শিরোনাম

নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯
নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবঘাটে উদ্ধারকর্মীরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪৬৮ জন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে হেলিকপ্টারে ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এ ছাড়া স্থলপথে আরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৭৯৬ জনকে। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের আকাশপথে কাঠমান্ডুতে নিয়ে গেছে নেপাল সেনাবাহিনী। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে চিতওয়ান থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, তানাহুন ও নাওয়ালপরাসি থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর অন্তত ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও শুল্ক দপ্তরে কাজ করা প্রায় ১৬০ জনও নিখোঁজ রয়েছেন।

তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে সীমান্তের দুই পাশে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৮। হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্থলভিত্তিক উদ্ধারকারী দল বিচ্ছিন্ন জনপদ, নদীর তীর ও নিম্নাঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য জরুরি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং পর্যটক দল রয়েছে।

উদ্ধারকারীরা যখন জীবিতদের খুঁজছেন, তখন ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে গড়ে ওঠা একটি বাধা হ্রদকে ঘিরে নতুন এক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে জমতে পারে। এতে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে নদীর তীর থেকে দূরে থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মী এবং উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দলগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ হ্রদটির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং বন্যার সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে। যোগাযোগ ও শনাক্তকরণ সরঞ্জাম নিয়ে একটি চীনা উদ্ধারকারী দলও উজানের বাধা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জিরংয়ে পৌঁছেছে।

/এসবি/