হৃদয়টা আজ দুই টুকরো

হৃদয়টা আজ দুই টুকরো
রুবেল আবিদ

কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ স্পেনের। আবার কেউ আছেন ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু কখনো কখনো এই তিন রকমের সমর্থকের সমর্থনই আবার এক মোহনায় মেলে; যখন তাদের মিলিত পরিচয় বার্সেলোনার সমর্থক!
এক মোহনায় গিয়ে মেলা এই সমর্থকদের সমর্থন আজ আবার নতুন একটি মোহনায় গিয়ে ধাক্কা খাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তিন দিক থেকে আসা আবেগের স্রোত সেখানে এসে একে অপরকে আঘাত করবে সজোরে। তারপর? ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। এক ভাগে লিওনেল মেসি, অন্য ভাগে লামিনে ইয়ামাল।
স্পেনের বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ইয়োহান মনফোর্তের আবেগও আজ ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। যিনি আজ থেকে ১৯ বছর আগে বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে ২০ বছর বয়সী মেসি ও পাঁচ মাসের শিশু লামিনে ইয়ামালের বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ছবিটি তুলেছিলেন।

মনফোর্ত বার্সেলোনার সমর্থক। তার হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নেওয়া ফুটবলার মানেই বার্সেলোনাকে অনেক অনেক ট্রফি জেতানো কেউ। সেই বিবেচনা থেকেই মনফোর্ত লিওনেল মেসির পাগল ভক্ত। একই কারণে তুমুল ভক্ত তিনি লামিনে ইয়ামালেরও।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালের এমনিতেই আলাদা একটা আকর্ষণ থাকে। এ ম্যাচের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একটা দ্বৈরথ– ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা মেসি আর যুবরাজ ইয়ামালের লড়াই। ৫৮ বছর বয়সী মনফোর্তের আবেগও তাই মেটলাইফের মাঠে এসে দুই ভাগে বিভক্ত।
বার্সেলোনার লক্ষ-কোটি ভক্তের প্রতিনিধি হয়েই যেন আসন্ন মুহূর্তটিকে মনফোর্ত বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘আমার মনে হয়, তাদের গল্পের শেষ অধ্যায়ে এসে গেছি আমরা। এটা মধুরেণ এক সমাপয়েৎ। আমি বার্সেলোনার সমর্থক এবং আমি মনে করি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে শেষ করতে পারাটা হবে মেসির জন্য একদম সঠিক সমাপ্তি। এটা তার প্রাপ্যও।’

ইয়ামালকে নিয়ে মনফোর্ত এরপর বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো ট্রফি জেতার জন্য লামিনের সামনে অনেক সময় আছে। কিন্তু স্পেন ও লামিনে ভালো ছন্দ নিয়ে ফাইনালে এসেছে এবং সে যদি এখনই ট্রফিটা জিতে যায়, তাহলে অন্য যেকোনো শিরোপার চেয়ে এটি হবে দামি হবে।’
এ দুজনের দ্বৈরথ আর নিজের সমর্থনের কথা বলতে গিয়ে মনফোর্ত যেভাবে শেষ করেছেন, সেটা অনেকের কানেই হয়তো বিয়ে বাড়ির শানাইয়ের সুরের মতো লাগবে। বিয়ের সময় কনের বাড়িতে শানাইয়ের যে সুর ওঠে, সেখানে কনের বাবার কানে যুগপৎ আনন্দ আর বেদনার রাগ বাজে; কন্যাদায় থেকে মুক্তির আনন্দ আর মেয়েকে বিদায় দেওয়ার বেদনা।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনালে মেসি-ইয়ামালের দ্বৈরথ নিয়ে আনন্দ আর বেদনার যুগপৎ বোধ আজ বেজে উঠেছে মনফোর্তের মনেও। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা কঠিন এক মুহূর্ত। আমার হৃদয় দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।’
বিশ্বজোড়া বার্সেলোনা সমর্থকদের আজ হয়তো একই অবস্থা– এক চোখে মেসির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখছেন তারা, অন্য চোখে শিরোপা জয়ের উল্লাসে ইয়ামালের আনন্দময় মুখ। বার্সেলোনার সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস ফাব্রেগাসের কথাই ধরুন, তার বাচ্চারা যে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সে তো মেসির জন্যই। কিন্তু ওদের কোমলমতি হৃদয়টা হয়তো ইয়ামালের হাতেও ট্রফি দেখতে চায়!
কী এক অবিমৃষ্য মুহূর্ত!

কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ স্পেনের। আবার কেউ আছেন ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু কখনো কখনো এই তিন রকমের সমর্থকের সমর্থনই আবার এক মোহনায় মেলে; যখন তাদের মিলিত পরিচয় বার্সেলোনার সমর্থক!
এক মোহনায় গিয়ে মেলা এই সমর্থকদের সমর্থন আজ আবার নতুন একটি মোহনায় গিয়ে ধাক্কা খাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তিন দিক থেকে আসা আবেগের স্রোত সেখানে এসে একে অপরকে আঘাত করবে সজোরে। তারপর? ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। এক ভাগে লিওনেল মেসি, অন্য ভাগে লামিনে ইয়ামাল।
স্পেনের বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ইয়োহান মনফোর্তের আবেগও আজ ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। যিনি আজ থেকে ১৯ বছর আগে বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে ২০ বছর বয়সী মেসি ও পাঁচ মাসের শিশু লামিনে ইয়ামালের বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ছবিটি তুলেছিলেন।

মনফোর্ত বার্সেলোনার সমর্থক। তার হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নেওয়া ফুটবলার মানেই বার্সেলোনাকে অনেক অনেক ট্রফি জেতানো কেউ। সেই বিবেচনা থেকেই মনফোর্ত লিওনেল মেসির পাগল ভক্ত। একই কারণে তুমুল ভক্ত তিনি লামিনে ইয়ামালেরও।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালের এমনিতেই আলাদা একটা আকর্ষণ থাকে। এ ম্যাচের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একটা দ্বৈরথ– ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা মেসি আর যুবরাজ ইয়ামালের লড়াই। ৫৮ বছর বয়সী মনফোর্তের আবেগও তাই মেটলাইফের মাঠে এসে দুই ভাগে বিভক্ত।
বার্সেলোনার লক্ষ-কোটি ভক্তের প্রতিনিধি হয়েই যেন আসন্ন মুহূর্তটিকে মনফোর্ত বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘আমার মনে হয়, তাদের গল্পের শেষ অধ্যায়ে এসে গেছি আমরা। এটা মধুরেণ এক সমাপয়েৎ। আমি বার্সেলোনার সমর্থক এবং আমি মনে করি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে শেষ করতে পারাটা হবে মেসির জন্য একদম সঠিক সমাপ্তি। এটা তার প্রাপ্যও।’

ইয়ামালকে নিয়ে মনফোর্ত এরপর বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো ট্রফি জেতার জন্য লামিনের সামনে অনেক সময় আছে। কিন্তু স্পেন ও লামিনে ভালো ছন্দ নিয়ে ফাইনালে এসেছে এবং সে যদি এখনই ট্রফিটা জিতে যায়, তাহলে অন্য যেকোনো শিরোপার চেয়ে এটি হবে দামি হবে।’
এ দুজনের দ্বৈরথ আর নিজের সমর্থনের কথা বলতে গিয়ে মনফোর্ত যেভাবে শেষ করেছেন, সেটা অনেকের কানেই হয়তো বিয়ে বাড়ির শানাইয়ের সুরের মতো লাগবে। বিয়ের সময় কনের বাড়িতে শানাইয়ের যে সুর ওঠে, সেখানে কনের বাবার কানে যুগপৎ আনন্দ আর বেদনার রাগ বাজে; কন্যাদায় থেকে মুক্তির আনন্দ আর মেয়েকে বিদায় দেওয়ার বেদনা।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনালে মেসি-ইয়ামালের দ্বৈরথ নিয়ে আনন্দ আর বেদনার যুগপৎ বোধ আজ বেজে উঠেছে মনফোর্তের মনেও। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা কঠিন এক মুহূর্ত। আমার হৃদয় দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।’
বিশ্বজোড়া বার্সেলোনা সমর্থকদের আজ হয়তো একই অবস্থা– এক চোখে মেসির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখছেন তারা, অন্য চোখে শিরোপা জয়ের উল্লাসে ইয়ামালের আনন্দময় মুখ। বার্সেলোনার সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস ফাব্রেগাসের কথাই ধরুন, তার বাচ্চারা যে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সে তো মেসির জন্যই। কিন্তু ওদের কোমলমতি হৃদয়টা হয়তো ইয়ামালের হাতেও ট্রফি দেখতে চায়!
কী এক অবিমৃষ্য মুহূর্ত!

