সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে অসুস্থ পশুর মাংস, জেলিযুক্ত চিংড়ি

সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে অসুস্থ পশুর মাংস, জেলিযুক্ত চিংড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীবাসীর জন্য খাদ্যপণ্য কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সুপারশপে বেশি খরচ করলে বা এসি পরিবেশ থাকলে হয়তো ভালো পণ্য পাওয়া যাবে– এমনটা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।
সুপারশপে অসুস্থ পশুর কলিজা ও নষ্ট মগজ বিক্রির পাশাপাশি অপরিষ্কারভাবে খাদ্য সংরক্ষণের ঘটনা ধরা পড়েছে। এদিকে কাঁচাবাজারে বিক্রি হচ্ছে জেলিযুক্ত চিংড়ি, রাসায়নিক রঞ্জক মেশানো মাছ ও পচা মাংস।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সমন্বিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের অভিযানের ২০২২-২৬ সালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযানে বিএফএসএর সঙ্গে অংশ নেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ধানমন্ডির একটি সুপারশপে প্রায় দুই কেজি অসুস্থ গরুর কলিজা পাওয়া যায়। সেখানে অপরিষ্কার পরিবেশে মুরগির গিলা ও কলিজা সংরক্ষণ, কসাইখানা নোংরা রাখা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ মেলে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিক জরিমানা না করে ত্রুটি সংশোধনে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়। পরে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়ায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধানমন্ডির আরেকটি সুপারশপে কালো হয়ে যাওয়া নষ্ট গরুর মগজ পাওয়া যায়। সেখানে একই স্থানে মাংস কাটা ও সংরক্ষণসহ আরো কয়েকটি অনিয়মও শনাক্ত হয়।
ফেব্রুয়ারিতে মগবাজারের একটি সুপারশপে অপরিষ্কার অবস্থায় গরুর পায়া সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এপ্রিলে ফার্মগেটের একটি সুপারশপে একই ফ্রিজে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। এভাবে খাদ্য সংরক্ষণ ক্রস-কন্টামিনেশনের ঝুঁকি তৈরি করে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী এই অনিয়মের কারণে মামলা হতে পারতো। তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় মামলা করা হয়নি।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় এই অনিয়ম আরও গুরুতর। গত ২৮ জুলাই মিরপুর শাহ আলী কাঁচাবাজার থেকে প্রায় ৪০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি ও অসুস্থ খাসির পচা কলিজা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজারে প্রায় ৩৫ কেজি পোয়া মাছে রাসায়নিক রঞ্জকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারে মাছ ও মাংসের উৎস-সংক্রান্ত ক্রয় চালান বা রসিদ দেখাতে না পারায় জিয়া এন্টারপ্রাইজ ও একটি মাছের দোকানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। কচুক্ষেত বাজারে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএফএসএর কর্মকর্তারা জানান, সমন্বিত অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়লে সব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জরিমানা বা মামলা করা হয় না। ত্রুটির ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় সংশোধনের জন্য ৭ দিন, ১০ দিন বা এক মাসের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না হলে কিংবা গুরুতর অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু জরিমানা আদায় নয়, খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
বিএফএসএ সদস্য (আইন ও নীতি) এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যগুলোতেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। তবে সুপারশপগুলো তাদের নিজেদের বিক্রির স্বার্থেই দিনে দিনে সচেতন হচ্ছে, কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআর,বি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং এফএওর অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা অংশীজনদের সচেতন করছেন। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলা থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা নিয়মিত পরীক্ষা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীবাসীর জন্য খাদ্যপণ্য কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সুপারশপে বেশি খরচ করলে বা এসি পরিবেশ থাকলে হয়তো ভালো পণ্য পাওয়া যাবে– এমনটা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।
সুপারশপে অসুস্থ পশুর কলিজা ও নষ্ট মগজ বিক্রির পাশাপাশি অপরিষ্কারভাবে খাদ্য সংরক্ষণের ঘটনা ধরা পড়েছে। এদিকে কাঁচাবাজারে বিক্রি হচ্ছে জেলিযুক্ত চিংড়ি, রাসায়নিক রঞ্জক মেশানো মাছ ও পচা মাংস।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সমন্বিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের অভিযানের ২০২২-২৬ সালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযানে বিএফএসএর সঙ্গে অংশ নেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ধানমন্ডির একটি সুপারশপে প্রায় দুই কেজি অসুস্থ গরুর কলিজা পাওয়া যায়। সেখানে অপরিষ্কার পরিবেশে মুরগির গিলা ও কলিজা সংরক্ষণ, কসাইখানা নোংরা রাখা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ মেলে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিক জরিমানা না করে ত্রুটি সংশোধনে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়। পরে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়ায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধানমন্ডির আরেকটি সুপারশপে কালো হয়ে যাওয়া নষ্ট গরুর মগজ পাওয়া যায়। সেখানে একই স্থানে মাংস কাটা ও সংরক্ষণসহ আরো কয়েকটি অনিয়মও শনাক্ত হয়।
