শিরোনাম

গাইবান্ধায় হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
গাইবান্ধায় হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ
গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২২ জুন) রাত সাড়ে নয়টার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শাহবাগ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাধীন বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের শাসন কায়েম করার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে সাইফুল্লাহ হত্যার বিচার এবং খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে দেশব্যাপী তীব্র রাজপথ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

এসময় প্রধান বক্তা হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি, রাজপথে অসংখ্য ভাইকে হারিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, জুলাই-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে এসে একটি দল একই রক্তক্ষয়ী রাস্তা অবলম্বন করছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, জুলাই-পরবর্তী ১০০ দিনে দেশে ৪০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গত চার মাসে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ২৮৫ জনকে হত্যা করেছে।

শিবির সভাপতি আরও বলেন, একটি স্কুলের কমিটি গঠন ও বিভিন্ন জায়গায় দখল-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এদের কর্মকাণ্ডের সাথে কার্যত আওয়ামী লীগের কোনো তফাৎ নেই। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, খুনিদের গ্রেফতার করার পর যেন প্রহসনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া না হয়। একই সাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে যারা সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করছে, দেশের বীর জনতা তাদের মসনদ তছনছ করে দিবে। অবিলম্বে সাইফুল্লাহসহ যুবদল ও ছাত্রদলের হাতে নিহত ও নির্যাতিতদের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপিকে ‘নব্য ডাকাত দল’ এবং ‘বাংলার ইয়াজুজ-মাজুজ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, গুম ও লাশের রাজনীতি ছিল ডাইনি হাসিনার। এখন বিএনপি দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও মাঠ-ঘাটসহ সব জায়গায় ডাকাতি ও দখলদারিত্ব শুরু করেছে। তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করতে চায় এ দেশটা যেন তাদের বাপের। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রদলের হাতে শিবিরের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং সর্বশেষ গাইবান্ধায় যুবদলের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাইফুল্লাহ।

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসাবে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুকুল, যুবদল নেতা পলাশ, মশিউর, রবিউল এবং আনিসুরের নাম উল্লেখ করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান দপ্তর সম্পাদক। একই সাথে যেসব ডিসি ও ইউএনও অন্যায়ভাবে বিএনপিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করতে স্পেস দিচ্ছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, চোখ থেকে বিএনপির চশমা খুলে জনগণের সেবকের চশমা পরুন। কালক্ষেপণ না করে খুনিদের গ্রেফতার করুন, নতুবা ৫ই আগস্টের পর থানার যে পরিস্থিতি হয়েছিল, গাইবান্ধাবাসী আবারও সেই উত্তম-মাধ্যম দিলে পিঠ বাঁচানোর জায়গা পাবেন না।

নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট বার্তায় বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কচুপাতার পানি নয় এবং শিবির ছাড় দিলেও ছেড়ে দেয় না। প্রতিটি আঘাত ও খুনের বদলা নেওয়া হবে। যদি সরকার এই হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে নব্য স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘সরকার হঠাও’ আন্দোলন শুরু করা হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু জাফর মুসা, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ইজাজুল ইসলাম, জাসু জিএস ও জবি শিবির সভাপতি আব্দুল হালিম আরিফ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি কাজী আশিকসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।

/এমআর/