শিরোনাম

সংস্কারের মাঝেই ধসে পড়ল ধানমন্ডি লেকের সেতু

সংস্কারের মাঝেই ধসে পড়ল ধানমন্ডি লেকের সেতু
সংস্কারকাজ চলাকালেই ধসে পড়ে ধানমন্ডি লেকের ১৫/এ অংশের স্টিলের স্টিলের সেতুটি।

সংস্কারকাজ চলাকালেই ধসে পড়ে লোহার বিম। এরপর থেকে অচল হয়ে আছে ধানমন্ডি লেকের ১৫/এ অংশের স্টিলের সেতুটি। ঈদুল আজহার আগে ভেঙে ফেলা সেতুর দুটি বিমের একটি পানিতে পড়ে যাওয়ার পর কাজ থেমে যায়। ফলে লেকের দুই পাড়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ পথ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিন যা দেখা গেছে

ধানমন্ডি লেকের ১৫/এ-এর অংশে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত স্টিলের সেতু এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটির মূল কাঠামোর নিচের অংশ ধসে পড়েছে এবং মাঝখানের স্টিলের ২ টি বিমের মধ্যে একটি পানির ওপর ঝুলে রয়েছে। সেতুর এক প্রান্তে শুকনো গাছের ডালপালা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

আরও দেখা যায়, চলাচলের জন্য ব্যবহৃত পাটাতনের কোনো অংশ নেই। কেবল দুই পাশের মরিচাধরা রেলিং ও কিছু স্টিলের কাঠামো টিকে আছে। নিচে লেকের পানিতে প্লাস্টিক, পলিথিন, শুকনো পাতা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ভাসছে।

লেকের তীর ঘেঁষা অংশে বসানো জালেও আটকে থাকতে দেখা যায় নানা ধরনের ভাসমান বর্জ্য। চারপাশে বহুতল ভবন ও অভিজাত আবাসিক এলাকা থাকা সত্ত্বেও লেকের এই অংশের বেহাল অবস্থা চোখে পড়ার মতো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুতে লোহার বিম স্থাপনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কোনো কারিগরি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল না।

পথচারীদের বক্তব্য

পথচারীরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সেতু ব্যবহার করে লেক পারাপার হওয়ার সময় তাদের মাঝেমধ্যে ভয় কাজ করতো। ঈদুল আজহার কিছুদিন আগে সেতুটি সেতুটি ভেঙে ফেলায় বর্তমানে তাদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে দীর্ঘ পথ ঘুরে তাদেরকে লেক পারাপার করতে হচ্ছে।

ধানমন্ডি ১৫/এ এলাকায় বসবাসকারী তানজিল নামের একজন বলেন, ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হতে দেখেছি। ঐ সময় দুটি লোহার বিম বসানো হয়েছে। কিন্তু, ঈদের একদিন আগে একটি বিম পানিতে পড়ে গেছে। তবে সেটি আর তোলা হয়নি এবং ঈদের পর থেকে এখনো পর্যন্ত সেতুর কাজও আর শুরু হতে দেখিনি।

তানজিল জানান, ভেঙে ফেলার আগে মানুষ চলাচল করলে সেতুটি কাঁপতো। অনেকে চলাচলের সময় ভয় পেয়েছে বলেও জানায় সে। তার প্রত্যাশা, সেতুটি যাতে দ্রুত ঠিক করা হয়।

নিলয় নামের একজন পথচারী বলেন, আমার বাসা ধানমন্ডি শংকরে। আমি সবসময় লেকে আসি এবং সময় কাটাই। বেশ কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি, এই সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। লেকের এক পাশ থেকে আরেকপাশে যাওয়ার সময় সেতুটি ঢুলতো। মাঝেমধ্যে ভয়ও কাজ করতো কখন যে ভেঙে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে হঠাৎ খেয়াল করলাম, সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাবলাম হয়ত তাড়াতাড়ি ঠিক করা হবে। কিন্তু, এখনো ঠিক করা হয়নি। সেতুটি ঠিক না করার কারণে আমাকে এখন অনেকটা পথ বেশি হেঁটে লেক পার হতে হচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্য

সেতুটির কাজ এখনো কেন শুরু হলো না এবং বিম স্থাপনের সময় কোনো কারিগরি কর্মকর্তা কেন উপস্থিত ছিল না, এমন প্রশ্ন করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আমি এ সম্পর্কে অবগত নই। আমাকে খবর নিতে হবে।

পরবর্তীতে ডিএসসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সেতুটির ২ টা বিম-ই নষ্ট হয়ে গেছে। ঈদের আগে সেতুটি ভেঙে ফেলার পর ক্রেন দিয়ে ২টি বিম বসানোর পরে একটা পানিতে পড়ে গেছে। এরপরে সেটি আর উঠানো সম্ভব হয়নি। যারা ঐ সময় কাজ করেছে, তার এখন আর কাজ করবে না। এখন বড় ক্রেন নিয়ে এসে নতুন করে বসানো হবে।

বিম স্থাপনের সময় ডিএসসিসি’র কোনো কারিগরি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারিগরি কর্মকর্তা থাকলে যে বিম পানিতে পড়ে যেতো না, বিষয়টি এরকম না। বিমগুলো লম্বালম্বি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। এগুলোর একেকটার ওজন কয়েক টন। তবে, আমরা যতদ্রুত সম্ভব সেতুটি ঠিক করার চেষ্টা করবো। ৭ থেকে ১০ দিনের ভেতরে সেতুর কাজ করা হবে।

/এমআর/