও চাঙ্গাভাব বাড়লেও আয়কর আইনের বিভিন্ন ধারার পরিবর্তনের কারণে ডিএসই কর্তৃক সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া করের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী কর জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,০৪৫,৩১২,৪৭৫ টাকা। একই আইনের ১৩৫ ধারা অনুযায়ী কর পরিশোধের পরিমাণ হয়েছে ৪২০,১৯৫,৯৪০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রযুক্তিগত সুবিধার সুবাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

মন্দাভাব কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। আগের অর্থবছরের দরপতন ও স্থবিরতা কাটিয়ে সমাপনী সূচক, বাজার মূলধন এবং দৈনিক গড় লেনদেনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের জোয়ার এবং ব্লক মার্কেটের সক্রিয়তা বাজারকে নতুন গতি দিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজার পর্যালোচনা থেকে পুঁজিবাজারের এই চাঙ্গাভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা ও বাজার মূলধনের চিত্র
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট সিকিউরিটিজের সংখ্যা আগের বছরের ৬৫৫টি থেকে সামান্য কমে ৬৪০টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা আগের বছরের মতোই ৩৬০টিতে অপরিবর্তিত ছিল। এই সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৭টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সংখ্যা ২৩৪টি থেকে কমে ২২০টি হয়েছে। অন্যদিকে, ডিবেঞ্চার ৮টি এবং করপোরেট বন্ডের সংখ্যা ১৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাজার মূলধনে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮৬ হাজার ৯২৩.০৫ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ লাখ ৬২২ হাজার ৭১০.৭৬ মিলিয়ন টাকা।
সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদ দিয়ে হিসাব করলে বাজার মূলধন ৩ লাখ ২৯৬ হাজার ৫৬.৪২ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ৬৫৪ হাজার ৮২৭.২২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। মোট বাজার মূলধনের কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ইক্যুইটি বা শেয়ারের অংশ দাঁড়িয়েছে ৫১.৩২ শতাংশ, সরকারি বন্ড ৪৭.৬৯ শতাংশ, করপোরেট বন্ড ০.৬০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ০.৩৯ শতাংশ এবং ডিবেঞ্চার ০.০১ শতাংশ। তবে দেশের জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত আগের বছরের ১১.৯৩ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ১১.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের বড় উত্থান
আগের অর্থবছরের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৯.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বছর শেষে এই সূচকটি ৫,৭৬২.৮৩ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান এবং এই বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ৪,৭০২.৬৯ পয়েন্ট।
একইভাবে বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক ‘ডিএস৩০’ ১৯.৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বছর শেষে ২,১৭৮.৩৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’-ও এই অর্থবছরে ১০.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৬৮.১৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরটি সূচকের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।
লেনদেনে অভাবনীয় গতি
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় গতি লক্ষ করা গেছে। এই অর্থবছরের মোট ২৩৯টি কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৭২৬,৮৯৪.২০ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫.৫৩ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের ৪,৭২৪.৯২ মিলিয়ন টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ৭,২২৫.৫০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।
পুরো বছরে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ১৫,২৯০.৫৫ মিলিয়ন টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল ২,৬৭৬.৪৬ মিলিয়ন টাকা। লেনদেনের এই চাঙ্গাভাবের সাথে সাথে শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদলের পরিমাণও ৪৫.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯,৩৩১.৪৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
ব্লক মার্কেট, মোবাইল লেনদেন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত ব্লক মার্কেটেও লেনদেনের পরিমাণ ১২.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১,২৯৩.৬৪ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪.১৩ শতাংশ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মোবাইল লেনদেনের ক্ষেত্রে। অ্যাপ ও মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৭৮.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮৭,৯৩৫.৩৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের ২৬,০৬৭ থেকে কমে ১৬,৩১৩ জনে নেমে এসেছে, তবুও মোট লেনদেনে এর অবদান ছিল ১৬.৬৭ শতাংশ।
অন্যান্য বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মগুলোতেও একই চিত্র
সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন ৯.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬০০.৮৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এসএমই মার্কেট: প্রধান এসএমই বোর্ডে লেনদেন ১.৪৬ শতাংশ কমে ১৮,০৯২.৬৭ মিলিয়ন টাকা হয়েছে এবং এসএমই ব্লক মার্কেটে লেনদেন ৩৩.৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩,০৭৯.৬১ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড: এই নতুন বোর্ডের লেনদেন ৭৩.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১.১৩ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
পিই রেশিও, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রাজস্ব
অর্থবছর শেষে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯.২৬-এ, যা আগের বছর ছিল ৯.৩৪। পিই রেশিও যৌক্তিক পর্যায়ে থাকায় বাজার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে; এই অর্থবছরে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের ৩৯,৪১৪.১০ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,৪৩০.৯২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে লেনদেন ও চাঙ্গাভাব বাড়লেও আয়কর আইনের বিভিন্ন ধারার পরিবর্তনের কারণে ডিএসই কর্তৃক সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া করের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী কর জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,০৪৫,৩১২,৪৭৫ টাকা। একই আইনের ১৩৫ ধারা অনুযায়ী কর পরিশোধের পরিমাণ হয়েছে ৪২০,১৯৫,৯৪০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রযুক্তিগত সুবিধার সুবাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার, বেড়েছে লেনদেন
মরিয়ম সেঁজুতি

