ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা

ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা
সিজেডএন ডেস্ক

ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা ও শান্তি। অর্থাৎ শান্তির ধর্ম হিসেবে মহান আল্লাহ ইসলামকে মনোনীত করেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম (জীবনবিধান) হলো ইসলাম।’ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন মহান আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩)। তবে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই এর মূল শিক্ষা, দর্শন ও মূলনীতির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায়ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাব, একপেশে গণমাধ্যম এবং পক্ষপাতমূলক বয়ানের কারণে অনেকের মনে ইসলাম সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়ে আছে।
অনেকের ধারণা, ইসলাম সহিংসতা উসকে দেয়, নারীর অধিকার খর্ব করে, কোরআন মানুষের রচিত সাহিত্য কিংবা ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে সমর্থন করে। তবে সত্য অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এসব প্রচারণা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রচলিত এমন কিছু ভুল ধারণা ও তার নেপথ্য সত্য।
আল্লাহ কি কোনো বিশেষ জাতির জন্য?
ইসলাম সম্পর্কে একটি বহুল প্রচলিত অপপ্রচার হলো, ‘আল্লাহ’ নাকি বিশেষ জাতির জন্য। তিনি নাকি প্রাচীন আরবের ‘চাঁদের দেবতা’ (মুন গড)। তবে এটা ভাষাতাত্ত্বিক অজ্ঞতা ও ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
‘আল্লাহ’ কোনো বিশেষ গোত্রীয় দেবতার নাম নয়। আল্লাহ একটি আরবি শব্দ। যা ‘আল-ইলাহ’ (একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত) থেকে এসেছে। আরবিভাষী খ্রিষ্টান ও ইহুদিরাও স্রষ্টা বোঝাতে প্রাচীনকাল থেকেই ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছেন।
পবিত্র কোরআনের শুরুতেই আল্লাহকে সার্বজনীন রব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরা ফাতিহার ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’
অর্থাৎ, তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রভু নন; তিনি সমগ্র সৃষ্টির একক অধিপতি।
কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া কি প্রতিমা পূজা?
সুরা বাকারার ১৪৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদের প্রতি কিতাব নাজিল করা হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।’
অর্থাৎ আল্লাহ মসজিদুল হারাম বা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন। তবে এটাকে অনেকেই প্রতিমা বা পাথরপূজা হিসেবে দেখেন। তবে এটি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ভৌগোলিক ও আত্মিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। মুসলিমরা কখনো কাবার ইবাদত করে না, বরং কাবার একমাত্র রবের ইবাদত করে।
মুহাম্মদ (সা.) কি সাম্রাজ্যবাদী শাসক ছিলেন
ইতিহাসে বহু অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)। কোনো কোনো মহলে তাকে তরবারির জোরে ধর্ম প্রচারকারী কিংবা নিছক রাজনৈতিক শাসক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো, তিনি যে যুদ্ধগুলো করেছিলেন, সেগুলো ছিলো প্রতিরক্ষামূলক। মক্কার চরমতম নির্যাতন ও ১৩ বছরের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখেও তিনি অহিংসার পথ ত্যাগ করেননি। মদিনায় তিনি যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক চুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা।
আল্লাহ-তাআলা নবীজিকে সমগ্র পৃথিবীর জন্য করুণার দূত হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
তার বিনয়, সততা, শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে ক্ষমা করার মানসিকতা এবং চরিত্রমাধুর্যই কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।
কোরআন কি মানুষের রচিত সাহিত্য
মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ইসলাম সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও অপপ্রচার রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মহাগ্রন্থ আল কোরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর স্বরচিত কাব্য। আবার অনেক মহল বলে থাকেন, এটি পূর্ববর্তী তাওরাত বা ইঞ্জিলের রূপান্তর।
অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো মহানবী (সা.) ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন এক ‘বান্দাহ’। পবিত্র কোরআন কোনো মানুষের চিন্তা নয়, বরং ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নাজিল হওয়া মহান আল্লাহর বাণী।
মহানবী সা. এর যুগ থেকেই কোরআন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাহিত্য বলা হয়েছে। তবে মহান আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সুরা রচনা করে নিয়ে এসো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩)
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কোনো ভাষাবিদ বা সাহিত্যিক কোরআনের একটি ছোট সুরার সমতুল্য কিছু রচনা করতে পারেনি।
অন্যদিকে মহান আল্লাহ নিজেই এই গ্রন্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সূরা হিজরের ৯ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’
ইসলাম কি সহিংসতাকে সমর্থন করে?
