শিরোনাম

বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে ভারত হাসিনাকে টুলস হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে ভারত হাসিনাকে টুলস হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন । ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘৫ আগস্ট ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ তাদেরকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটাকে কীভাবে প্রশ্রয় দিলো। এর মাধ্যমে আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সেজন্য শেখ হাসিনাকে আবারও তারা বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে একটা টুলস হিসেবে ব্যবহার করছে।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে, একজন পলাতক আসামি কী সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারে। ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে সে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড এবং বার্তা পাঠাচ্ছে।’

শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়ায় ভারতের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘যে তারিখে তার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার বলেছে, ‘‘এটার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’’ তবে এ জাতীয় একটা ইভেন্ট করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের যদি গ্রিন সিগন্যাল না থাকে, তাহলে একজন খুনি এবং পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘যদি বাংলাদেশে আবারও শেখ হাসিনা আসে তাহলেে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দিবে না।’

জুলাইয়ের চেতনার প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের ক্রেডিট নিয়ে ভাগাভাগি করলে ক্ষতি সবারই হবে। পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটলে, এদেশ চিরদিনের জন্য স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হারাবে। অতএব সবাইকে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিনসহ আরও অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

/বিবি/