শিরোনাম

জবিতে হামলার বিচারসহ ৫ দাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

জবি প্রতিনিধি
জবি প্রতিনিধি
জবিতে হামলার বিচারসহ ৫ দাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ
বিক্ষোভ মিছিলে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশক্তি, জকসু, শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার, অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এ সময় জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও টেন্ডারবাজি-দুর্নীতি বন্ধের দাবিও জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়। বরং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও যুবদল এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন। তারা এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস দখল করে সেগুলোকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতে ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে নিতে দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল যৌথভাবে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের এবং শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ছাত্রদলকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।’

জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদলকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপরও ছাত্রদল হামলা করেছে।’

ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘গতকালের হামলার জন্য ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ৬০-এর বেশি শিক্ষার্থী হামলায় আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সদস্যদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বক্তব্য শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো–

১. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বাস্তবায়ন এবং টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা;

২. ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা;

৩. হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া;

৪. আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং

৫. ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি, ছাত্রশিবিরের জবি শাখার সভাপতি, জকসুর ভিপি, সাংবাদিকসহ প্রায় ৭০ জন আহত হন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

/এফআর/