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসলামকে ‘উগ্রবাদ’ ও সন্ত্রাসের সমার্থক বা জঙ্গিবাদী ধর্ম হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থই হলো- শান্তি ও আত্মসমর্পণ।
কোরআনে বহু যুদ্ধের উল্লেখ আছে। তবে সেগুলো ছিলো আত্মরক্ষামূলক। আর যুদ্ধের যে বিধান এসেছে, তা সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষা ও আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত করার সুযোগও ইসলামে দেওয়া হয়নি।
সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘লা ইকরা ফিদ দ্বীন।’ অর্থাৎ, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।
সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি বানী ইসরাঈলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা যমীনে ফ্যাসাদ (সন্ত্রাস) সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ বাঁচালো।’
ইসলাম কি নারীকে বন্দি বা শৃঙ্খলিত করে?
ইসলাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে নারীদের নিয়ে। বিশাল একটা গোষ্ঠী মনে করেন, ইসলাম ধর্মে নারীদের খাটো করে দেখানো হয়েছে, তাদের বাড়িতে বন্দি করে রাখতে চায়। এমনকি না বুঝে অনেক মুসলমানও এমনটি ভেবে থাকেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- সপ্তম শতকে যখন গোটা বিশ্বে নারীকে ভোগ্য পণ্য মনে করা হতো এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তখন ইসলামই নারীকে স্বাধীন সত্তা, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছিল।
ইসলামের প্রথম ইমানদার ব্যক্তিত্ব খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম সফল ও স্বাধীন নারী উদ্যোক্তা। পর্দা বা শালীন পোশাক নারীকে দমনের জন্য নয়, বরং জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা, স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদার সুরক্ষা কবচ। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)
ইসলামে কি বংশীয় বৈষম্য রয়েছে
ইসলাম সম্পর্কে আরেকটি অপপ্রচার হলো ইসলাম আরবদের জন্য। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- ইসলাম গায়ের রং বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি বেলাল (রা.)-কে ইসলাম মদিনার প্রধান মুয়াজ্জিন এবং উম্মাহর সম্মানিত নেতার আসনে আসীন করেছিলেন।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী (সা.) বর্ণবাদের অবসান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)

ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা ও শান্তি। অর্থাৎ শান্তির ধর্ম হিসেবে মহান আল্লাহ ইসলামকে মনোনীত করেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম (জীবনবিধান) হলো ইসলাম।’ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন মহান আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩)। তবে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই এর মূল শিক্ষা, দর্শন ও মূলনীতির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায়ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাব, একপেশে গণমাধ্যম এবং পক্ষপাতমূলক বয়ানের কারণে অনেকের মনে ইসলাম সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়ে আছে।
অনেকের ধারণা, ইসলাম সহিংসতা উসকে দেয়, নারীর অধিকার খর্ব করে, কোরআন মানুষের রচিত সাহিত্য কিংবা ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে সমর্থন করে। তবে সত্য অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এসব প্রচারণা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রচলিত এমন কিছু ভুল ধারণা ও তার নেপথ্য সত্য।
আল্লাহ কি কোনো বিশেষ জাতির জন্য?
