শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা করলে সমপর্যায়ের জবাব দেওয়া হবে: ইরান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা করলে সমপর্যায়ের জবাব দেওয়া হবে: ইরান
তেহরানের বাহারেস্তান স্কোয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযানসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে তেহরানও সমপর্যায়ের জবাব দেবে। ইরানি সংবাদমাধ্যম খবর অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মালেকি জানান, ‘আমি ট্রাম্পের কোনো অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না, কিন্তু আমি মনে করি না যে তিনি এমন কিছু করার সাহস দেখাবেন, কারণ এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বকে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে। ওয়াশিংটনের যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানও এর জবাব দেবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা করলে ইরানও একই অস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর কিছুটা কৌশলগতভাবেই এড়িয়ে যান এ আইনপ্রণেতা। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যা-ই ব্যবহার করুক না কেন, ইরান তার জবাব দেবে। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট না করে তিনি বলেন, ইরানের অনেক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এখনো উন্মোচিত হয়নি।

মালেকি বলেন, তেহরান এখন আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে আটকে নেই, তারা ‘সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ’ নীতি গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটন যদি আবার কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ভুল করে, তবে তেহরানের হাতে থাকা একাধিক বিকল্প ব্যবহার করা হবে এবং পাল্টা আঘাত হবে হামলার সমান বা তার চেয়েও মারাত্মক।

দুই দেশের মধ্যে থমকে যাওয়া পরমাণু আলোচনার বিষয়ে সরাসরি মার্কিন প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তোলেন মালেকি। তিনি অভিযোগ করেন, জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সংঘাত থামিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়াশিংটন যতক্ষণ না তাদের দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে, ততক্ষণ ইরান আর কোনো আলোচনায় বসবে না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রতিক্রিয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে তেহরান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/