শিরোনাম

চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিচ্ছে না আদানি, কারণ কী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিচ্ছে না আদানি, কারণ কী
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরইমধ্যে গত ২৩ দিন ধরে উৎপাদনক্ষমতার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি গ্রুপ। চুক্তি অনুযায়ী কেন বিদ্যুৎ দিচ্ছে না– এর কোনো জবাব পাচ্ছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিষয়টি ভূরাজনৈতিক কিনা, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা এলাকায় আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে গত আড়াই বছরে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। তবে আগস্ট মাস শুরুর পর থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। সবশেষ রবিবার (৩০ আগস্ট) দিয়েছে মাত্র ৯১৫ মেগাওয়াট।

জানা যায়, ৭ আগস্ট ভোর ৫টায়ও আদানি বাংলাদেশের ভেড়ামারা সীমান্ত দিয়ে ১ হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ৮ আগস্ট থেকে এই সরবরাহ হঠাৎ কমে দাঁড়ায় ৭৯০ মেগাওয়াটে। কেন তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে, তা জানার জন্য আগস্টে তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই তারা জানিয়েছে, কয়লা ভিজে গেছে অথবা কয়লা পরিবহণের রেললাইন নষ্ট। তবে তারা এ-ও জানিয়েছে, তিন দিনের মধ্যে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ দেবে। মাঝখানে এক বা দুই দিন ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও আবার কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পিডিবি জানিয়েছে, কয়লার দাম নিয়ে আদানির সঙ্গে বিরোধ আছে। সেটি অর্থনৈতিক আদালতের একজন মধ্যস্থতাকারীর কাছে বিচারাধীন। এর বাইরে বাংলাদেশের কাছে আদানি গ্রুপের কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। গত মাসেও ৯ কোটি ডলারের বেশি বিল দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে অনুমোদন হওয়া বিতর্কিত চুক্তির আওতায় আদানি ভারতের গড্ডা এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়েছে। পিডিবির জন্য নির্ধারিত আর কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বাইরে নেই। এখন আদানির তথ্য ঠিক কি না, তা যাচাই করতে চাইলেও পিডিবির কেউ ভারতে যেতে পারছেন না। সুতরাং আদানি যা বলছে, তাই মেনে নিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে প্রেস কনফারেন্স করার পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এর দুইদিন পরই আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, আদানি চুক্তিতে বড় দুর্নীতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে ২৫ বছর বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। এতে দেশের ক্ষতির আশঙ্কা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি।

/এফসি/