মন্দাভাব কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। আগের অর্থবছরের দরপতন ও স্থবিরতা কাটিয়ে সমাপনী সূচক, বাজার মূলধন এবং দৈনিক গড় লেনদেনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের জোয়ার এবং ব্লক মার্কেটের সক্রিয়তা বাজারকে নতুন গতি দিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজার পর্যালোচনা থেকে পুঁজিবাজারের এই চাঙ্গাভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা ও বাজার মূলধনের চিত্র
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট সিকিউরিটিজের সংখ্যা আগের বছরের ৬৫৫টি থেকে সামান্য কমে ৬৪০টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা আগের বছরের মতোই ৩৬০টিতে অপরিবর্তিত ছিল। এই সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৭টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সংখ্যা ২৩৪টি থেকে কমে ২২০টি হয়েছে। অন্যদিকে, ডিবেঞ্চার ৮টি এবং করপোরেট বন্ডের সংখ্যা ১৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিকিউরিটিজের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাজার মূলধনে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮৬ হাজার ৯২৩.০৫ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ লাখ ৬২২ হাজার ৭১০.৭৬ মিলিয়ন টাকা।
সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদ দিয়ে হিসাব করলে বাজার মূলধন ৩ লাখ ২৯৬ হাজার ৫৬.৪২ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ৬৫৪ হাজার ৮২৭.২২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। মোট বাজার মূলধনের কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ইক্যুইটি বা শেয়ারের অংশ দাঁড়িয়েছে ৫১.৩২ শতাংশ, সরকারি বন্ড ৪৭.৬৯ শতাংশ, করপোরেট বন্ড ০.৬০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ০.৩৯ শতাংশ এবং ডিবেঞ্চার ০.০১ শতাংশ। তবে দেশের জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত আগের বছরের ১১.৯৩ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ১১.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের বড় উত্থান
আগের অর্থবছরের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৯.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বছর শেষে এই সূচকটি ৫,৭৬২.৮৩ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান এবং এই বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ৪,৭০২.৬৯ পয়েন্ট।
একইভাবে বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক ‘ডিএস৩০’ ১৯.৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বছর শেষে ২,১৭৮.৩৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’-ও এই অর্থবছরে ১০.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৬৮.১৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরটি সূচকের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।
লেনদেনে অভাবনীয় গতি
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় গতি লক্ষ করা গেছে। এই অর্থবছরের মোট ২৩৯টি কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৭২৬,৮৯৪.২০ মিলিয়ন টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫.৫৩ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের ৪,৭২৪.৯২ মিলিয়ন টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ৭,২২৫.৫০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।
পুরো বছরে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ১৫,২৯০.৫৫ মিলিয়ন টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল ২,৬৭৬.৪৬ মিলিয়ন টাকা। লেনদেনের এই চাঙ্গাভাবের সাথে সাথে শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদলের পরিমাণও ৪৫.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯,৩৩১.৪৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
ব্লক মার্কেট, মোবাইল লেনদেন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত ব্লক মার্কেটেও লেনদেনের পরিমাণ ১২.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১,২৯৩.৬৪ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪.১৩ শতাংশ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মোবাইল লেনদেনের ক্ষেত্রে। অ্যাপ ও মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৭৮.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮৭,৯৩৫.৩৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের ২৬,০৬৭ থেকে কমে ১৬,৩১৩ জনে নেমে এসেছে, তবুও মোট লেনদেনে এর অবদান ছিল ১৬.৬৭ শতাংশ।
অন্যান্য বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মগুলোতেও একই চিত্র
সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন ৯.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬০০.৮৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এসএমই মার্কেট: প্রধান এসএমই বোর্ডে লেনদেন ১.৪৬ শতাংশ কমে ১৮,০৯২.৬৭ মিলিয়ন টাকা হয়েছে এবং এসএমই ব্লক মার্কেটে লেনদেন ৩৩.৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩,০৭৯.৬১ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড: এই নতুন বোর্ডের লেনদেন ৭৩.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১.১৩ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
পিই রেশিও, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রাজস্ব
অর্থবছর শেষে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯.২৬-এ, যা আগের বছর ছিল ৯.৩৪। পিই রেশিও যৌক্তিক পর্যায়ে থাকায় বাজার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে; এই অর্থবছরে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের ৩৯,৪১৪.১০ মিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,৪৩০.৯২ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে লেনদেন ও চাঙ্গাভাব বাড়লেও আয়কর আইনের বিভিন্ন ধারার পরিবর্তনের কারণে ডিএসই কর্তৃক সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া করের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী কর জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,০৪৫,৩১২,৪৭৫ টাকা। একই আইনের ১৩৫ ধারা অনুযায়ী কর পরিশোধের পরিমাণ হয়েছে ৪২০,১৯৫,৯৪০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রযুক্তিগত সুবিধার সুবাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

পুঁজিবাজার
১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন শুরু
শেয়ারবাজারের ৬২ কোম্পানির বিষয়ে ডিএসইর সতর্কবার্তা

