শিরোনাম

পূর্ত সচিব গেলেন মাইলস্টোনে, শিক্ষার্থীরা রোদে দাঁড়িয়ে দিলো সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
পূর্ত সচিব গেলেন মাইলস্টোনে, শিক্ষার্থীরা রোদে দাঁড়িয়ে দিলো সালাম
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার সেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রচন্ড রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম সেখানে যাওয়ায় তাদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়ে চেষ্টা করেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ মো. নজরুল ইসলাম ব্যক্তিগত কাজে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাওয়ার কথা ছিল। সচিবের এ আগমন উপলক্ষে আগে থেকেই রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে সরকারি গাড়িবহর নিয়ে সচিব নজরুল ইসলামসহ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক দল কর্মকর্তা সেখানে আসেন। সচিব সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যথারীতি তাকে ‘সালাম’দেয়।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়েবসাইটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে অধ্যক্ষের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। তবে এ সময় এক ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে কল ধরে বলেন, ‌‘আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার বিদেশে আছেন।‘ বর্তমানে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ জিয়াউল আলম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, পূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম সেখানে যাওয়ার সময় রাজউকের কর্মকর্তারা গাড়ি বহর নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য (উন্নয়ন) মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) আমিনুর রহমান সুমন, প্রধান নগরপরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম, প্রধান স্থপতি মোশতাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে জানতে চেয়ে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মো. জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান স্থপতি মোশতাক আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গার্লস গাইড ও বিএনসিসির সদস্যরা গার্ড অব অনার দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমাদের ছিল না। সেটি কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ ৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

/বিবি/