স্মার্ট আইডি কার্ডে ভুল তথ্য: জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন যেভাবে করবেন

স্মার্ট আইডি কার্ডে ভুল তথ্য: জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন যেভাবে করবেন
সিজেডএন ডেস্ক

স্মার্ট আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা ভুল এসেছে? জেনে নিন খুব সহজেই ঘরে বসে এনআইডি সংশোধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ধাপে ধাপে আবেদন করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া।
এনআইডি বা স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের নিয়ম
বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টালের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।
১. এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
২. নির্ধারিত স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে।
৩. সংশোধনযোগ্য তথ্য সম্পাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত কার্যদিবস শেষে সংশোধনের অনুমোদন হলে ফি দেওয়ার সময় ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত এনআইডি কার্ড ওয়েবসাইটেও প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করার পর লেমিনেটিং করে ব্যবহার করা যাবে।
তবে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার অঞ্চল থেকে সরাসরি কার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে।
এনআইডি-সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সরকারি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
এনআইডি সংশোধনের ফি কত
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ফি মূলত দুই ধরনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
১. স্মার্ট কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য সংশোধন
স্মার্ট আইডি কার্ডের সামনের ও পেছনের অংশে যেসব তথ্য দেখা যায়, সেগুলো নিবন্ধনের সময় নাগরিকরা ফরম-২-এর মাধ্যমে প্রদান করেন।
কার্ডের সামনের অংশে থাকে—বাংলা ও ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম, বাংলায় পিতা ও মাতার নাম, ইংরেজিতে জন্ম তারিখ ও এনআইডি নম্বর এবং স্বাক্ষর।
অন্যদিকে কার্ডের পেছনে থাকে বাংলায় ঠিকানা, ইংরেজিতে রক্তের গ্রুপ এবং জন্মস্থান।
এসব তথ্যের যেকোনো একটি সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি হলো—
- প্রথমবার আবেদন: ২৩০ টাকা
- দ্বিতীয়বার আবেদন: ৩৪৫ টাকা
- তৃতীয়বারসহ পরবর্তী প্রতিবার: ৫৭৫ টাকা
২. কার্ডে প্রদর্শিত হয় না—এমন তথ্য সংশোধন
ফরম-২-এ দেওয়া এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্ডে সরাসরি প্রদর্শিত হয় না। এর মধ্যে রয়েছে পেশা, পাসপোর্ট ও মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংশোধনের জন্য ফি ১১৫ টাকা।
সংশোধন ফি বিকাশ, রকেট, ওকে ওয়ালেট এবং টি ক্যাশের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়। ফি দেওয়ার ৩০ মিনিট পর থেকে অনলাইনে তথ্য সম্পাদনের কাজ শুরু করা যাবে।
সংশোধিত স্মার্ট আইডি কার্ড হাতে পেতে সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এনআইডি কার্ডের কোন তথ্য সংশোধনে কী কাগজ লাগবে
ফি পরিশোধের পর তথ্য সম্পাদনের স্ক্রিন পাওয়া যাবে। সেখানে সংশোধনযোগ্য তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
এনআইডি কার্ডে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন
প্রার্থীর নাম অথবা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
১. জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র।
২. কমপক্ষে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্র।
তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা সমমানের নিচে হলে এবং প্রার্থী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অথবা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় কর্মরত থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চাকরির বই, মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও), ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট অথবা ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
৩. বিবাহিত হলে স্ত্রী বা স্বামীর এনআইডি কার্ড এবং কাবিননামার সত্যায়িত কপি।
নারীদের বিবাহসংক্রান্ত কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী কাবিননামা, তালাকনামা, স্বামীর মৃত্যু সনদ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক হলফনামা অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ ফরমানের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হতে পারে।
৪. ধর্ম পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণে পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কর্তৃক হলফনামা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি, ওয়ারিশ সনদপত্র, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নামসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র অথবা চাকরির বই, এমপিও, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে পিতা-মাতার নাম সংশোধন
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের সময়, যদি তাদের নাম উল্লেখ থাকে, তাহলে প্রার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের সনদপত্র এবং পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের এনআইডির সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
পিতা বা মাতার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দটি যুক্ত করতে হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। তারা জীবিত থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র এবং পিতা বা মাতার এনআইডি কার্ডের সত্যায়িত কপিও প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনে যেসব কাগজ লাগবে
ঠিকানা সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা বাড়িভাড়ার রশিদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
রক্তের গ্রুপ সংশোধন
জাতীয় পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হবে ডাক্তারি সনদপত্র।
এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন
শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
এনআইডি কার্ড সংশোধনে কারা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন
এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন—
- সংসদ সদস্য
- স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি
- গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান
এনআইডি কার্ড সংশোধনের আগে যে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি
স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্ডে প্রদর্শিত তথ্যগুলোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে একই তথ্য বারবার ভুল না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ধরনের ভুল এড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সময়ই প্রতিটি তথ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দেওয়া উচিত। এতে পরবর্তী সময়ে এনআইডি সংশোধনের ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
/এবি/

