শিরোনাম

জবি শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

জবি প্রতিনিধি
জবি শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
বা থেকে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই শিক্ষক হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বর ও প্রশাসনিক ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনসিসির প্লাটুন কমান্ডার আবু হানিফকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন।

ভুক্তভোগী অধ্যাপক আবু হানিফ জানান, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর তাকে ডেকে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন তল্লাশির চেষ্টা করা হয় এবং আপত্তি জানালে ধাক্কা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকেও আলাদা করে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলামও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, হানিফকে ঘিরে ধরার সময় বাধা দিলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে উপাচার্যের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়।

এদিকে একই দিনে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে ঘটনার পর তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি।

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, শান্ত চত্বরে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনা ঘটে এবং পরে ভিসি ভবনের সামনে এক কর্মচারীকে মারধর করা হয়। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা জাফর আহমেদ। তিনি বলেন, মারধরের ঘটনা ঘটেনি, কেবল পূর্বের একটি ঘটনার জেরে সামান্য কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। অধ্যাপক হানিফের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির ফোনে রাজনৈতিক পোস্ট পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের দিনে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/এসএ/