ইসলাম সম্পর্কে একটি বহুল প্রচলিত অপপ্রচার হলো, ‘আল্লাহ’ নাকি বিশেষ জাতির জন্য। তিনি নাকি প্রাচীন আরবের ‘চাঁদের দেবতা’ (মুন গড)। তবে এটা ভাষাতাত্ত্বিক অজ্ঞতা ও ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
‘আল্লাহ’ কোনো বিশেষ গোত্রীয় দেবতার নাম নয়। আল্লাহ একটি আরবি শব্দ। যা ‘আল-ইলাহ’ (একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত) থেকে এসেছে। আরবিভাষী খ্রিষ্টান ও ইহুদিরাও স্রষ্টা বোঝাতে প্রাচীনকাল থেকেই ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছেন।
পবিত্র কোরআনের শুরুতেই আল্লাহকে সার্বজনীন রব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরা ফাতিহার ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’
অর্থাৎ, তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রভু নন; তিনি সমগ্র সৃষ্টির একক অধিপতি।
কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া কি প্রতিমা পূজা?
সুরা বাকারার ১৪৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদের প্রতি কিতাব নাজিল করা হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।’
অর্থাৎ আল্লাহ মসজিদুল হারাম বা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন। তবে এটাকে অনেকেই প্রতিমা বা পাথরপূজা হিসেবে দেখেন। তবে এটি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ভৌগোলিক ও আত্মিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। মুসলিমরা কখনো কাবার ইবাদত করে না, বরং কাবার একমাত্র রবের ইবাদত করে।
মুহাম্মদ (সা.) কি সাম্রাজ্যবাদী শাসক ছিলেন
ইতিহাসে বহু অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)। কোনো কোনো মহলে তাকে তরবারির জোরে ধর্ম প্রচারকারী কিংবা নিছক রাজনৈতিক শাসক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো, তিনি যে যুদ্ধগুলো করেছিলেন, সেগুলো ছিলো প্রতিরক্ষামূলক। মক্কার চরমতম নির্যাতন ও ১৩ বছরের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখেও তিনি অহিংসার পথ ত্যাগ করেননি। মদিনায় তিনি যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক চুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা।
আল্লাহ-তাআলা নবীজিকে সমগ্র পৃথিবীর জন্য করুণার দূত হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
তার বিনয়, সততা, শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে ক্ষমা করার মানসিকতা এবং চরিত্রমাধুর্যই কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।
কোরআন কি মানুষের রচিত সাহিত্য
মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ইসলাম সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও অপপ্রচার রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মহাগ্রন্থ আল কোরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর স্বরচিত কাব্য। আবার অনেক মহল বলে থাকেন, এটি পূর্ববর্তী তাওরাত বা ইঞ্জিলের রূপান্তর।
অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো মহানবী (সা.) ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন এক ‘বান্দাহ’। পবিত্র কোরআন কোনো মানুষের চিন্তা নয়, বরং ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নাজিল হওয়া মহান আল্লাহর বাণী।
মহানবী সা. এর যুগ থেকেই কোরআন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাহিত্য বলা হয়েছে। তবে মহান আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সুরা রচনা করে নিয়ে এসো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩)
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কোনো ভাষাবিদ বা সাহিত্যিক কোরআনের একটি ছোট সুরার সমতুল্য কিছু রচনা করতে পারেনি।
অন্যদিকে মহান আল্লাহ নিজেই এই গ্রন্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সূরা হিজরের ৯ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’
ইসলাম কি সহিংসতাকে সমর্থন করে?
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসলামকে ‘উগ্রবাদ’ ও সন্ত্রাসের সমার্থক বা জঙ্গিবাদী ধর্ম হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থই হলো- শান্তি ও আত্মসমর্পণ।
কোরআনে বহু যুদ্ধের উল্লেখ আছে। তবে সেগুলো ছিলো আত্মরক্ষামূলক। আর যুদ্ধের যে বিধান এসেছে, তা সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষা ও আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত করার সুযোগও ইসলামে দেওয়া হয়নি।
সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘লা ইকরা ফিদ দ্বীন।’ অর্থাৎ, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।
সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি বানী ইসরাঈলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা যমীনে ফ্যাসাদ (সন্ত্রাস) সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ বাঁচালো।’
ইসলাম কি নারীকে বন্দি বা শৃঙ্খলিত করে?
ইসলাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে নারীদের নিয়ে। বিশাল একটা গোষ্ঠী মনে করেন, ইসলাম ধর্মে নারীদের খাটো করে দেখানো হয়েছে, তাদের বাড়িতে বন্দি করে রাখতে চায়। এমনকি না বুঝে অনেক মুসলমানও এমনটি ভেবে থাকেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- সপ্তম শতকে যখন গোটা বিশ্বে নারীকে ভোগ্য পণ্য মনে করা হতো এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তখন ইসলামই নারীকে স্বাধীন সত্তা, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছিল।
ইসলামের প্রথম ইমানদার ব্যক্তিত্ব খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম সফল ও স্বাধীন নারী উদ্যোক্তা। পর্দা বা শালীন পোশাক নারীকে দমনের জন্য নয়, বরং জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা, স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদার সুরক্ষা কবচ। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)
ইসলামে কি বংশীয় বৈষম্য রয়েছে
ইসলাম সম্পর্কে আরেকটি অপপ্রচার হলো ইসলাম আরবদের জন্য। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- ইসলাম গায়ের রং বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি বেলাল (রা.)-কে ইসলাম মদিনার প্রধান মুয়াজ্জিন এবং উম্মাহর সম্মানিত নেতার আসনে আসীন করেছিলেন।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী (সা.) বর্ণবাদের অবসান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)

ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা
সিজেডএন ডেস্ক

ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা ও শান্তি। অর্থাৎ শান্তির ধর্ম হিসেবে মহান আল্লাহ ইসলামকে মনোনীত করেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম (জীবনবিধান) হলো ইসলাম।’ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন মহান আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩)। তবে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই এর মূল শিক্ষা, দর্শন ও মূলনীতির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায়ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাব, একপেশে গণমাধ্যম এবং পক্ষপাতমূলক বয়ানের কারণে অনেকের মনে ইসলাম সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়ে আছে।
অনেকের ধারণা, ইসলাম সহিংসতা উসকে দেয়, নারীর অধিকার খর্ব করে, কোরআন মানুষের রচিত সাহিত্য কিংবা ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে সমর্থন করে। তবে সত্য অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এসব প্রচারণা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রচলিত এমন কিছু ভুল ধারণা ও তার নেপথ্য সত্য।
আল্লাহ কি কোনো বিশেষ জাতির জন্য?
ইসলাম সম্পর্কে একটি বহুল প্রচলিত অপপ্রচার হলো, ‘আল্লাহ’ নাকি বিশেষ জাতির জন্য। তিনি নাকি প্রাচীন আরবের ‘চাঁদের দেবতা’ (মুন গড)। তবে এটা ভাষাতাত্ত্বিক অজ্ঞতা ও ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
‘আল্লাহ’ কোনো বিশেষ গোত্রীয় দেবতার নাম নয়। আল্লাহ একটি আরবি শব্দ। যা ‘আল-ইলাহ’ (একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত) থেকে এসেছে। আরবিভাষী খ্রিষ্টান ও ইহুদিরাও স্রষ্টা বোঝাতে প্রাচীনকাল থেকেই ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছেন।
পবিত্র কোরআনের শুরুতেই আল্লাহকে সার্বজনীন রব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরা ফাতিহার ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’
অর্থাৎ, তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রভু নন; তিনি সমগ্র সৃষ্টির একক অধিপতি।
কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া কি প্রতিমা পূজা?
