শিরোনাম

ইরান সরে গেলে বিশ্বকাপে খেলবে কোন দল

সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক
ইরান সরে গেলে বিশ্বকাপে খেলবে কোন দল
ফুটবল বিশ্বকাপ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এ হামলায়। যেই দেশের হামলায় ইরানের এতো বড় ক্ষতি হয়েছে সেই যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার সম্ভাবনা গেল বুধবার (১১ মার্চ) নাকচ করে দেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি। ফলে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর ৩ মাস বাকি থাকতে ইরানের জায়গায় এখন নতুন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে জটিল পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ফিফাকে এখনই বিকল্প ভাবতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই থেকে ইসরায়েলসহ আশেপাশে দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ থামার কোনো আভাস এখনও মেলেনি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বুধবার (১১ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বিশ্বকাপে ইরান দলকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরির পরিচালক জেমস কিচিং রয়টার্সকে বলেন, ‘টুর্নামেন্ট আইন অনুযায়ী, কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে সংস্থাটির। এর অর্থ হলো, উদাহরণস্বরূপ কোনো দল সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় একই কনফেডারেশন থেকেই আরেক দল আনতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।’

তবে ইরান যদি সত্যিই সরে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে দুটি নাম-ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এই মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলবে ইরাক। আর গত বছর নভেম্বরে এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে এলিমিনেটর রাউন্ডে ইরাকের বিপক্ষে হেরে আশা শেষ হয়ে যায় আরব আমিরাতের।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে বিমান চলাচল খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ইরাক জাতীয় দলের মেক্সিকোয় ভ্রমণ করা এবং প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হবে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের বাধা পেরিয়ে দুটি দল বিশ্বকাপে উঠবে। এর দ্বিতীয়টির সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বলিভিয়া ও সুরিনাম। তাদের মধ্যে বিজয়ীর বিপক্ষে আগামী ৩১ মার্চ খেলবে ইরাক।

ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ফিফাকে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, তাদের ৩১ মার্চের সম্ভাব্য ম্যাচটি আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। ‘বলিভিয়া ও সুরিনামের ম্যাচটি এই মাসেই হোক এবং এরপর বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে ওই ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে আমরা খেলবো যুক্তরাষ্ট্রে-সেই ম্যাচের বিজয়ীরা থাকবে, পরাজিতরা বাড়ি ফিরে যাবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার মতে, এতে ফিফাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বেশি সময় পাবে ইরানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। ইরান যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা বিশ্বকাপে খেলব এবং এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটা সুযোগ পাবে বলিভিয়া কিংবা সুরিনামের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার।’

বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশর। শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপে খেলবে না তাদের বদলে অন্য কোনো দল খেলবে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ফুটবল প্রেমীরা।

/টিই/