ফেব্রুয়ারিতে মগবাজারের একটি সুপারশপে অপরিষ্কার অবস্থায় গরুর পায়া সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এপ্রিলে ফার্মগেটের একটি সুপারশপে একই ফ্রিজে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। এভাবে খাদ্য সংরক্ষণ ক্রস-কন্টামিনেশনের ঝুঁকি তৈরি করে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী এই অনিয়মের কারণে মামলা হতে পারতো। তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় মামলা করা হয়নি।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় এই অনিয়ম আরও গুরুতর। গত ২৮ জুলাই মিরপুর শাহ আলী কাঁচাবাজার থেকে প্রায় ৪০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি ও অসুস্থ খাসির পচা কলিজা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজারে প্রায় ৩৫ কেজি পোয়া মাছে রাসায়নিক রঞ্জকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারে মাছ ও মাংসের উৎস-সংক্রান্ত ক্রয় চালান বা রসিদ দেখাতে না পারায় জিয়া এন্টারপ্রাইজ ও একটি মাছের দোকানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। কচুক্ষেত বাজারে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএফএসএর কর্মকর্তারা জানান, সমন্বিত অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়লে সব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জরিমানা বা মামলা করা হয় না। ত্রুটির ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় সংশোধনের জন্য ৭ দিন, ১০ দিন বা এক মাসের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না হলে কিংবা গুরুতর অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু জরিমানা আদায় নয়, খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
বিএফএসএ সদস্য (আইন ও নীতি) এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যগুলোতেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। তবে সুপারশপগুলো তাদের নিজেদের বিক্রির স্বার্থেই দিনে দিনে সচেতন হচ্ছে, কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআর,বি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং এফএওর অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা অংশীজনদের সচেতন করছেন। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলা থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা নিয়মিত পরীক্ষা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে অসুস্থ পশুর মাংস, জেলিযুক্ত চিংড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীবাসীর জন্য খাদ্যপণ্য কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সুপারশপে বেশি খরচ করলে বা এসি পরিবেশ থাকলে হয়তো ভালো পণ্য পাওয়া যাবে– এমনটা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।
সুপারশপে অসুস্থ পশুর কলিজা ও নষ্ট মগজ বিক্রির পাশাপাশি অপরিষ্কারভাবে খাদ্য সংরক্ষণের ঘটনা ধরা পড়েছে। এদিকে কাঁচাবাজারে বিক্রি হচ্ছে জেলিযুক্ত চিংড়ি, রাসায়নিক রঞ্জক মেশানো মাছ ও পচা মাংস।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সমন্বিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের অভিযানের ২০২২-২৬ সালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযানে বিএফএসএর সঙ্গে অংশ নেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ধানমন্ডির একটি সুপারশপে প্রায় দুই কেজি অসুস্থ গরুর কলিজা পাওয়া যায়। সেখানে অপরিষ্কার পরিবেশে মুরগির গিলা ও কলিজা সংরক্ষণ, কসাইখানা নোংরা রাখা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ মেলে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিক জরিমানা না করে ত্রুটি সংশোধনে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়। পরে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়ায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধানমন্ডির আরেকটি সুপারশপে কালো হয়ে যাওয়া নষ্ট গরুর মগজ পাওয়া যায়। সেখানে একই স্থানে মাংস কাটা ও সংরক্ষণসহ আরো কয়েকটি অনিয়মও শনাক্ত হয়।
ফেব্রুয়ারিতে মগবাজারের একটি সুপারশপে অপরিষ্কার অবস্থায় গরুর পায়া সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এপ্রিলে ফার্মগেটের একটি সুপারশপে একই ফ্রিজে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। এভাবে খাদ্য সংরক্ষণ ক্রস-কন্টামিনেশনের ঝুঁকি তৈরি করে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী এই অনিয়মের কারণে মামলা হতে পারতো। তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় মামলা করা হয়নি।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় এই অনিয়ম আরও গুরুতর। গত ২৮ জুলাই মিরপুর শাহ আলী কাঁচাবাজার থেকে প্রায় ৪০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি ও অসুস্থ খাসির পচা কলিজা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজারে প্রায় ৩৫ কেজি পোয়া মাছে রাসায়নিক রঞ্জকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারে মাছ ও মাংসের উৎস-সংক্রান্ত ক্রয় চালান বা রসিদ দেখাতে না পারায় জিয়া এন্টারপ্রাইজ ও একটি মাছের দোকানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। কচুক্ষেত বাজারে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএফএসএর কর্মকর্তারা জানান, সমন্বিত অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়লে সব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জরিমানা বা মামলা করা হয় না। ত্রুটির ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় সংশোধনের জন্য ৭ দিন, ১০ দিন বা এক মাসের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না হলে কিংবা গুরুতর অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু জরিমানা আদায় নয়, খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
বিএফএসএ সদস্য (আইন ও নীতি) এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপারশপের পণ্যগুলোতেও অনিয়ম ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। তবে সুপারশপগুলো তাদের নিজেদের বিক্রির স্বার্থেই দিনে দিনে সচেতন হচ্ছে, কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআর,বি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং এফএওর অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা অংশীজনদের সচেতন করছেন। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলা থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা নিয়মিত পরীক্ষা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৩৩ শতাংশ খাদ্যেই ভেজাল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য





-CznNewsLab-2a1688.jpg)

