শিরোনাম

অতীতে ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অতীতে ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবে: নাহিদ ইসলাম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

অতীতে ছাত্রলীগ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্লাটফর্মের নেতৃবৃন্দের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

এদিন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, আপ বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্লাটফর্মের ৩৫ জন নেতাকর্মী এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল করুক, ছাত্রশিবির করুক, ছাত্রলীগ করুক এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আজকে থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবে, সে এনসিপির নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবে। এনসিপির আদর্শকে ধারণ করে কাজ করবে। তবে কোনো ফ্যাসিজমে অংশগ্রহণকারী, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, গণহত্যাকে সমর্থনকারী, চাঁদাবাজ-দুর্নীতির দ্বারা অভিযোগ অভিযুক্ত সন্ত্রাসী— এ ধরনের কোনো ব্যক্তি কখনোই এনসিপিতে আসতে পারবে না। এনসিপিতে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, আজকে যারা আসছে, আমরা মনে করি–তারা আমাদের সাথেই এতদিন ছিলেন। আমরা একসাথেই ছিলাম, হয়তো প্লাটফর্ম ভিন্ন ছিল। আজকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হচ্ছি এবং সারাদেশের তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি সব বয়সি মানুষদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি, এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করুন। এনসিপিতে যোগ দিন। এনসিপিকে নানাভাবে সহযোগিতা করুন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রে যাতে উদ্ভব না ঘটে এই জন্য তরুণদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে সংস্কারের পক্ষে। সেই রায়কে আমাদেরকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা দেখছি, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত ও গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে সংগ্রাম গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু হয়েছে, সেই সংগ্রামকে আমাদের সম্পূর্ণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি—আমরা শুধু দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে, দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

/এফআর/