আলোচনায় থাকলেও জয় পাননি যেসব প্রার্থী

আলোচনায় থাকলেও জয় পাননি যেসব প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলের জয় নিশ্চিত হলেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একঝাঁক পরিচিত মুখের পরাজয়। জাতীয় রাজনীতি, টকশো, আন্দোলন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে তাদের ঘিরে আলোচনা ছিল অনেক। কিন্তু মাঠের ভোটের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও হেরে গেছেন অনেকেই।

সারজিস আলম
তরুণদের মধ্যে পরিচিত এই মুখ নির্বাচনের আগে আলোচনায় ছিলেন। পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

তাসনিম জারা
স্বাস্থ্য খাতে সক্রিয়তা ও সামাজিক উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচনি মাঠে দলীয় কাঠামো ও স্থানীয় সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা-৯ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন।

নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাস আর নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটের প্রচারণার নানা কথা সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তার মোট ভোট ৫৯ হাজার ৩৬৬।
অন্যদিকে, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তার পক্ষে মোট ভোট পড়েছে ৫৪ হাজার ১২৭টি।

শিশির মনির
আইন অঙ্গনে পরিচিত এই প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হেরে গেছেন। বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। অন্যদিকে শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ
টেলিভিশন বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে সক্রিয় থাকলেও ভোটের মাঠে সাংগঠনিক শক্তির ঘাটতি স্পষ্ট হয় ব্যারিস্টার ফুয়াদের। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ব্যারিস্টার ফুয়াদ)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ব্যারিস্টার ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

মজিবুর রহমান মঞ্জু
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও নিজ আসনে সমীকরণ মেলাতে পারেননি মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু ঈগল প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন।

মামুনুল হক
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী হলেও ভোটের অংকে সেই প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট।

গোলাম পরওয়ার
দলীয়ভাবে পরিচিত মুখ হলেও আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হন গোলাম পরওয়ার। খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭০২।

মাহমুদুর রহমান মান্না
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে ভোট পাওয়ার সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৪২৬। ফলে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।

সাইফুল হক
ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। ২২ হাজার ১৮০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। এ আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলের জয় নিশ্চিত হলেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একঝাঁক পরিচিত মুখের পরাজয়। জাতীয় রাজনীতি, টকশো, আন্দোলন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে তাদের ঘিরে আলোচনা ছিল অনেক। কিন্তু মাঠের ভোটের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও হেরে গেছেন অনেকেই।

সারজিস আলম
তরুণদের মধ্যে পরিচিত এই মুখ নির্বাচনের আগে আলোচনায় ছিলেন। পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

তাসনিম জারা
স্বাস্থ্য খাতে সক্রিয়তা ও সামাজিক উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচনি মাঠে দলীয় কাঠামো ও স্থানীয় সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা-৯ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন।

নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাস আর নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটের প্রচারণার নানা কথা সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তার মোট ভোট ৫৯ হাজার ৩৬৬।
অন্যদিকে, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তার পক্ষে মোট ভোট পড়েছে ৫৪ হাজার ১২৭টি।

শিশির মনির
আইন অঙ্গনে পরিচিত এই প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হেরে গেছেন। বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। অন্যদিকে শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ
টেলিভিশন বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে সক্রিয় থাকলেও ভোটের মাঠে সাংগঠনিক শক্তির ঘাটতি স্পষ্ট হয় ব্যারিস্টার ফুয়াদের। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ব্যারিস্টার ফুয়াদ)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ব্যারিস্টার ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

মজিবুর রহমান মঞ্জু
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও নিজ আসনে সমীকরণ মেলাতে পারেননি মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু ঈগল প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন।

মামুনুল হক
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী হলেও ভোটের অংকে সেই প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট।

গোলাম পরওয়ার
দলীয়ভাবে পরিচিত মুখ হলেও আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হন গোলাম পরওয়ার। খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭০২।

মাহমুদুর রহমান মান্না
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে ভোট পাওয়ার সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৪২৬। ফলে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।

সাইফুল হক
ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। ২২ হাজার ১৮০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। এ আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

আলোচনায় থাকলেও জয় পাননি যেসব প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলের জয় নিশ্চিত হলেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একঝাঁক পরিচিত মুখের পরাজয়। জাতীয় রাজনীতি, টকশো, আন্দোলন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে তাদের ঘিরে আলোচনা ছিল অনেক। কিন্তু মাঠের ভোটের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও হেরে গেছেন অনেকেই।

সারজিস আলম
তরুণদের মধ্যে পরিচিত এই মুখ নির্বাচনের আগে আলোচনায় ছিলেন। পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

তাসনিম জারা
স্বাস্থ্য খাতে সক্রিয়তা ও সামাজিক উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচনি মাঠে দলীয় কাঠামো ও স্থানীয় সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা-৯ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন।

নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাস আর নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটের প্রচারণার নানা কথা সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তার মোট ভোট ৫৯ হাজার ৩৬৬।
অন্যদিকে, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তার পক্ষে মোট ভোট পড়েছে ৫৪ হাজার ১২৭টি।

শিশির মনির
আইন অঙ্গনে পরিচিত এই প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হেরে গেছেন। বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। অন্যদিকে শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ
টেলিভিশন বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে সক্রিয় থাকলেও ভোটের মাঠে সাংগঠনিক শক্তির ঘাটতি স্পষ্ট হয় ব্যারিস্টার ফুয়াদের। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ব্যারিস্টার ফুয়াদ)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ব্যারিস্টার ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

মজিবুর রহমান মঞ্জু
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও নিজ আসনে সমীকরণ মেলাতে পারেননি মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু ঈগল প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন।

মামুনুল হক
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী হলেও ভোটের অংকে সেই প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট।

গোলাম পরওয়ার
দলীয়ভাবে পরিচিত মুখ হলেও আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হন গোলাম পরওয়ার। খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭০২।

মাহমুদুর রহমান মান্না
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে ভোট পাওয়ার সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৪২৬। ফলে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।

সাইফুল হক
ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। ২২ হাজার ১৮০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। এ আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।




