শিরোনাম

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে ছেয়ে গেছে ফেসবুক, শিক্ষিকার পাশে সহকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে ছেয়ে গেছে ফেসবুক, শিক্ষিকার পাশে সহকর্মীরা
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া সমালোচনার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকরা শুরু করেছেন অভিনব প্রতিবাদ। চার দশকেরও পুরোনো জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’-কে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। কেউ ঝাড়ু দেওয়ার সময়, কেউ স্কুটি চালাতে চালাতে, আবার কেউ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে গানটি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের সমালোচনা ও কটূক্তি। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিউটি রাণী পালের প্রতি সংহতি জানিয়ে একই ধাঁচের ভিডিও প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে বিভিন্ন পোস্টও দিচ্ছেন।

মাদারীপুরের এক সহকারী শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার নিজের শাড়ি পরা একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেন, বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।

শুধু ব্যক্তিগত সমর্থন নয়, একই গান ব্যবহার করে দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকারা একযোগে ভিডিও প্রকাশ করায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো শিক্ষক-শিক্ষিকা এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।

ভিডিওগুলোতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের স্বাভাবিক মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

ভিডিও পোষ্ট করে অনেকেই লিখেছেন, শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, অনুভূতি, সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতাও সমানভাবে সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে। শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা বা নিজের পছন্দ প্রকাশ করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোনো কারণ নেই বলেও তারা মত দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এই উদ্যোগকে অনেকেই শিক্ষকদের পারস্পরিক সংহতি, সম্মানবোধ এবং ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, বিউটি রাণী পাল এর আগে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।

/এসবি/