শিরোনাম

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পাঁচ ছাত্র সংসদের গণজমায়েত

ঢাবি প্রতিনিধি
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পাঁচ ছাত্র সংসদের গণজমায়েত
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত করেছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত করেছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।

গণজমায়েতে বিভিন্ন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা– ঢাকা, ঢাকা’, ‘তোমার দেশ, আমার দেশ– বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’, ‘গোলামি না আজাদী– আজাদী, আজাদী’, ‘ভারত না বাংলাদেশ– বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ এবং ‘হ্যাঁ-তে সিল দিন’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

গণজমায়েতে বক্তব্য দেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বিপন্ন করতে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদের দোসররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যখন সারাদেশে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চলছে, তখন ডিপস্টেটের একটি অংশ, কিছু গণমাধ্যম, ফ্যাসিস্টদের একটি অংশ এবং দিল্লির অনুসারীরা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে সহযোগিতা করা জাতীয় পার্টি এখন ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জিএম কাদেরসহ জাতীয় পার্টির নেতাদের ভারতের এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তাঁদের গত ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের নেতা দেশে ফেরার পর ভারতের ভাষায় কথা বলছে। তারা একবার কষ্ট করে ‘হ্যাঁ’-এর কথা বললেও এখন তাদের প্রচারণা থেকে ‘হ্যাঁ’ উধাও। ব্যানারের কোনো কোণায়ও ‘হ্যাঁ’ খুঁজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, এ দেশে রাজনীতি করতে হলে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওসমান হাদিকে ধারণ করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘হ্যাঁ’ মানে নতুন বাংলাদেশ, ‘হ্যাঁ’ মানে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ‘হ্যাঁ’ মানে দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা। ‘না’ মানে গোলামি– এ মন্তব্যও করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পেয়েছে– এই রক্তের সঙ্গে যেন বেইমানি না করা হয়। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো নির্বাচন হলে আবার জুলাই ফিরে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গণজমায়েতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সমাজ কাঠামোর স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় পুরোনো ফ্যাসিবাদ যেন কোনোভাবেই ফিরে না আসে–এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সব ছাত্র সংসদ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জনগণকে সচেতন করতে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবে তারা। তবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে কথা বললেই একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা নিজেদের বিরুদ্ধে হিসেবে নেয়– এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে ছাত্রসমাজ মাঠে নেমেছে। কেউ যদি এই অবস্থানকে নিজেদের আদর্শের বিরুদ্ধে মনে করে, তাহলে তারাই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/এসএ/