জাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

জাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা
মো. রহমাতুল্লাহ

কোরবানির ঈদ মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা, পরিবার-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর শৈশবের পরিচিত আবহে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি। বছরের ব্যস্ততা, ক্লাস-পরীক্ষা আর ক্যাম্পাস জীবনের চাপ পেরিয়ে ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ পরিবারকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কেউবা দীর্ঘদিন পর গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার অপেক্ষায়। আবার অনেকের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে কোরবানির সামাজিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফেরার মিশ্র অনুভূতি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদকে ঘিরে জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও অনুভূতিতে ফুটে উঠছে বৈচিত্র্য।
আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ঈদুল আজহা আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করারও একটি উপলক্ষ। সারা বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানো হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য সবসময় অপেক্ষা করি। ঈদের সকালে বাবার সঙ্গে কোরবানির কাজে অংশ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাওয়া কিংবা ছোটোবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এসব জিনিসই আমাকে অন্যরকম শান্তি দেয়। ক্যাম্পাসের জীবন যতই ভালো লাগুক, ঈদে গ্রামের বাড়ির অনুভূতি একেবারেই আলাদা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, ঈদকে ঘিরে আমার সবচেয়ে বড় অনুভূতি হচ্ছে ‘ফিরে যাওয়া’। ব্যস্ত শহুরে জীবনের বাইরে গ্রামের সেই পরিচিত পরিবেশ, পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া এসবের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় নিজের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি বলে মনে হয়। কিন্তু ঈদ এলে আবার সবকিছু নতুন করে অনুভব করা যায়। বিশেষ করে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করার বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগে।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত হোসেন ইমা বলেন, ঈদুল আজহা আমাকে সবসময় আবেগি করে তোলে। কারণ এই উৎসবের সঙ্গে পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং স্মৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে ঈদের সময় সবাই একসঙ্গে রান্না করি, অতিথিদের আপ্যায়ন করি। ছোট ছোট এসব মুহূর্তই পরে স্মৃতি হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে বুঝেছি, পরিবারকে সময় দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জাবির শিক্ষার্থীরা যারা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়েছেন, তারা যাতে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং যারা নানা বাস্তবতার কারণে ক্যাম্পাসেই ঈদ করবেন, তারাও যাতে আনন্দের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী এম হাসিবুল হাসান বলেন, আসলে একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার কাছে কোরবানির ঈদটা শুধু উৎসব না, বরং অনেকটা মানুষকে নতুন করে অনুভব করার একটা সময়। চারপাশের বাস্তবতা দেখলে সত্যিই খারাপ লাগে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জীবন এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। হয়ত আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের কাছে ঈদের আনন্দ মানে শুধুই অন্যদের আনন্দ দেখা। তাই আমার মনে হয়, কোরবানির আসল সৌন্দর্যটা শুধু পশু কোরবানির মধ্যে না; বরং নিজের সামর্থ্য, সহানুভূতি আর ভালোবাসা অন্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এর সবচেয়ে বড় অর্থ লুকিয়ে আছে। ঈদের আনন্দ যদি শুধু আমাদের ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই আনন্দ পূর্ণতা পায় না। বরং সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে যদি ঈদের দিনে একটু হাসি ফোটে সেখানেই ঈদের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটা বেঁচে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মানুষ হিসাবে ভেতরে ভেতরে কিছু না কিছু লোভ, অহংকার, রাগ কিংবা স্বার্থপরতা বহন করি। কোরবানির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—নিজের ভেতরের সেই খারাপ দিকগুলোকে ত্যাগ করার চেষ্টা করা। কারণ একজন মানুষ যখন নিজেকে বদলাতে শুরু করে, তখন তার আশেপাশের পরিবেশটাও ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। আমি শুধু চাই, এবারের ঈদটা আমাদের একটু বেশি মানবিক করুক। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসাবে অনুভব করতে শিখি, একে অপরের কষ্ট বুঝতে শিখি। এমন একটি সমাজ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ অন্তত নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে আর শান্তিতে বাঁচতে পারে।
ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় যেমন আছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস, তেমনি আছে পরিবারকে ঘিরে আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের উপলব্ধিও। ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনের বাইরে এই উৎসব যেন তাদের আবারও শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো, পুরোনো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে অনুভব করা এবং কোরবানির শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা হয়ে উঠেছে আরও অর্থবহ ও মানবিক।

