শিরোনাম

প্রতিটি নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিটি নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার প্রতিটি নিম্ন আয়ের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে মিরপুরে ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মিরপুরের ওলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তির উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যা বলে, তা করে। আমি বলেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমি নিজে আপনাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো। আজ আমি আমার সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছি।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ গড়ার জন্য শুধু সরকারের নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্যদের এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব রাখা হয়নি।’

জানা গেছে, মিরপুরের বাগানবাড়ি বস্তির ১১৭টি পরিবার এবং ওলিমিয়ার টেক বস্তির ৩৯২টি পরিবারসহ মোট ৫০৯টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জালাল উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে রিনা আক্তার, শারমিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, নাসরিন আখতার, শাকিলা বেগম, মাহফুজা বেগম, মোসাম্মদ পারভীন ও নিপা আখতারসহ আরও অনেকের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

কার্ড পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন উপকারভোগী রিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচজনের পরিবার। আমরা কল্পনাও করিনি এত দ্রুত এই কার্ড হাতে পাবো। এই সহায়তার টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনা চালাবো। কিছু সঞ্চয় করে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও আছে আছে তার। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান রিনা আক্তার।

আরেক উপকারভোগী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আমরা এই সহায়তা পেয়েছি, এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বড় কোনো আশা নেই, ছোট ছোট আশা আছে। আমরা আশা করি সরকার সবসময় আমাদের পাশে থাকবে।’

/জেএইচ/