শিরোনাম

সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে: রিজভী
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে চলমান এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়, এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমন কী চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’ এর প্রতিবাদে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের শঙ্কার কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও সেখানে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে 'বিশ্রাম মঞ্জিল' বানাতে চাইছে। এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং ইনক্লুসিভ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৭ বছরের ময়লা-জঞ্জাল এবং অরাজকতার পরে দেশকে উজ্জ্বল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে তারেক রহমান দিন-রাত কাজ করছেন।

শেখ হাসিনার সরকার গুম-খুন করেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একটি সরকার যদি গুম, খুন এবং বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে, তাহলে সেই সরকার কখনো উজ্জ্বল হবে না। যেটা শেখ হাসিনার সরকার করেছে। তিনি দেশকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে দেশকে নিয়ে গেছেন।

বিরোধীদল সকাল-সন্ধ্যা বিরোধিতা করছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তারা পার্লামেন্টে শুধু সমালোচনাই নয়, গালাগালও করছেন। এরপরে, পার্লামেন্টের বাইরে গিয়ে মিথ্যা কথাও বলছেন। কিন্তু বিরোধীদলের কোনো নেতা কী এখন পর্যন্ত গুম হয়েছে? বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে?

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কেএম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

/এসআর/