কোরবানির ঈদ মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা, পরিবার-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর শৈশবের পরিচিত আবহে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি। বছরের ব্যস্ততা, ক্লাস-পরীক্ষা আর ক্যাম্পাস জীবনের চাপ পেরিয়ে ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ পরিবারকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কেউবা দীর্ঘদিন পর গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার অপেক্ষায়। আবার অনেকের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে কোরবানির সামাজিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফেরার মিশ্র অনুভূতি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদকে ঘিরে জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও অনুভূতিতে ফুটে উঠছে বৈচিত্র্য।
আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ঈদুল আজহা আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করারও একটি উপলক্ষ। সারা বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানো হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য সবসময় অপেক্ষা করি। ঈদের সকালে বাবার সঙ্গে কোরবানির কাজে অংশ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাওয়া কিংবা ছোটোবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এসব জিনিসই আমাকে অন্যরকম শান্তি দেয়। ক্যাম্পাসের জীবন যতই ভালো লাগুক, ঈদে গ্রামের বাড়ির অনুভূতি একেবারেই আলাদা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, ঈদকে ঘিরে আমার সবচেয়ে বড় অনুভূতি হচ্ছে ‘ফিরে যাওয়া’। ব্যস্ত শহুরে জীবনের বাইরে গ্রামের সেই পরিচিত পরিবেশ, পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া এসবের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় নিজের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি বলে মনে হয়। কিন্তু ঈদ এলে আবার সবকিছু নতুন করে অনুভব করা যায়। বিশেষ করে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করার বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগে।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত হোসেন ইমা বলেন, ঈদুল আজহা আমাকে সবসময় আবেগি করে তোলে। কারণ এই উৎসবের সঙ্গে পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং স্মৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে ঈদের সময় সবাই একসঙ্গে রান্না করি, অতিথিদের আপ্যায়ন করি। ছোট ছোট এসব মুহূর্তই পরে স্মৃতি হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে বুঝেছি, পরিবারকে সময় দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জাবির শিক্ষার্থীরা যারা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়েছেন, তারা যাতে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং যারা নানা বাস্তবতার কারণে ক্যাম্পাসেই ঈদ করবেন, তারাও যাতে আনন্দের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী এম হাসিবুল হাসান বলেন, আসলে একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার কাছে কোরবানির ঈদটা শুধু উৎসব না, বরং অনেকটা মানুষকে নতুন করে অনুভব করার একটা সময়। চারপাশের বাস্তবতা দেখলে সত্যিই খারাপ লাগে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জীবন এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। হয়ত আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের কাছে ঈদের আনন্দ মানে শুধুই অন্যদের আনন্দ দেখা। তাই আমার মনে হয়, কোরবানির আসল সৌন্দর্যটা শুধু পশু কোরবানির মধ্যে না; বরং নিজের সামর্থ্য, সহানুভূতি আর ভালোবাসা অন্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এর সবচেয়ে বড় অর্থ লুকিয়ে আছে। ঈদের আনন্দ যদি শুধু আমাদের ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই আনন্দ পূর্ণতা পায় না। বরং সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে যদি ঈদের দিনে একটু হাসি ফোটে সেখানেই ঈদের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটা বেঁচে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মানুষ হিসাবে ভেতরে ভেতরে কিছু না কিছু লোভ, অহংকার, রাগ কিংবা স্বার্থপরতা বহন করি। কোরবানির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—নিজের ভেতরের সেই খারাপ দিকগুলোকে ত্যাগ করার চেষ্টা করা। কারণ একজন মানুষ যখন নিজেকে বদলাতে শুরু করে, তখন তার আশেপাশের পরিবেশটাও ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। আমি শুধু চাই, এবারের ঈদটা আমাদের একটু বেশি মানবিক করুক। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসাবে অনুভব করতে শিখি, একে অপরের কষ্ট বুঝতে শিখি। এমন একটি সমাজ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ অন্তত নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে আর শান্তিতে বাঁচতে পারে।
ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় যেমন আছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস, তেমনি আছে পরিবারকে ঘিরে আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের উপলব্ধিও। ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনের বাইরে এই উৎসব যেন তাদের আবারও শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো, পুরোনো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে অনুভব করা এবং কোরবানির শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা হয়ে উঠেছে আরও অর্থবহ ও মানবিক।

জাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা
মো. রহমাতুল্লাহ

কোরবানির ঈদ মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা, পরিবার-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর শৈশবের পরিচিত আবহে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি। বছরের ব্যস্ততা, ক্লাস-পরীক্ষা আর ক্যাম্পাস জীবনের চাপ পেরিয়ে ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ পরিবারকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কেউবা দীর্ঘদিন পর গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার অপেক্ষায়। আবার অনেকের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে কোরবানির সামাজিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফেরার মিশ্র অনুভূতি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদকে ঘিরে জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও অনুভূতিতে ফুটে উঠছে বৈচিত্র্য।
আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ঈদুল আজহা আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করারও একটি উপলক্ষ। সারা বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানো হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য সবসময় অপেক্ষা করি। ঈদের সকালে বাবার সঙ্গে কোরবানির কাজে অংশ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাওয়া কিংবা ছোটোবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এসব জিনিসই আমাকে অন্যরকম শান্তি দেয়। ক্যাম্পাসের জীবন যতই ভালো লাগুক, ঈদে গ্রামের বাড়ির অনুভূতি একেবারেই আলাদা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, ঈদকে ঘিরে আমার সবচেয়ে বড় অনুভূতি হচ্ছে ‘ফিরে যাওয়া’। ব্যস্ত শহুরে জীবনের বাইরে গ্রামের সেই পরিচিত পরিবেশ, পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া এসবের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় নিজের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি বলে মনে হয়। কিন্তু ঈদ এলে আবার সবকিছু নতুন করে অনুভব করা যায়। বিশেষ করে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করার বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগে।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত হোসেন ইমা বলেন, ঈদুল আজহা আমাকে সবসময় আবেগি করে তোলে। কারণ এই উৎসবের সঙ্গে পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং স্মৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে ঈদের সময় সবাই একসঙ্গে রান্না করি, অতিথিদের আপ্যায়ন করি। ছোট ছোট এসব মুহূর্তই পরে স্মৃতি হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে বুঝেছি, পরিবারকে সময় দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জাবির শিক্ষার্থীরা যারা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়েছেন, তারা যাতে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং যারা নানা বাস্তবতার কারণে ক্যাম্পাসেই ঈদ করবেন, তারাও যাতে আনন্দের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী এম হাসিবুল হাসান বলেন, আসলে একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার কাছে কোরবানির ঈদটা শুধু উৎসব না, বরং অনেকটা মানুষকে নতুন করে অনুভব করার একটা সময়। চারপাশের বাস্তবতা দেখলে সত্যিই খারাপ লাগে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জীবন এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। হয়ত আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের কাছে ঈদের আনন্দ মানে শুধুই অন্যদের আনন্দ দেখা। তাই আমার মনে হয়, কোরবানির আসল সৌন্দর্যটা শুধু পশু কোরবানির মধ্যে না; বরং নিজের সামর্থ্য, সহানুভূতি আর ভালোবাসা অন্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এর সবচেয়ে বড় অর্থ লুকিয়ে আছে। ঈদের আনন্দ যদি শুধু আমাদের ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই আনন্দ পূর্ণতা পায় না। বরং সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে যদি ঈদের দিনে একটু হাসি ফোটে সেখানেই ঈদের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটা বেঁচে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মানুষ হিসাবে ভেতরে ভেতরে কিছু না কিছু লোভ, অহংকার, রাগ কিংবা স্বার্থপরতা বহন করি। কোরবানির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—নিজের ভেতরের সেই খারাপ দিকগুলোকে ত্যাগ করার চেষ্টা করা। কারণ একজন মানুষ যখন নিজেকে বদলাতে শুরু করে, তখন তার আশেপাশের পরিবেশটাও ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। আমি শুধু চাই, এবারের ঈদটা আমাদের একটু বেশি মানবিক করুক। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসাবে অনুভব করতে শিখি, একে অপরের কষ্ট বুঝতে শিখি। এমন একটি সমাজ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ অন্তত নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে আর শান্তিতে বাঁচতে পারে।
ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় যেমন আছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস, তেমনি আছে পরিবারকে ঘিরে আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের উপলব্ধিও। ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনের বাইরে এই উৎসব যেন তাদের আবারও শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো, পুরোনো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে অনুভব করা এবং কোরবানির শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা হয়ে উঠেছে আরও অর্থবহ ও মানবিক।