সুরা বাকারার ১৪৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদের প্রতি কিতাব নাজিল করা হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।’
অর্থাৎ আল্লাহ মসজিদুল হারাম বা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন। তবে এটাকে অনেকেই প্রতিমা বা পাথরপূজা হিসেবে দেখেন। তবে এটি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ভৌগোলিক ও আত্মিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। মুসলিমরা কখনো কাবার ইবাদত করে না, বরং কাবার একমাত্র রবের ইবাদত করে।
মুহাম্মদ (সা.) কি সাম্রাজ্যবাদী শাসক ছিলেন
ইতিহাসে বহু অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)। কোনো কোনো মহলে তাকে তরবারির জোরে ধর্ম প্রচারকারী কিংবা নিছক রাজনৈতিক শাসক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো, তিনি যে যুদ্ধগুলো করেছিলেন, সেগুলো ছিলো প্রতিরক্ষামূলক। মক্কার চরমতম নির্যাতন ও ১৩ বছরের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখেও তিনি অহিংসার পথ ত্যাগ করেননি। মদিনায় তিনি যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক চুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা।
আল্লাহ-তাআলা নবীজিকে সমগ্র পৃথিবীর জন্য করুণার দূত হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
তার বিনয়, সততা, শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে ক্ষমা করার মানসিকতা এবং চরিত্রমাধুর্যই কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।
কোরআন কি মানুষের রচিত সাহিত্য
মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ইসলাম সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও অপপ্রচার রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মহাগ্রন্থ আল কোরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর স্বরচিত কাব্য। আবার অনেক মহল বলে থাকেন, এটি পূর্ববর্তী তাওরাত বা ইঞ্জিলের রূপান্তর।
অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো মহানবী (সা.) ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন এক ‘বান্দাহ’। পবিত্র কোরআন কোনো মানুষের চিন্তা নয়, বরং ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নাজিল হওয়া মহান আল্লাহর বাণী।
মহানবী সা. এর যুগ থেকেই কোরআন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাহিত্য বলা হয়েছে। তবে মহান আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সুরা রচনা করে নিয়ে এসো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩)
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কোনো ভাষাবিদ বা সাহিত্যিক কোরআনের একটি ছোট সুরার সমতুল্য কিছু রচনা করতে পারেনি।
অন্যদিকে মহান আল্লাহ নিজেই এই গ্রন্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সূরা হিজরের ৯ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’
ইসলাম কি সহিংসতাকে সমর্থন করে?
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসলামকে ‘উগ্রবাদ’ ও সন্ত্রাসের সমার্থক বা জঙ্গিবাদী ধর্ম হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থই হলো- শান্তি ও আত্মসমর্পণ।
কোরআনে বহু যুদ্ধের উল্লেখ আছে। তবে সেগুলো ছিলো আত্মরক্ষামূলক। আর যুদ্ধের যে বিধান এসেছে, তা সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষা ও আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত করার সুযোগও ইসলামে দেওয়া হয়নি।
সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘লা ইকরা ফিদ দ্বীন।’ অর্থাৎ, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।
সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি বানী ইসরাঈলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা যমীনে ফ্যাসাদ (সন্ত্রাস) সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ বাঁচালো।’
ইসলাম কি নারীকে বন্দি বা শৃঙ্খলিত করে?
ইসলাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে নারীদের নিয়ে। বিশাল একটা গোষ্ঠী মনে করেন, ইসলাম ধর্মে নারীদের খাটো করে দেখানো হয়েছে, তাদের বাড়িতে বন্দি করে রাখতে চায়। এমনকি না বুঝে অনেক মুসলমানও এমনটি ভেবে থাকেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- সপ্তম শতকে যখন গোটা বিশ্বে নারীকে ভোগ্য পণ্য মনে করা হতো এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তখন ইসলামই নারীকে স্বাধীন সত্তা, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছিল।
ইসলামের প্রথম ইমানদার ব্যক্তিত্ব খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম সফল ও স্বাধীন নারী উদ্যোক্তা। পর্দা বা শালীন পোশাক নারীকে দমনের জন্য নয়, বরং জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা, স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদার সুরক্ষা কবচ। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)
ইসলামে কি বংশীয় বৈষম্য রয়েছে
ইসলাম সম্পর্কে আরেকটি অপপ্রচার হলো ইসলাম আরবদের জন্য। তবে ঐতিহাসিক সত্য হলো- ইসলাম গায়ের রং বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি বেলাল (রা.)-কে ইসলাম মদিনার প্রধান মুয়াজ্জিন এবং উম্মাহর সম্মানিত নেতার আসনে আসীন করেছিলেন।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী (সা.) বর্ণবাদের অবসান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৮৯)

কোরআনে যাদের সফল বলেছেন আল্লাহ
যে আমল আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বাঁচায়
জুমার দিনের যে আমলে মাফ হয় দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ-CznNewsLab-297090.jpg)