স্মার্ট আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা ভুল এসেছে? জেনে নিন খুব সহজেই ঘরে বসে এনআইডি সংশোধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ধাপে ধাপে আবেদন করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া।
এনআইডি বা স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের নিয়ম
বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টালের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।
১. এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
২. নির্ধারিত স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে।
৩. সংশোধনযোগ্য তথ্য সম্পাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত কার্যদিবস শেষে সংশোধনের অনুমোদন হলে ফি দেওয়ার সময় ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত এনআইডি কার্ড ওয়েবসাইটেও প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করার পর লেমিনেটিং করে ব্যবহার করা যাবে।
তবে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার অঞ্চল থেকে সরাসরি কার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে।
এনআইডি-সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সরকারি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
এনআইডি সংশোধনের ফি কত
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ফি মূলত দুই ধরনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
১. স্মার্ট কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য সংশোধন
স্মার্ট আইডি কার্ডের সামনের ও পেছনের অংশে যেসব তথ্য দেখা যায়, সেগুলো নিবন্ধনের সময় নাগরিকরা ফরম-২-এর মাধ্যমে প্রদান করেন।
কার্ডের সামনের অংশে থাকে—বাংলা ও ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম, বাংলায় পিতা ও মাতার নাম, ইংরেজিতে জন্ম তারিখ ও এনআইডি নম্বর এবং স্বাক্ষর।
অন্যদিকে কার্ডের পেছনে থাকে বাংলায় ঠিকানা, ইংরেজিতে রক্তের গ্রুপ এবং জন্মস্থান।
এসব তথ্যের যেকোনো একটি সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি হলো—
- প্রথমবার আবেদন: ২৩০ টাকা
- দ্বিতীয়বার আবেদন: ৩৪৫ টাকা
- তৃতীয়বারসহ পরবর্তী প্রতিবার: ৫৭৫ টাকা
২. কার্ডে প্রদর্শিত হয় না—এমন তথ্য সংশোধন
ফরম-২-এ দেওয়া এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্ডে সরাসরি প্রদর্শিত হয় না। এর মধ্যে রয়েছে পেশা, পাসপোর্ট ও মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংশোধনের জন্য ফি ১১৫ টাকা।
সংশোধন ফি বিকাশ, রকেট, ওকে ওয়ালেট এবং টি ক্যাশের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়। ফি দেওয়ার ৩০ মিনিট পর থেকে অনলাইনে তথ্য সম্পাদনের কাজ শুরু করা যাবে।
সংশোধিত স্মার্ট আইডি কার্ড হাতে পেতে সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এনআইডি কার্ডের কোন তথ্য সংশোধনে কী কাগজ লাগবে
ফি পরিশোধের পর তথ্য সম্পাদনের স্ক্রিন পাওয়া যাবে। সেখানে সংশোধনযোগ্য তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
এনআইডি কার্ডে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন
প্রার্থীর নাম অথবা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
১. জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র।
২. কমপক্ষে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্র।
তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা সমমানের নিচে হলে এবং প্রার্থী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অথবা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় কর্মরত থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চাকরির বই, মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও), ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট অথবা ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
৩. বিবাহিত হলে স্ত্রী বা স্বামীর এনআইডি কার্ড এবং কাবিননামার সত্যায়িত কপি।
নারীদের বিবাহসংক্রান্ত কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী কাবিননামা, তালাকনামা, স্বামীর মৃত্যু সনদ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক হলফনামা অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ ফরমানের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হতে পারে।
৪. ধর্ম পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণে পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কর্তৃক হলফনামা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি, ওয়ারিশ সনদপত্র, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নামসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র অথবা চাকরির বই, এমপিও, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে পিতা-মাতার নাম সংশোধন
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের সময়, যদি তাদের নাম উল্লেখ থাকে, তাহলে প্রার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের সনদপত্র এবং পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের এনআইডির সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
পিতা বা মাতার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দটি যুক্ত করতে হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। তারা জীবিত থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র এবং পিতা বা মাতার এনআইডি কার্ডের সত্যায়িত কপিও প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনে যেসব কাগজ লাগবে
ঠিকানা সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা বাড়িভাড়ার রশিদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
রক্তের গ্রুপ সংশোধন
জাতীয় পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হবে ডাক্তারি সনদপত্র।
এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন
শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
এনআইডি কার্ড সংশোধনে কারা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন
এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন—
- সংসদ সদস্য
- স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি
- গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান
এনআইডি কার্ড সংশোধনের আগে যে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি
স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্ডে প্রদর্শিত তথ্যগুলোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে একই তথ্য বারবার ভুল না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ধরনের ভুল এড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সময়ই প্রতিটি তথ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দেওয়া উচিত। এতে পরবর্তী সময়ে এনআইডি সংশোধনের ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
/এবি/

