শিরোনাম

মক্কা জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার পথ খোলা: পাকিস্তান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মক্কা জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার পথ খোলা: পাকিস্তান
মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান

সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলে সরকার এতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে ইসলামাবাদ রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামি সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি কী রকম হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই চুক্তিটি সই হয়। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় তেহরানও। যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে। আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বৃহস্পতিবার সংসদে বাংলাদেশ ‘মক্কা চুক্তিতে’ যোগ দিলে দেশের সম্ভাব্য সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানতে চান রুমিন ফারহানা। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে নেই। কারণ বিষয়টি মূলত চুক্তিতে বর্তমানে যুক্ত দেশগুলোর আগ্রহ ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তারা যদি বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে অবশ্যই আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর আগে চুক্তিতে যোগদানের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা সময়ের আগেই হয়ে যাবে। তবে এটি সব বিষয়ই সরকার বিবেচনায় রাখবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশের দৃষ্টিতে তিন দেশের এই উদ্যোগ ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের এ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বর্তমান সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর ওপর।

তিনি আরও বলেন, এটিকে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। চুক্তিটি মুসলিম সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এর আগে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে বলেন, এই চুক্তিতে দেশটির যোগদানের বিষয়ে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে আন্দ্রাবি বলেন, একটি ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে এমজেডিএ সেইসব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে যারা সম্মিলিত দায়বদ্ধতা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি তাদের অঙ্গীকারে অংশীদার।

তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটির বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রধান সামরিক শক্তিকে একত্রিত করেছে। পাকিস্তানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক সদস্য রয়েছে। এছাড়া এটি মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ, আঞ্চলিক প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং তাদের বৃহৎ সামরিক ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ

/জেএইচ/