শিরোনাম

শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে জাকসুর বাস সেবা

জাবি প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে জাকসুর বাস সেবা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অপেক্ষারত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বাসসেবার উদ্যোগ নিয়েছে জাকসু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের পূজার ছুটি এবং চলতি বছরের ঈদুল ফিতরেও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে কাজ করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থীর সংসদ (জাকসু)। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় সমিতির সহযোগিতায় বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা ও নোয়াখালীগামী বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাড়িফেরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও এজিএস ফেরদৌস আল হাসান ফাহিম।
বাড়িফেরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও এজিএস ফেরদৌস আল হাসান ফাহিম। ছবি: সংগৃহীত

জাকসুর নেতারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে অতিরিক্ত ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খানম নিশি বলেন, জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হওয়ার পর থেকে একটা স্বপ্ন ছিলো, হল থেকে বের হয়েই সরাসরি কুমিল্লার বাসে উঠবো। এতদিন সেই সুযোগ ছিল না। লোকাল বাসে করে অর্ধেক রাস্তা এসে তারপর আবার কুমিল্লার বাস ধরতে হতো। ঈদ যাত্রা মানেই ছিল বাড়তি ভোগান্তি আর ক্লান্তি। এইবার সেই কষ্ট অনেকটাই দূর হয়েছে। জাকসু এবং কুমিল্লা জেলা সমিতির উদ্যোগে হল থেকেই সরাসরি কুমিল্লার বাসে উঠতে পেরেছি। প্রায় ৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা চলে এসেছি, তাও কোনো ঝামেলা ছাড়া। ডাবল ডেকার বাস হওয়ায় লম্বা জার্নিতে একটু কষ্ট অবশ্যই হয়েছে, কিন্তু তারপরও সবমিলিয়ে এবারের ঈদ যাত্রাটা অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর, স্বস্তির আর মনে রাখার মতো ছিল।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলেন, দূরত্ব খুব বেশী না হলেও যাতায়াত অসুবিধার জন্য অধিক সময় ব্যয় হয়। আর ঈদের সময় সেই ভোগান্তি যেন আরো বেড়ে যায়। এছাড়াও, থাকে নিরাপত্তাহীনতার ভয়। একাধিক বাস পরিবর্তন করা, লোকাল বাস অর্থাৎ সবমিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তবে, এ বছর ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদ যাত্রায় জাকসু’র মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বাস দেওয়া হয়। যা একদিকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমিয়েছে, অন্যদিকে দিয়েছে নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক যাত্রা।

নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ঘরে ফেরার এই স্বস্তিদায়ক অনুভূতির নেপথ্যে থাকা জাকসুর প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বাসে উঠছেন শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বাসে উঠছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

জাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ক্যাম্পাস থেকে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত বাস সার্ভিস এর ধারণা চালু করে। গত বছরের পূজার ছুটি, এবারের ঈদুল ফিতরসহ ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের যাত্রাকে সহজ করতে কাজ করছে জাকসু। তারই প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় জাকসু ক্যাম্পাস থেকে বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা ও নোয়াখালী রুটে বাস প্রেরণ করে।

তিনি আরও বলেন, জাকসু শিক্ষার্থীদের পরিবহনের আমূল পরিবর্তন করতে চায়। তার প্রেক্ষিতে জাকসু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬ বছরের সবচেয়ে ভ্রমণ উপযোগী পরিবহন সেবা বাস্তবায়ন করে চলছে। বাংলাদেশে একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই সপ্তাহে সাত দিন ও দুই ঈদের দিন ছাড়া বছরে ৩৬৩ দিন শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা চলমান থাকে। শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরিবহন সেবা পেয়ে আনন্দিত, এটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা যেন সুস্থ ও নিরাপদভাবে আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেন, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন জাকসুর নেতারা।

/এমআর/