হৃদয়টা আজ দুই টুকরো
রুবেল আবিদ

কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ স্পেনের। আবার কেউ আছেন ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু কখনো কখনো এই তিন রকমের সমর্থকের সমর্থনই আবার এক মোহনায় মেলে; যখন তাদের মিলিত পরিচয় বার্সেলোনার সমর্থক!
এক মোহনায় গিয়ে মেলা এই সমর্থকদের সমর্থন আজ আবার নতুন একটি মোহনায় গিয়ে ধাক্কা খাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তিন দিক থেকে আসা আবেগের স্রোত সেখানে এসে একে অপরকে আঘাত করবে সজোরে। তারপর? ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। এক ভাগে লিওনেল মেসি, অন্য ভাগে লামিনে ইয়ামাল।
স্পেনের বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ইয়োহান মনফোর্তের আবেগও আজ ভাগ হয়ে যাবে দুই ভাগে। যিনি আজ থেকে ১৯ বছর আগে বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে ২০ বছর বয়সী মেসি ও পাঁচ মাসের শিশু লামিনে ইয়ামালের বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ছবিটি তুলেছিলেন।

মনফোর্ত বার্সেলোনার সমর্থক। তার হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নেওয়া ফুটবলার মানেই বার্সেলোনাকে অনেক অনেক ট্রফি জেতানো কেউ। সেই বিবেচনা থেকেই মনফোর্ত লিওনেল মেসির পাগল ভক্ত। একই কারণে তুমুল ভক্ত তিনি লামিনে ইয়ামালেরও।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালের এমনিতেই আলাদা একটা আকর্ষণ থাকে। এ ম্যাচের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একটা দ্বৈরথ– ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা মেসি আর যুবরাজ ইয়ামালের লড়াই। ৫৮ বছর বয়সী মনফোর্তের আবেগও তাই মেটলাইফের মাঠে এসে দুই ভাগে বিভক্ত।
বার্সেলোনার লক্ষ-কোটি ভক্তের প্রতিনিধি হয়েই যেন আসন্ন মুহূর্তটিকে মনফোর্ত বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘আমার মনে হয়, তাদের গল্পের শেষ অধ্যায়ে এসে গেছি আমরা। এটা মধুরেণ এক সমাপয়েৎ। আমি বার্সেলোনার সমর্থক এবং আমি মনে করি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে শেষ করতে পারাটা হবে মেসির জন্য একদম সঠিক সমাপ্তি। এটা তার প্রাপ্যও।’

ইয়ামালকে নিয়ে মনফোর্ত এরপর বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো ট্রফি জেতার জন্য লামিনের সামনে অনেক সময় আছে। কিন্তু স্পেন ও লামিনে ভালো ছন্দ নিয়ে ফাইনালে এসেছে এবং সে যদি এখনই ট্রফিটা জিতে যায়, তাহলে অন্য যেকোনো শিরোপার চেয়ে এটি হবে দামি হবে।’
এ দুজনের দ্বৈরথ আর নিজের সমর্থনের কথা বলতে গিয়ে মনফোর্ত যেভাবে শেষ করেছেন, সেটা অনেকের কানেই হয়তো বিয়ে বাড়ির শানাইয়ের সুরের মতো লাগবে। বিয়ের সময় কনের বাড়িতে শানাইয়ের যে সুর ওঠে, সেখানে কনের বাবার কানে যুগপৎ আনন্দ আর বেদনার রাগ বাজে; কন্যাদায় থেকে মুক্তির আনন্দ আর মেয়েকে বিদায় দেওয়ার বেদনা।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনালে মেসি-ইয়ামালের দ্বৈরথ নিয়ে আনন্দ আর বেদনার যুগপৎ বোধ আজ বেজে উঠেছে মনফোর্তের মনেও। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা কঠিন এক মুহূর্ত। আমার হৃদয় দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।’
বিশ্বজোড়া বার্সেলোনা সমর্থকদের আজ হয়তো একই অবস্থা– এক চোখে মেসির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখছেন তারা, অন্য চোখে শিরোপা জয়ের উল্লাসে ইয়ামালের আনন্দময় মুখ। বার্সেলোনার সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস ফাব্রেগাসের কথাই ধরুন, তার বাচ্চারা যে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সে তো মেসির জন্যই। কিন্তু ওদের কোমলমতি হৃদয়টা হয়তো ইয়ামালের হাতেও ট্রফি দেখতে চায়!
কী এক অবিমৃষ্য মুহূর্ত!






