শিরোনাম

ফ্লোরিডার মায়ামিতে আবাসন সাম্রাজ্য গড়ছেন মেসি

সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক
ফ্লোরিডার মায়ামিতে আবাসন সাম্রাজ্য গড়ছেন মেসি
মায়ামিতে সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সের প্রস্তাবিত নকশা। ছবি: আরকিটেকটোনিকা

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় কেবল ফুটবল মাঠেই নয়, বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও সমান দাপট দেখাচ্ছেন লিওনেল মেসি। সম্প্রতি ব্রিকেলের কেন্দ্রস্থলে নির্মাণাধীন সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্স মায়ামিতে চারটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম কেনার চুক্তি করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

৮০ তলার এই টাওয়ারটি গড়ে উঠছে ১৪২০ সাউথ মায়ামি অ্যাভিনিউতে। প্রকল্পটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মেসি শীর্ষ তলায় চারটি ইউনিট কিনেছেন, যার মধ্যে একটি ইউনিটের মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ ডলার। এক থেকে চার শয়নকক্ষের মোট ৩৯৭টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে ভবনটিতে; প্রারম্ভিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ লাখ ডলার।

মেসির কেনা ইউনিটগুলো তাকে যুক্ত করেছে ‘দ্য কানালেত্তো কালেকশন’ নামের বিশেষ মালিকগোষ্ঠীর সঙ্গে। ভবনের উপরের ১৮ তলায় মাত্র ছয়টি পেন্টহাউস ও ৬৮টি অতিবিলাসবহুল আবাসন নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই সীমিত সংগ্রহ। একটি ইউনিটের আয়তন প্রায় ৩,৫০০ বর্গফুট এবং তাতে চারটি শয়নকক্ষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে মায়ামির স্কাইলাইন ও বিসকেইন উপসাগরের ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

ফোর্ট লডারডেলে মেসির বাড়ি। ছবি: কোস্ট রিয়েল স্টেট
ফোর্ট লডারডেলে মেসির বাড়ি। ছবি: কোস্ট রিয়েল স্টেট

প্রকল্পটি নির্মাণ করছে মাস্ট ক্যাপিটাল এবং বিক্রয় তত্ত্বাবধানে রয়েছে ফরচুন ডেভেলপমেন্ট সেলস। স্থাপত্য নকশা করেছে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘আরকিটেকটোনিকা’ এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছে লন্ডনভিত্তিক স্টুডিও ‘১৫০৮ লন্ডন’ । এটি যুক্তরাষ্ট্রে সিপ্রিয়ানির প্রথম গ্রাউন্ড-আপ আবাসিক প্রকল্প।

বিলাসের পরতে পরতে

রিসোর্টধাঁচের দুটি সুইমিং পুল ও সানডেক, কেবল বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁ ও ব্যক্তিগত স্পিকইজি, সউনা ও ট্রিটমেন্ট রুমসহ পূর্ণাঙ্গ স্পা, গলফ সিমুলেটর, স্ক্রিনিং রুম, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, পিকলবল কোর্ট এবং ২৪ ঘণ্টা ক্যাটারিং সেবা সব মিলিয়ে গোপনীয়তা ও বিলাসের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এই টাওয়ারে। মেসির মতো তারকার জন্য নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিসর এখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আগেই ছিল ফ্লোরিডায় ঘাঁটি

২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামি সিএফে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় স্থায়ী ঠিকানা গড়তে শুরু করেন মেসি। ফোর্ট লডারডেলের বে কলোনি এলাকায় ১ কোটি ৭ লাখ ডলারে কিনেছেন ১০,৫০০ বর্গফুটের ওয়াটারফ্রন্ট ম্যানশন। সেখানে রয়েছে ৮টি শয়নকক্ষ, ৯টি বাথরুম, ১৭০ ফুট জলসীমা, সুইমিং পুল, ১,৬০০ বর্গফুটের প্রধান সুইট, ফিটনেস রুম, স্পা, বিনোদন লাউঞ্জ ও অফিস স্পেস।

এর আগে সানি আইলস বিচে ৫৬ তলা বিশিষ্ট পোরশে ডিজাইন টাওয়ারে একটি ইউনিট কেনেন তিনি। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি লিফট ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত এই টাওয়ারে বাসিন্দারা নিজেদের গাড়ি সরাসরি অ্যাপার্টমেন্টের পাশে পার্ক করতে পারেন, যা বিলাসবহুল আবাসনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

বিনিয়োগ না স্থায়ী পরিকল্পনা?

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতেই থাকার কথা মেসির। সাম্প্রতিক সম্পত্তি বিনিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফ্লোরিডার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল পেশাদার ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থাকলেও, মেসির ধারাবাহিক সম্পত্তি ক্রয় অনেকের মতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনারই অংশ।

লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতির সান্নিধ্য, আর্জেন্টিনার তুলনামূলক নিকটবর্তী অবস্থান, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও অনুকূল আবহাওয়া সব মিলিয়ে মায়ামি এখন মেসির ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

/এসএ/