শিরোনাম

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রথম সংসদে আইনে পরিণতের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রথম সংসদে আইনে পরিণতের আহ্বান
আত্মা’র সভা অনুষ্ঠিত (ছবি: সংগৃহীত)

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি পরবর্তী প্রথম সংসদ অধিবেশনে পাসের আহ্বান জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিএমএ ভবনে আয়োজিত এক সভায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাদেশটি প্রথম সংসদ অধিবেশনে পাশের প্রক্রিয়ায় কোম্পানির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠনটি।

আত্মা’র সভায় জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইন আকারে সংসদে গৃহীত হলে নতুন প্রজন্ম নিকোটিন পণ্য ব্যবহার শুরু করতে পারবেনা এবং অন্যান্য তামাকপণ্য ব্যবহারেও নিরুৎসাহিত হবে। নারী, শিশুসহ অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে। সার্বিকভাবে দেশে তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এই সাফল্যের স্থায়ী সুফল পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দেওয়া। আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনের সময় কোম্পানিগুলোর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের কারণে খোলা বা খুচরা তামাকপণ্য বিক্রয় বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ ও ফেরি করে তামাক বিক্রি বন্ধ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবসমূহ চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। ভবিষ্যত নীতি-প্রণেতাদের এবিষয়ে সজাগ থাকা এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৫ বছর তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। দেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। সুতরাং অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হলে সরকার এবং জনগণ উভয়ই লাভবান হবে।

সভায় ৫৬ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সংগঠনের কার্যক্রম এবং করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন আত্মা’র কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার হাসান শাহরিয়ার। বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান রনি, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং সদস্যসচিব এবিএম জুবায়ের প্রমুখ।

/টিই/