গাবতলী হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ বাড়লেও বিক্রিতে ধীরগতি

গাবতলী হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ বাড়লেও বিক্রিতে ধীরগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ। বাঁশ-কাঠের অবকাঠামো ও রঙিন প্যান্ডেল নির্মাণসহ মাঠজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে সেই তুলনায় কেনাবেচায় এখনও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবশ্য খামারি ও ব্যাপারীরা আশাবাদী, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারও দ্রুত চাঙা হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায় তীব্র ব্যস্ততার চিত্র। হাটের মূল কাঠামো এবং গবাদি পশু রাখার জন্য সারিবদ্ধ শেড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। মাঠের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বাঁশের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। রোদ ও বৃষ্টি থেকে পশু এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে বাঁশের ফ্রেমের ওপর টাঙানো হচ্ছে কাপড় ও চটের বিশাল অস্থায়ী ছাউনি। লাল, সাদা, হলুদ ও সবুজ রঙের কাপড়ের নান্দনিক নকশায় পুরো হাট চত্বরে এক চমৎকার রূপ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া বর্ষার কাদা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পুরো মাঠ ও পশুর দাঁড়ানোর জায়গায় বালির আস্তরণ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে আনা বালি শ্রমিকরা দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাঠজুড়ে।
হাটের এ প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারী ও খামারিরা তাদের পশু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। মেহেরপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মো. সায়েম শাকিল জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিয়মিত এই হাটে আসছেন। এবার তিনি বুধবার (২০ মে) রাতে ৫০ থেকে ৬০টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১২৫টি গরু তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিক্রি ভালো হলে গরুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এবারের প্যান্ডেল ও চিকিৎসাসেবার উন্নত ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি জানান, গোখাদ্য, ভ্যাকসিন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত বছর যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা ছিল, এবার আকার ও মাংসের পরিমাণভেদে (৪৫০ থেকে ৮০০ কেজি) একই ধরনের গরুর দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখনো কোনো পশু বিক্রি না হলেও ক্রেতারা আসছেন ও দাম দেখছেন। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গতবার যেখানে চান রাত পর্যন্ত প্যান্ডেল ভাড়া ছিল ৮ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আরেক বিক্রেতা মো. রকিবুল ইসলাম এবার ১৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। গত ১০ বছর ধরে গাবতলী হাটে আসা এ বিক্রেতাও এখনো কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্রেতারা মূলত বাজার যাচাই করছেন। গোখাদ্য ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার দাম একটু বেশি এবং এর প্রভাব পড়েছে হাটের জায়গার ভাড়াতেও। গতবারের ১০ হাজার টাকার ভাড়া এবার ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত বছরের মতো এবারও সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। একই চিত্র দেখা গেছে ছাগল ও ভেড়ার বাজারেও। বিক্রেতা সাইফ জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই ছাগলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যা কোরবানির আগে আরও বাড়তে পারে।
এদিকে হাটে আসা ক্রেতাদের মুখেও চড়া দামের কথা শোনা গেছে। মাহবুব নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি আজ মূলত বাজার দেখতে এসেছেন, কিনবেন আরও কয়েকদিন পর। তবে দাম গতবারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। অন্য ক্রেতারাও জানান, খামারিরা অতিরিক্ত দাম চাওয়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের দায়িত্বে থাকা মো. বাবুল জানান, ঈদের ৩-৪ দিন আগে হাট পুরোপুরি জমজমাট হবে। পশুদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, গাবতলী হাটের নির্ধারিত জায়গায় কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বালুর মাঠসহ আশপাশের ব্যক্তিগত জায়গার মালিকরা আলাদাভাবে এ ভাড়া নিচ্ছেন, যার সাথে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। কর্তৃপক্ষ শুধু পশু বিক্রির পর নির্ধারিত হাসিল আদায় করছে।