স্মার্ট আইডি কার্ডে ভুল তথ্য: জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন যেভাবে করবেন
সিজেডএন ডেস্ক

স্মার্ট আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা ভুল এসেছে? জেনে নিন খুব সহজেই ঘরে বসে এনআইডি সংশোধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ধাপে ধাপে আবেদন করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া।
এনআইডি বা স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের নিয়ম
বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টালের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।
১. এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
২. নির্ধারিত স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে।
৩. সংশোধনযোগ্য তথ্য সম্পাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত কার্যদিবস শেষে সংশোধনের অনুমোদন হলে ফি দেওয়ার সময় ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত এনআইডি কার্ড ওয়েবসাইটেও প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করার পর লেমিনেটিং করে ব্যবহার করা যাবে।
তবে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার অঞ্চল থেকে সরাসরি কার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে।
এনআইডি-সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সরকারি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
এনআইডি সংশোধনের ফি কত
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ফি মূলত দুই ধরনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
১. স্মার্ট কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য সংশোধন
স্মার্ট আইডি কার্ডের সামনের ও পেছনের অংশে যেসব তথ্য দেখা যায়, সেগুলো নিবন্ধনের সময় নাগরিকরা ফরম-২-এর মাধ্যমে প্রদান করেন।
কার্ডের সামনের অংশে থাকে—বাংলা ও ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম, বাংলায় পিতা ও মাতার নাম, ইংরেজিতে জন্ম তারিখ ও এনআইডি নম্বর এবং স্বাক্ষর।
অন্যদিকে কার্ডের পেছনে থাকে বাংলায় ঠিকানা, ইংরেজিতে রক্তের গ্রুপ এবং জন্মস্থান।
এসব তথ্যের যেকোনো একটি সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি হলো—
- প্রথমবার আবেদন: ২৩০ টাকা
- দ্বিতীয়বার আবেদন: ৩৪৫ টাকা
- তৃতীয়বারসহ পরবর্তী প্রতিবার: ৫৭৫ টাকা
২. কার্ডে প্রদর্শিত হয় না—এমন তথ্য সংশোধন
ফরম-২-এ দেওয়া এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্ডে সরাসরি প্রদর্শিত হয় না। এর মধ্যে রয়েছে পেশা, পাসপোর্ট ও মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংশোধনের জন্য ফি ১১৫ টাকা।
সংশোধন ফি বিকাশ, রকেট, ওকে ওয়ালেট এবং টি ক্যাশের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়। ফি দেওয়ার ৩০ মিনিট পর থেকে অনলাইনে তথ্য সম্পাদনের কাজ শুরু করা যাবে।
সংশোধিত স্মার্ট আইডি কার্ড হাতে পেতে সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এনআইডি কার্ডের কোন তথ্য সংশোধনে কী কাগজ লাগবে
ফি পরিশোধের পর তথ্য সম্পাদনের স্ক্রিন পাওয়া যাবে। সেখানে সংশোধনযোগ্য তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
এনআইডি কার্ডে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন
প্রার্থীর নাম অথবা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
১. জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র।
২. কমপক্ষে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্র।
তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা সমমানের নিচে হলে এবং প্রার্থী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অথবা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় কর্মরত থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চাকরির বই, মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও), ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট অথবা ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
৩. বিবাহিত হলে স্ত্রী বা স্বামীর এনআইডি কার্ড এবং কাবিননামার সত্যায়িত কপি।
নারীদের বিবাহসংক্রান্ত কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী কাবিননামা, তালাকনামা, স্বামীর মৃত্যু সনদ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক হলফনামা অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ ফরমানের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হতে পারে।
৪. ধর্ম পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণে পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কর্তৃক হলফনামা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি, ওয়ারিশ সনদপত্র, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নামসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র অথবা চাকরির বই, এমপিও, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে পিতা-মাতার নাম সংশোধন
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের সময়, যদি তাদের নাম উল্লেখ থাকে, তাহলে প্রার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের সনদপত্র এবং পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের এনআইডির সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
পিতা বা মাতার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দটি যুক্ত করতে হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। তারা জীবিত থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র এবং পিতা বা মাতার এনআইডি কার্ডের সত্যায়িত কপিও প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনে যেসব কাগজ লাগবে
ঠিকানা সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা বাড়িভাড়ার রশিদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
রক্তের গ্রুপ সংশোধন
জাতীয় পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হবে ডাক্তারি সনদপত্র।
এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন
শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
এনআইডি কার্ড সংশোধনে কারা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন
এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন—
- সংসদ সদস্য
- স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি
- গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান
এনআইডি কার্ড সংশোধনের আগে যে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি
স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্ডে প্রদর্শিত তথ্যগুলোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে একই তথ্য বারবার ভুল না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ধরনের ভুল এড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সময়ই প্রতিটি তথ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দেওয়া উচিত। এতে পরবর্তী সময়ে এনআইডি সংশোধনের ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
/এবি/









