শিরোনাম

প্রথম ম‍্যাচেই ৩ লাল কার্ড দেখিয়ে ‘খলনায়ক’ সাম্পাইয়ো

সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক
সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক
প্রথম ম‍্যাচেই ৩ লাল কার্ড দেখিয়ে ‘খলনায়ক’ সাম্পাইয়ো
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড হাতে উইল্টন সাম্পাইয়ো

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো। তার কড়া হাতে ম্যাচ পরিচালনা ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

৪৪ বছরের সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে অপরিচিত নন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

কড়া ধাঁচের সাম্পাইয়ো এবারই প্রথম বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেয়েছেন এমন নয়। গত দুইটি বিশ্বকাপেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া কোপা আমেরিকাসহ বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে তার মুখে ছিল বাঁশি। সেই ম্যাচে তার নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে। বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তার।

শুক্রবার (১১ জুন) রাতে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে সাম্পাইয়ো প্রথম লাল কার্ড দেখান ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল পেনাল্টি দেওয়া হবে। কিন্তু বক্সের কয়েক ইঞ্চি দূরে ফ্রিকিক দেওয়া হয়।

এর পর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এনজোয়ানে ধাক্কা মারেন আরভারাল্দোকে। রেফারি প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভিডিও অ্যাসিস্টেন্স রেফারির (ভিএআর) ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। এনজোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। বাকিটা সময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ জন নিয়ে খেলতে হয়।

শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সিজার মন্তেস। তিনি ফেলে দেন মুদাউকে। গোল করায় বাধা দিয়েছিলেন বলেই হয়তো রেফারি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রেও একটু কোমল সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।

২০০৬-এর পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এত জন লাল কার্ড দেখলেন।

লাল কার্ড দেখানো ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে সাম্পাইয়োর কড়া চাহনি এবং কঠিন অভিব্যক্তি। ম্যাচ কিছুটা গড়াতেই তার কিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খেলার শেষে তাকেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার দেওয়া উচিত বলেছেন সমর্থকদের একাংশ। তাদের দৃষ্টিতে সাম্পাইয়ো বিশ্বকাপের প্রথম খলনায়ক।

১৯৮১ সালে ব্রাজিলের টেরেসিনা ডি গোয়াসে জন্মগ্রহণ করা সাম্পাইয়োকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রকম মিমও। ম্যাচের রাশ সব সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া ব্রাজিলীয় রেফারি গোটা বিশ্বকাপেই ফুটবলপ্রেমীদের নজরে থাকবেন।

/এফসি/