উল্লেখ্য, এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি অস্থায়ী ও স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে উভয় সিটি করপোরেশনেই ১৩টি করে হাট রয়েছে। ঈদুল আজহার দিনসহ মোট ৫ দিন ব্যাপী এসব হাটে গবাদি পশু কেনাবেচার আনুষ্ঠানিক সুযোগ থাকবে।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ। বাঁশ-কাঠের অবকাঠামো ও রঙিন প্যান্ডেল নির্মাণসহ মাঠজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে সেই তুলনায় কেনাবেচায় এখনও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবশ্য খামারি ও ব্যাপারীরা আশাবাদী, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারও দ্রুত চাঙা হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায় তীব্র ব্যস্ততার চিত্র। হাটের মূল কাঠামো এবং গবাদি পশু রাখার জন্য সারিবদ্ধ শেড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। মাঠের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বাঁশের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। রোদ ও বৃষ্টি থেকে পশু এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে বাঁশের ফ্রেমের ওপর টাঙানো হচ্ছে কাপড় ও চটের বিশাল অস্থায়ী ছাউনি। লাল, সাদা, হলুদ ও সবুজ রঙের কাপড়ের নান্দনিক নকশায় পুরো হাট চত্বরে এক চমৎকার রূপ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া বর্ষার কাদা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পুরো মাঠ ও পশুর দাঁড়ানোর জায়গায় বালির আস্তরণ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে আনা বালি শ্রমিকরা দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাঠজুড়ে।
হাটের এ প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারী ও খামারিরা তাদের পশু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। মেহেরপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মো. সায়েম শাকিল জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিয়মিত এই হাটে আসছেন। এবার তিনি বুধবার (২০ মে) রাতে ৫০ থেকে ৬০টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১২৫টি গরু তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিক্রি ভালো হলে গরুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এবারের প্যান্ডেল ও চিকিৎসাসেবার উন্নত ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি জানান, গোখাদ্য, ভ্যাকসিন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত বছর যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা ছিল, এবার আকার ও মাংসের পরিমাণভেদে (৪৫০ থেকে ৮০০ কেজি) একই ধরনের গরুর দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখনো কোনো পশু বিক্রি না হলেও ক্রেতারা আসছেন ও দাম দেখছেন। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গতবার যেখানে চান রাত পর্যন্ত প্যান্ডেল ভাড়া ছিল ৮ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আরেক বিক্রেতা মো. রকিবুল ইসলাম এবার ১৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। গত ১০ বছর ধরে গাবতলী হাটে আসা এ বিক্রেতাও এখনো কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্রেতারা মূলত বাজার যাচাই করছেন। গোখাদ্য ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার দাম একটু বেশি এবং এর প্রভাব পড়েছে হাটের জায়গার ভাড়াতেও। গতবারের ১০ হাজার টাকার ভাড়া এবার ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত বছরের মতো এবারও সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। একই চিত্র দেখা গেছে ছাগল ও ভেড়ার বাজারেও। বিক্রেতা সাইফ জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই ছাগলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যা কোরবানির আগে আরও বাড়তে পারে।
এদিকে হাটে আসা ক্রেতাদের মুখেও চড়া দামের কথা শোনা গেছে। মাহবুব নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি আজ মূলত বাজার দেখতে এসেছেন, কিনবেন আরও কয়েকদিন পর। তবে দাম গতবারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। অন্য ক্রেতারাও জানান, খামারিরা অতিরিক্ত দাম চাওয়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের দায়িত্বে থাকা মো. বাবুল জানান, ঈদের ৩-৪ দিন আগে হাট পুরোপুরি জমজমাট হবে। পশুদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, গাবতলী হাটের নির্ধারিত জায়গায় কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বালুর মাঠসহ আশপাশের ব্যক্তিগত জায়গার মালিকরা আলাদাভাবে এ ভাড়া নিচ্ছেন, যার সাথে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। কর্তৃপক্ষ শুধু পশু বিক্রির পর নির্ধারিত হাসিল আদায় করছে।
উল্লেখ্য, এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি অস্থায়ী ও স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে উভয় সিটি করপোরেশনেই ১৩টি করে হাট রয়েছে। ঈদুল আজহার দিনসহ মোট ৫ দিন ব্যাপী এসব হাটে গবাদি পশু কেনাবেচার আনুষ্ঠানিক সুযোগ থাকবে।

