‘আমি মারা গেল, আপনারাও যাবেন’, সাংবাদিকদের কেন বলেছিলেন ট্রাম্প

‘আমি মারা গেল, আপনারাও যাবেন’, সাংবাদিকদের কেন বলেছিলেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

চলতি বছরের জুলাই মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময় হুট করেই চরম অনিশ্চয়তা আর রহস্যের ডালপালা মেলতে শুরু করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক গ্রাম স্ল্যাটারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সফরসঙ্গীদের একজন ছিলেন। তিনি জানান, আঙ্কারা ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক অদ্ভুত পোস্ট দেন। তাতে ট্রাম্প জানান, যে বিমানে চড়ে তিনি তুরস্কে এসেছিলেন, সেটিতে করে তিনি দেশে ফিরবেন না। কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে কর্মরত মার্কিন সামরিক সদস্যরা যাতে বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন, তাই তিনি সেটি আগেই সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলেননি।

প্রেসিডেন্টের এ সূচি পরিবর্তন ও অসংলগ্ন ব্যাখ্যা সাংবাদিক মহলে চরম বিভ্রান্তি ও অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। সংবাদকর্মীদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি ইরানের কোনো গোপন হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট হুমকি পেয়েই প্রেসিডেন্টের এ আকস্মিক পরিকল্পনা পরিবর্তন? সাংবাদিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে হয়তো জরুরি কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অভাব এখনো রয়েছে। হোয়াইট হাউসের রহস্যময় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিস্থিতির সুরক্ষাকবচ তৈরি করা হচ্ছিল।
ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প নিজেও যেন অজান্তেই এ হুমকির জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একের পর এক বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তাকে হত্যায় ইরানের দীর্ঘদিনের চেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এমনকি আঙ্কারা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিবর্তন নিয়ে করা প্রশ্নগুলো তিনি এড়িয়ে গেলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের পর রহস্য আরও গাঢ় হয়। বিমানের ভেতরে থাকা অবস্থায় হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সাংবাদিকদের সব জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলেন। সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশে নেওয়া এ আদেশটি প্রেসিডেন্টের বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক। নিরাপত্তার কারণে বিমানে ওয়াই-ফাই বন্ধ এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা সীমিত থাকায় সাংবাদিকেরা ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো গোপন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আড়াল করার চেষ্টা।

আসল সত্য প্রকাশ পায় ঘটনাটি ঘটার কয়েক সপ্তাহ পর। জানা যায়, নিরাপত্তাজনিত গভীর উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর সাংবাদিকদের বিমানে জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশটি ছিল মূলত সেই উদ্ধার মিশনটি পুরোপুরি গোপন রাখার কৌশল।
ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে নামার পর শুরু হয় এই নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্য। বিমান থেকে নেমে সাংবাদিকেরা দেখলেন, ট্রাম্প যেন একই বিমানের অন্য একটি অংশ থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েক শত গজ দূরে রানওয়েতে আগেই পার্ক করা কাতারের উপহারের নতুন বিমানটির দিকে। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট ও পাশে ধীরে ধীরে চলতে থাকা কালো এসইউভি দিয়ে ঘেরা পুরো দৃশ্যটি ছিল নিখুঁত এক প্রতারণা বা ডিকয়। পুরোটাই যে সাংবাদিকদের চোখে ধোঁকা দেওয়ার নাটক ছিল, তা বোঝার উপায় ছিল না।
যুক্তরাজ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প অবশেষে সাংবাদিকদের কেবিনে আসেন। আঙ্কারা থেকে ইংল্যান্ডের পথে তিনি বিমানে ছিলেন না বা নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগের কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও, জানালার পর্দা নামানোর কারণ জানতে চাইলে ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিষয়টি স্বীকার করেন। নিজের চেনা রসিক মেজাজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি যদি মারা যাই, তাহলে আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো কোনো একদিন আপনারাও পেশা বদলাতে চাইবেন। এর প্রায় এক মাস পর জানা যায়, ইংল্যান্ডগামী সেই যাত্রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্প আদৌ ছিলেন না এবং এই পুরো গোপন চক্রান্তে দুটি নয়, বরং মোট তিনটি আলাদা উড়োজাহাজ জড়িত ছিল।
সূত্র: রয়টার্স

চলতি বছরের জুলাই মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময় হুট করেই চরম অনিশ্চয়তা আর রহস্যের ডালপালা মেলতে শুরু করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক গ্রাম স্ল্যাটারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সফরসঙ্গীদের একজন ছিলেন। তিনি জানান, আঙ্কারা ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক অদ্ভুত পোস্ট দেন। তাতে ট্রাম্প জানান, যে বিমানে চড়ে তিনি তুরস্কে এসেছিলেন, সেটিতে করে তিনি দেশে ফিরবেন না। কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে কর্মরত মার্কিন সামরিক সদস্যরা যাতে বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন, তাই তিনি সেটি আগেই সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলেননি।

প্রেসিডেন্টের এ সূচি পরিবর্তন ও অসংলগ্ন ব্যাখ্যা সাংবাদিক মহলে চরম বিভ্রান্তি ও অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। সংবাদকর্মীদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি ইরানের কোনো গোপন হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট হুমকি পেয়েই প্রেসিডেন্টের এ আকস্মিক পরিকল্পনা পরিবর্তন? সাংবাদিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে হয়তো জরুরি কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অভাব এখনো রয়েছে। হোয়াইট হাউসের রহস্যময় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিস্থিতির সুরক্ষাকবচ তৈরি করা হচ্ছিল।
ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প নিজেও যেন অজান্তেই এ হুমকির জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একের পর এক বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তাকে হত্যায় ইরানের দীর্ঘদিনের চেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এমনকি আঙ্কারা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিবর্তন নিয়ে করা প্রশ্নগুলো তিনি এড়িয়ে গেলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের পর রহস্য আরও গাঢ় হয়। বিমানের ভেতরে থাকা অবস্থায় হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সাংবাদিকদের সব জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলেন। সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশে নেওয়া এ আদেশটি প্রেসিডেন্টের বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক। নিরাপত্তার কারণে বিমানে ওয়াই-ফাই বন্ধ এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা সীমিত থাকায় সাংবাদিকেরা ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো গোপন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আড়াল করার চেষ্টা।

আসল সত্য প্রকাশ পায় ঘটনাটি ঘটার কয়েক সপ্তাহ পর। জানা যায়, নিরাপত্তাজনিত গভীর উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর সাংবাদিকদের বিমানে জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশটি ছিল মূলত সেই উদ্ধার মিশনটি পুরোপুরি গোপন রাখার কৌশল।
ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে নামার পর শুরু হয় এই নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্য। বিমান থেকে নেমে সাংবাদিকেরা দেখলেন, ট্রাম্প যেন একই বিমানের অন্য একটি অংশ থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েক শত গজ দূরে রানওয়েতে আগেই পার্ক করা কাতারের উপহারের নতুন বিমানটির দিকে। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট ও পাশে ধীরে ধীরে চলতে থাকা কালো এসইউভি দিয়ে ঘেরা পুরো দৃশ্যটি ছিল নিখুঁত এক প্রতারণা বা ডিকয়। পুরোটাই যে সাংবাদিকদের চোখে ধোঁকা দেওয়ার নাটক ছিল, তা বোঝার উপায় ছিল না।
যুক্তরাজ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প অবশেষে সাংবাদিকদের কেবিনে আসেন। আঙ্কারা থেকে ইংল্যান্ডের পথে তিনি বিমানে ছিলেন না বা নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগের কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও, জানালার পর্দা নামানোর কারণ জানতে চাইলে ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিষয়টি স্বীকার করেন। নিজের চেনা রসিক মেজাজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি যদি মারা যাই, তাহলে আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো কোনো একদিন আপনারাও পেশা বদলাতে চাইবেন। এর প্রায় এক মাস পর জানা যায়, ইংল্যান্ডগামী সেই যাত্রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্প আদৌ ছিলেন না এবং এই পুরো গোপন চক্রান্তে দুটি নয়, বরং মোট তিনটি আলাদা উড়োজাহাজ জড়িত ছিল।
সূত্র: রয়টার্স

‘আমি মারা গেল, আপনারাও যাবেন’, সাংবাদিকদের কেন বলেছিলেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

চলতি বছরের জুলাই মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময় হুট করেই চরম অনিশ্চয়তা আর রহস্যের ডালপালা মেলতে শুরু করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক গ্রাম স্ল্যাটারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সফরসঙ্গীদের একজন ছিলেন। তিনি জানান, আঙ্কারা ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক অদ্ভুত পোস্ট দেন। তাতে ট্রাম্প জানান, যে বিমানে চড়ে তিনি তুরস্কে এসেছিলেন, সেটিতে করে তিনি দেশে ফিরবেন না। কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে কর্মরত মার্কিন সামরিক সদস্যরা যাতে বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন, তাই তিনি সেটি আগেই সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলেননি।

প্রেসিডেন্টের এ সূচি পরিবর্তন ও অসংলগ্ন ব্যাখ্যা সাংবাদিক মহলে চরম বিভ্রান্তি ও অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। সংবাদকর্মীদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি ইরানের কোনো গোপন হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট হুমকি পেয়েই প্রেসিডেন্টের এ আকস্মিক পরিকল্পনা পরিবর্তন? সাংবাদিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে হয়তো জরুরি কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অভাব এখনো রয়েছে। হোয়াইট হাউসের রহস্যময় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিস্থিতির সুরক্ষাকবচ তৈরি করা হচ্ছিল।
ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প নিজেও যেন অজান্তেই এ হুমকির জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একের পর এক বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তাকে হত্যায় ইরানের দীর্ঘদিনের চেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এমনকি আঙ্কারা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিবর্তন নিয়ে করা প্রশ্নগুলো তিনি এড়িয়ে গেলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের পর রহস্য আরও গাঢ় হয়। বিমানের ভেতরে থাকা অবস্থায় হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সাংবাদিকদের সব জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলেন। সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশে নেওয়া এ আদেশটি প্রেসিডেন্টের বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক। নিরাপত্তার কারণে বিমানে ওয়াই-ফাই বন্ধ এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা সীমিত থাকায় সাংবাদিকেরা ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো গোপন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আড়াল করার চেষ্টা।

আসল সত্য প্রকাশ পায় ঘটনাটি ঘটার কয়েক সপ্তাহ পর। জানা যায়, নিরাপত্তাজনিত গভীর উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর সাংবাদিকদের বিমানে জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশটি ছিল মূলত সেই উদ্ধার মিশনটি পুরোপুরি গোপন রাখার কৌশল।
ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে নামার পর শুরু হয় এই নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্য। বিমান থেকে নেমে সাংবাদিকেরা দেখলেন, ট্রাম্প যেন একই বিমানের অন্য একটি অংশ থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েক শত গজ দূরে রানওয়েতে আগেই পার্ক করা কাতারের উপহারের নতুন বিমানটির দিকে। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট ও পাশে ধীরে ধীরে চলতে থাকা কালো এসইউভি দিয়ে ঘেরা পুরো দৃশ্যটি ছিল নিখুঁত এক প্রতারণা বা ডিকয়। পুরোটাই যে সাংবাদিকদের চোখে ধোঁকা দেওয়ার নাটক ছিল, তা বোঝার উপায় ছিল না।
যুক্তরাজ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প অবশেষে সাংবাদিকদের কেবিনে আসেন। আঙ্কারা থেকে ইংল্যান্ডের পথে তিনি বিমানে ছিলেন না বা নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগের কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও, জানালার পর্দা নামানোর কারণ জানতে চাইলে ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিষয়টি স্বীকার করেন। নিজের চেনা রসিক মেজাজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি যদি মারা যাই, তাহলে আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো কোনো একদিন আপনারাও পেশা বদলাতে চাইবেন। এর প্রায় এক মাস পর জানা যায়, ইংল্যান্ডগামী সেই যাত্রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্প আদৌ ছিলেন না এবং এই পুরো গোপন চক্রান্তে দুটি নয়, বরং মোট তিনটি আলাদা উড়োজাহাজ জড়িত ছিল।
সূত্র: রয়টার্স









