শিরোনাম

৬ মাসের চুক্তি পেরিয়ে প্রায় ২ বছর, অচল তিতুমীরের একমাত্র ক্যান্টিন

তিতুমীর কলেজ সংবাদদাতা
তিতুমীর কলেজ সংবাদদাতা
৬ মাসের চুক্তি পেরিয়ে প্রায় ২ বছর, অচল তিতুমীরের একমাত্র ক্যান্টিন
তিতুমীর কলেজের ‘বাঁশের কেল্লা’ ক্যান্টিন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ছয় মাস পরপর চুক্তি নবায়নের নিয়ম থাকলেও সরকারি তিতুমীর কলেজের ‘বাঁশের কেল্লা’ ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছরেও হয়নি চুক্তি নবায়ন। দীর্ঘ সময় ধরে নবায়ন ছাড়াই চলা ক্যান্টিনটির অধিকাংশ স্টল এখন বন্ধ। বর্তমানে মাত্র একটি স্টলে সীমিত রয়েছে ক্যান্টিনের কার্যক্রম। এতে খাবার ও আড্ডার জায়গা হিসেবে ক্যান্টিনের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ স্টল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের খাবার ও আড্ডার জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ক্যান্টিনটি আগে চালু থাকলেও খাবারের দাম ছিল তুলনামূলক বেশি এবং মান নিয়েও ছিল অসন্তোষ। তারা দ্রুত ক্যান্টিন চালুর পাশাপাশি খাবারের দাম সাশ্রয়ী ও মানসম্মত করার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের কেল্লা ক্যান্টিনের একটি স্টল ছাড়া বাকি সবগুলোই বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ওই স্টলে প্রতিদিন খিচুড়ি বিক্রি করা হচ্ছে। ক্যান্টিনের ভেতরের অধিকাংশ জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াকুব নবী বলেন, ‘আমাদের কলেজের একমাত্র ক্যান্টিন বাঁশের কেল্লা আজ নীরব। ক্যান্টিনের স্টলগুলো বন্ধ থাকায় এখন না আছে পেটের শান্তি, না আছে মনের শান্তি। আগে খোলা থাকলেও দাম ছিল হাতের নাগালের বাইরে, খাবারের মানও ভালো ছিল না। আমরা চাই ক্যান্টিন দ্রুত চালু হোক। তবে এবার যেন দামটা সাশ্রয়ী আর মানটা ভালো হয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমাদের আড্ডার জায়গাটা ফিরিয়ে দিন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছুদিন আগেও পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য ও অব্যবস্থাপনার আরেক নাম ছিল তিতুমীর কলেজের বাঁশের কেল্লা ক্যান্টিন। নামে মাত্র কয়েকটি পণ্য পাওয়া গেলেও দাম বাইরের টং দোকানের চেয়েও বেশি ছিল। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার দাবি, স্বচ্ছভাবে ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং পণ্যের দাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।’

ক্যান্টিন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর ক্যান্টিনের স্টলগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০ নভেম্বর থেকে ক্যান্টিনের কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যান্টিন পরিচালনার নীতিমালা অনুযায়ী, স্টল বরাদ্দের চুক্তি অন্তত প্রতি ছয় মাস পরপর নবায়ন করার কথা। তবে দুই বছর পার হলেও নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।

চালু থাকা স্টলের কর্মরত শাহরিয়ার রাব্বি জনি বলেন, ‘এই স্টলটি মূলত শিমুল ভাইয়ের। আমি একমাত্র ক্যান্টিনটি চালু রাখছি। এখানে শুরু থেকে অনেক দোকান এসেছে, আবার চলে গেছে। কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিন সংস্কারের নামে এটি বন্ধ রাখতে চাচ্ছে। এখন যদি সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়, তাহলে আমি এখনই ছেড়ে দিয়ে চলে যাব।’

বন্ধ থাকা একটি স্টলের বরাদ্দপ্রাপ্ত রেজা রাব্বি জায়েদের সহকর্মী ফয়সাল সরকার রাব্বি বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্যার আমাদের স্টল ছেড়ে দিতে বলেন। ক্যান্টিন সংস্কার করে পুনরায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। নির্দেশ পাওয়ার পরই আমরা ক্যান্টিন ছেড়ে দিই।’

ক্যান্টিন কমিটির সদস্য ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। অনেকেই ক্যান্টিন ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু একজন এখনো ছাড়েননি। আশা করি, লিখিতভাবে নোটিশ দিলে তিনিও ছেড়ে দেবেন। এরপর ক্যান্টিন সংস্কারের কাজ করা হবে। নতুন করে যারা স্টল নিতে আগ্রহী, তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে পুনরায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলেয়া আক্তার বলেন, ‘যারা এখনো আছেন, তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা ১ তারিখের মধ্যে চলে যাবেন। এ বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা খুব দ্রুত ক্যান্টিন সংস্কারের কাজ শুরু করবে।’

/এমআর/