জবিতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ অভিযুক্ত ৮ শিক্ষককে পদোন্নতির উদ্যোগ

জবিতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ অভিযুক্ত ৮ শিক্ষককে পদোন্নতির উদ্যোগ
জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতির লক্ষ্যে বোর্ড আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১০ মে )থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের পদোন্নতি বোর্ডের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব বোর্ডে ১২টি বিভাগের মোট ১৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮ জন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র গণহত্যার সমর্থক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে জবিতে আয়োজিত নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন ওই শিক্ষকরা। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনবিরোধী বিভিন্ন পোস্টও দেন তারা।
পদোন্নতির তালিকায় থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা হলেন- প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. উম্মে হাবিবা খাতুন, ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুক্তা রাণী সরকার ও সোনিয়া মুনমুন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর ড. মো. মনির হোসেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা হাসান, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন।
তাদের মধ্যে তিনজন সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে এবং ৫ জন সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষককে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ এ পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সাজিয়া আফরিন অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় তারা প্রকাশ্যে আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পান। অন্যদিকে, দর্শন বিভাগের শিক্ষক সাজিয়া আফরিন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রী হলের হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামীপন্থী নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক নেতা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে উপাচার্যের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পরে উপাচার্য পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দেন।
অভিযোগ উঠেছে, রসায়ন বিভাগের ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং সমাজকর্ম বিভাগের ড. মো. আবুল হোসেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মো. কামাল হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় পেশাজীবী সমন্বয় উপকমিটিতে জবির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিএনপিপন্থী শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, উপাচার্য রইছ উদ্দিন স্যার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। অথচ এখন তার কাছে সেই নীল দলের নেতারাই বিভিন্নভাবে তদবির করে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে তারাই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করবে কি না, সেটি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা শিক্ষক সমিতি হিসেবে বিষয়টি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রশাসন নিজেদের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরোধিতা করব। জুলাই আন্দোলনের সময় তারা সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, এখনো বোর্ড বসেনি। বোর্ড বসলে তখন দেখা যাবে কাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বা কাকে হবে না। কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতির লক্ষ্যে বোর্ড আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১০ মে )থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের পদোন্নতি বোর্ডের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব বোর্ডে ১২টি বিভাগের মোট ১৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮ জন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র গণহত্যার সমর্থক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে জবিতে আয়োজিত নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন ওই শিক্ষকরা। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনবিরোধী বিভিন্ন পোস্টও দেন তারা।
পদোন্নতির তালিকায় থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা হলেন- প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. উম্মে হাবিবা খাতুন, ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুক্তা রাণী সরকার ও সোনিয়া মুনমুন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর ড. মো. মনির হোসেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা হাসান, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন।
তাদের মধ্যে তিনজন সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে এবং ৫ জন সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষককে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ এ পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সাজিয়া আফরিন অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় তারা প্রকাশ্যে আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পান। অন্যদিকে, দর্শন বিভাগের শিক্ষক সাজিয়া আফরিন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রী হলের হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামীপন্থী নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক নেতা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে উপাচার্যের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পরে উপাচার্য পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দেন।
অভিযোগ উঠেছে, রসায়ন বিভাগের ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং সমাজকর্ম বিভাগের ড. মো. আবুল হোসেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মো. কামাল হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় পেশাজীবী সমন্বয় উপকমিটিতে জবির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিএনপিপন্থী শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, উপাচার্য রইছ উদ্দিন স্যার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। অথচ এখন তার কাছে সেই নীল দলের নেতারাই বিভিন্নভাবে তদবির করে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে তারাই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করবে কি না, সেটি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা শিক্ষক সমিতি হিসেবে বিষয়টি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রশাসন নিজেদের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরোধিতা করব। জুলাই আন্দোলনের সময় তারা সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, এখনো বোর্ড বসেনি। বোর্ড বসলে তখন দেখা যাবে কাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বা কাকে হবে না। কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি।

জবিতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ অভিযুক্ত ৮ শিক্ষককে পদোন্নতির উদ্যোগ
জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতির লক্ষ্যে বোর্ড আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১০ মে )থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের পদোন্নতি বোর্ডের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব বোর্ডে ১২টি বিভাগের মোট ১৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮ জন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র গণহত্যার সমর্থক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে জবিতে আয়োজিত নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন ওই শিক্ষকরা। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনবিরোধী বিভিন্ন পোস্টও দেন তারা।
পদোন্নতির তালিকায় থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা হলেন- প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. উম্মে হাবিবা খাতুন, ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুক্তা রাণী সরকার ও সোনিয়া মুনমুন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর ড. মো. মনির হোসেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা হাসান, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন।
তাদের মধ্যে তিনজন সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে এবং ৫ জন সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষককে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ এ পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সাজিয়া আফরিন অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় তারা প্রকাশ্যে আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পান। অন্যদিকে, দর্শন বিভাগের শিক্ষক সাজিয়া আফরিন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রী হলের হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামীপন্থী নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক নেতা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে উপাচার্যের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পরে উপাচার্য পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দেন।
অভিযোগ উঠেছে, রসায়ন বিভাগের ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং সমাজকর্ম বিভাগের ড. মো. আবুল হোসেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মো. কামাল হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় পেশাজীবী সমন্বয় উপকমিটিতে জবির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিএনপিপন্থী শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, উপাচার্য রইছ উদ্দিন স্যার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। অথচ এখন তার কাছে সেই নীল দলের নেতারাই বিভিন্নভাবে তদবির করে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে তারাই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করবে কি না, সেটি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা শিক্ষক সমিতি হিসেবে বিষয়টি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রশাসন নিজেদের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরোধিতা করব। জুলাই আন্দোলনের সময় তারা সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, এখনো বোর্ড বসেনি। বোর্ড বসলে তখন দেখা যাবে কাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বা কাকে হবে না। কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি।

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা


