মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য মানুষ ভোট দেয়নি: আনু মুহাম্মদ

মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য মানুষ ভোট দেয়নি: আনু মুহাম্মদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য দেশের মানুষ ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা সরকারের কাছ থেকে সব সময় শুনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, সবার শেষে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছে, সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ, সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা ট্রাম্পের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষ তো এ জন্য ভোট দেয়নি। এমনও মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়নি, ভোট দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, ডিপি ওয়ার্ল্ড কিংবা এশিয়া এনার্জি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, যেটার ওপর পুরো অর্থনীতি নির্ভর করে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায় যেটা অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড, সেটা আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের তুলনা হতে পারে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সক্ষমতা রয়েছে। যারা বন্দর পরিচালনা করছে, নৌবাহিনী কিংবা বেসরকারি কোম্পানি, তারা সেটি পরিচালনার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারই সেই পথে যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের মানুষ যে কারণে বারবার লড়াই করেছে, আমরা ক্রমাগত সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাব।
তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি ন্যূনতম গুরুত্ব থাকলে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হতো। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের সুপরিবর্তনের সূচনা দেখতে পাচ্ছি না। পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি করতে হবে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন ও প্রতিরোধের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা যে সর্বনাশ থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম, সেই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। বন্দরকে আরও দক্ষ ও সক্ষম করতে হলে কাস্টমসের পরিবর্তন, আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। এসবের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানি আনার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বিদেশি কোম্পানি আনার অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও সামরিক মাত্রাও রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, বাংলাদেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, নিউমুরিং ও লালদিয়ার এপিএম টার্মিনালসহ একের পর এক নতুন বন্দর ও টার্মিনাল হচ্ছে। বর্তমানে দেশে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৮৬ লাখ টিইইউতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপুল সক্ষমতা আমাদের আদৌ কতটা প্রয়োজন হবে। কারণ কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে না। একইসঙ্গে নতুন টার্মিনালগুলোকে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে মুনাফা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল সমস্যা শুধু বন্দরের সক্ষমতার ঘাটতি নয়। কাস্টমসে পণ্য খালাসে বিলম্ব, কনটেইনার ও ট্রাকের জট এবং রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাও বড় সংকট। এসব সমস্যার সমাধান না করে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করে সক্ষমতা বাড়ালেও ব্যাকলগ থেকেই যাবে। একইভাবে জ্বালানি সংকটের মধ্যে এলএনজি-নির্ভরতা বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং আমদানি-রপ্তানির চাহিদাও কমতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর আগে দেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি, কাস্টমস ও পরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে আদৌ এত বড় সক্ষমতার প্রয়োজন আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, বন্দরের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্নও জড়িত। লাভজনক টার্মিনালসহ দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিদেশি ও বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ বলতে জনগণের স্বার্থকেই বোঝায়। তাই জনগণের সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের যে প্রবণতা আগের ও বর্তমান সরকারগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা জরুরি।
তিনি বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং বাণিজ্য চুক্তির নামে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে এবং আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।
মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন জড়িত। বিভিন্ন দেশ বন্দর পরিচালনা ও মালিকানায় বিদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করেছে। এমনকী যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগও কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে আটকে গেছে। অথচ বাংলাদেশে জনগণের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে চুক্তির বিভিন্ন শর্তও প্রকাশ করা হচ্ছে না। জনগণের সম্পদ কাকে, কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে– তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বন্দরের অস্তিত্ব রয়েছে এবং ১৮৮৭ সালে আধুনিক বন্দরব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়। এত দীর্ঘ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া বন্দর পরিচালিত হলেও এখন কেন বিদেশি বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন হচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার প্রমুখ।

মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য দেশের মানুষ ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা সরকারের কাছ থেকে সব সময় শুনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, সবার শেষে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছে, সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ, সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা ট্রাম্পের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষ তো এ জন্য ভোট দেয়নি। এমনও মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়নি, ভোট দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, ডিপি ওয়ার্ল্ড কিংবা এশিয়া এনার্জি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, যেটার ওপর পুরো অর্থনীতি নির্ভর করে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায় যেটা অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড, সেটা আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের তুলনা হতে পারে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সক্ষমতা রয়েছে। যারা বন্দর পরিচালনা করছে, নৌবাহিনী কিংবা বেসরকারি কোম্পানি, তারা সেটি পরিচালনার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারই সেই পথে যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের মানুষ যে কারণে বারবার লড়াই করেছে, আমরা ক্রমাগত সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাব।
তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি ন্যূনতম গুরুত্ব থাকলে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হতো। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের সুপরিবর্তনের সূচনা দেখতে পাচ্ছি না। পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি করতে হবে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন ও প্রতিরোধের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা যে সর্বনাশ থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম, সেই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। বন্দরকে আরও দক্ষ ও সক্ষম করতে হলে কাস্টমসের পরিবর্তন, আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। এসবের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানি আনার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বিদেশি কোম্পানি আনার অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও সামরিক মাত্রাও রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, বাংলাদেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, নিউমুরিং ও লালদিয়ার এপিএম টার্মিনালসহ একের পর এক নতুন বন্দর ও টার্মিনাল হচ্ছে। বর্তমানে দেশে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৮৬ লাখ টিইইউতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপুল সক্ষমতা আমাদের আদৌ কতটা প্রয়োজন হবে। কারণ কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে না। একইসঙ্গে নতুন টার্মিনালগুলোকে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে মুনাফা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল সমস্যা শুধু বন্দরের সক্ষমতার ঘাটতি নয়। কাস্টমসে পণ্য খালাসে বিলম্ব, কনটেইনার ও ট্রাকের জট এবং রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাও বড় সংকট। এসব সমস্যার সমাধান না করে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করে সক্ষমতা বাড়ালেও ব্যাকলগ থেকেই যাবে। একইভাবে জ্বালানি সংকটের মধ্যে এলএনজি-নির্ভরতা বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং আমদানি-রপ্তানির চাহিদাও কমতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর আগে দেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি, কাস্টমস ও পরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে আদৌ এত বড় সক্ষমতার প্রয়োজন আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, বন্দরের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্নও জড়িত। লাভজনক টার্মিনালসহ দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিদেশি ও বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ বলতে জনগণের স্বার্থকেই বোঝায়। তাই জনগণের সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের যে প্রবণতা আগের ও বর্তমান সরকারগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা জরুরি।
তিনি বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং বাণিজ্য চুক্তির নামে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে এবং আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।
মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন জড়িত। বিভিন্ন দেশ বন্দর পরিচালনা ও মালিকানায় বিদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করেছে। এমনকী যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগও কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে আটকে গেছে। অথচ বাংলাদেশে জনগণের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে চুক্তির বিভিন্ন শর্তও প্রকাশ করা হচ্ছে না। জনগণের সম্পদ কাকে, কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে– তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বন্দরের অস্তিত্ব রয়েছে এবং ১৮৮৭ সালে আধুনিক বন্দরব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়। এত দীর্ঘ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া বন্দর পরিচালিত হলেও এখন কেন বিদেশি বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন হচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার প্রমুখ।

মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য মানুষ ভোট দেয়নি: আনু মুহাম্মদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য দেশের মানুষ ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা সরকারের কাছ থেকে সব সময় শুনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, সবার শেষে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছে, সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ, সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা ট্রাম্পের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষ তো এ জন্য ভোট দেয়নি। এমনও মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়নি, ভোট দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, ডিপি ওয়ার্ল্ড কিংবা এশিয়া এনার্জি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, যেটার ওপর পুরো অর্থনীতি নির্ভর করে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায় যেটা অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড, সেটা আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের তুলনা হতে পারে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সক্ষমতা রয়েছে। যারা বন্দর পরিচালনা করছে, নৌবাহিনী কিংবা বেসরকারি কোম্পানি, তারা সেটি পরিচালনার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারই সেই পথে যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের মানুষ যে কারণে বারবার লড়াই করেছে, আমরা ক্রমাগত সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাব।
তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি ন্যূনতম গুরুত্ব থাকলে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হতো। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের সুপরিবর্তনের সূচনা দেখতে পাচ্ছি না। পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি করতে হবে।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন ও প্রতিরোধের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা যে সর্বনাশ থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম, সেই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। বন্দরকে আরও দক্ষ ও সক্ষম করতে হলে কাস্টমসের পরিবর্তন, আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। এসবের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানি আনার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বিদেশি কোম্পানি আনার অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও সামরিক মাত্রাও রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, বাংলাদেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, নিউমুরিং ও লালদিয়ার এপিএম টার্মিনালসহ একের পর এক নতুন বন্দর ও টার্মিনাল হচ্ছে। বর্তমানে দেশে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৮৬ লাখ টিইইউতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপুল সক্ষমতা আমাদের আদৌ কতটা প্রয়োজন হবে। কারণ কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে না। একইসঙ্গে নতুন টার্মিনালগুলোকে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে মুনাফা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল সমস্যা শুধু বন্দরের সক্ষমতার ঘাটতি নয়। কাস্টমসে পণ্য খালাসে বিলম্ব, কনটেইনার ও ট্রাকের জট এবং রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাও বড় সংকট। এসব সমস্যার সমাধান না করে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করে সক্ষমতা বাড়ালেও ব্যাকলগ থেকেই যাবে। একইভাবে জ্বালানি সংকটের মধ্যে এলএনজি-নির্ভরতা বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং আমদানি-রপ্তানির চাহিদাও কমতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর আগে দেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি, কাস্টমস ও পরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে আদৌ এত বড় সক্ষমতার প্রয়োজন আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, বন্দরের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্নও জড়িত। লাভজনক টার্মিনালসহ দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিদেশি ও বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ বলতে জনগণের স্বার্থকেই বোঝায়। তাই জনগণের সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের যে প্রবণতা আগের ও বর্তমান সরকারগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা জরুরি।
তিনি বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং বাণিজ্য চুক্তির নামে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে এবং আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।
মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন জড়িত। বিভিন্ন দেশ বন্দর পরিচালনা ও মালিকানায় বিদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করেছে। এমনকী যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগও কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে আটকে গেছে। অথচ বাংলাদেশে জনগণের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে চুক্তির বিভিন্ন শর্তও প্রকাশ করা হচ্ছে না। জনগণের সম্পদ কাকে, কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে– তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বন্দরের অস্তিত্ব রয়েছে এবং ১৮৮৭ সালে আধুনিক বন্দরব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়। এত দীর্ঘ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া বন্দর পরিচালিত হলেও এখন কেন বিদেশি বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন হচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুইটি টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ চায় ৪ প্রতিষ্ঠান