গাবতলী হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ বাড়লেও বিক্রিতে ধীরগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ। বাঁশ-কাঠের অবকাঠামো ও রঙিন প্যান্ডেল নির্মাণসহ মাঠজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে সেই তুলনায় কেনাবেচায় এখনও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবশ্য খামারি ও ব্যাপারীরা আশাবাদী, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারও দ্রুত চাঙা হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায় তীব্র ব্যস্ততার চিত্র। হাটের মূল কাঠামো এবং গবাদি পশু রাখার জন্য সারিবদ্ধ শেড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। মাঠের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বাঁশের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। রোদ ও বৃষ্টি থেকে পশু এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে বাঁশের ফ্রেমের ওপর টাঙানো হচ্ছে কাপড় ও চটের বিশাল অস্থায়ী ছাউনি। লাল, সাদা, হলুদ ও সবুজ রঙের কাপড়ের নান্দনিক নকশায় পুরো হাট চত্বরে এক চমৎকার রূপ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া বর্ষার কাদা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পুরো মাঠ ও পশুর দাঁড়ানোর জায়গায় বালির আস্তরণ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে আনা বালি শ্রমিকরা দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাঠজুড়ে।
হাটের এ প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারী ও খামারিরা তাদের পশু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। মেহেরপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মো. সায়েম শাকিল জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিয়মিত এই হাটে আসছেন। এবার তিনি বুধবার (২০ মে) রাতে ৫০ থেকে ৬০টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১২৫টি গরু তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিক্রি ভালো হলে গরুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এবারের প্যান্ডেল ও চিকিৎসাসেবার উন্নত ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি জানান, গোখাদ্য, ভ্যাকসিন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত বছর যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা ছিল, এবার আকার ও মাংসের পরিমাণভেদে (৪৫০ থেকে ৮০০ কেজি) একই ধরনের গরুর দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখনো কোনো পশু বিক্রি না হলেও ক্রেতারা আসছেন ও দাম দেখছেন। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গতবার যেখানে চান রাত পর্যন্ত প্যান্ডেল ভাড়া ছিল ৮ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আরেক বিক্রেতা মো. রকিবুল ইসলাম এবার ১৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। গত ১০ বছর ধরে গাবতলী হাটে আসা এ বিক্রেতাও এখনো কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্রেতারা মূলত বাজার যাচাই করছেন। গোখাদ্য ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার দাম একটু বেশি এবং এর প্রভাব পড়েছে হাটের জায়গার ভাড়াতেও। গতবারের ১০ হাজার টাকার ভাড়া এবার ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত বছরের মতো এবারও সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। একই চিত্র দেখা গেছে ছাগল ও ভেড়ার বাজারেও। বিক্রেতা সাইফ জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই ছাগলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যা কোরবানির আগে আরও বাড়তে পারে।
এদিকে হাটে আসা ক্রেতাদের মুখেও চড়া দামের কথা শোনা গেছে। মাহবুব নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি আজ মূলত বাজার দেখতে এসেছেন, কিনবেন আরও কয়েকদিন পর। তবে দাম গতবারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। অন্য ক্রেতারাও জানান, খামারিরা অতিরিক্ত দাম চাওয়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের দায়িত্বে থাকা মো. বাবুল জানান, ঈদের ৩-৪ দিন আগে হাট পুরোপুরি জমজমাট হবে। পশুদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, গাবতলী হাটের নির্ধারিত জায়গায় কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বালুর মাঠসহ আশপাশের ব্যক্তিগত জায়গার মালিকরা আলাদাভাবে এ ভাড়া নিচ্ছেন, যার সাথে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। কর্তৃপক্ষ শুধু পশু বিক্রির পর নির্ধারিত হাসিল আদায় করছে।
উল্লেখ্য, এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি অস্থায়ী ও স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে উভয় সিটি করপোরেশনেই ১৩টি করে হাট রয়েছে। ঈদুল আজহার দিনসহ মোট ৫ দিন ব্যাপী এসব হাটে গবাদি পশু কেনাবেচার আনুষ্ঠানিক সুযোগ থাকবে।

হাট ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি
কোরবানি হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি


