শিরোনাম

শীর্ষ তিন পর্ষদে ২৮ পদ শূন্য রেখেই বসছে জাবির সিনেট অধিবেশন

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
শীর্ষ তিন পর্ষদে ২৮ পদ শূন্য রেখেই বসছে জাবির সিনেট অধিবেশন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন)। তবে দীর্ঘদিন ধরে সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটিতে মোট ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই সভায় প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিধিবদ্ধ পর্ষদগুলো পূর্ণাঙ্গ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সদস্যের পদত্যাগ, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া, অপসারণ কিংবা প্রশাসনিক কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার ফলে এসব শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ পদে এখনো নির্বাচন বা নতুন মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যতা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে। ৯৪ সদস্যের এই পর্ষদে বর্তমানে ১৪টি পদই খালি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্পিকার মনোনীত সংসদ সদস্য, কলেজ অধ্যক্ষ ও নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিদের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪টি পদ শূন্য থাকলেও নিষ্ক্রিয় ও অনুপস্থিত সদস্যদের কারণে কার্যকর সদস্যসংখ্যা আরও কম।

সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ৪২তম সিনেট অধিবেশনেও কোরাম সংকট দেখা দিয়েছিল। প্রয়োজনীয় সদস্য উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিবেশন শুরু হয়।

এদিকে, জাকসু মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে দুজনের (ভিপি ও জিএস) ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তাদের সদস্যপদ নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী, ‘কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ছাত্রত্ব হারালে তিনি সিনেট সদস্যপদও হারান।’ তবে এ বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, আইনি পরামর্শ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্ষদ সিন্ডিকেটেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। ২০ সদস্যের এই পর্ষদে বর্তমানে ১১টি পদই খালি। শিক্ষক প্রতিনিধি, সিনেট মনোনীত সদস্য, কলেজ অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট নাগরিকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো পূরণ হয়নি। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক নীতিনির্ধারণী অর্থ কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে তিনটি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিধিবদ্ধ পর্ষদগুলো অপূর্ণ থাকায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত নির্বাচন ও মনোনয়নের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি।

এসব বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হবে এবং শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে নির্বাচন বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

/এফআর/