শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তিন দিনে ১৮ লাখ টাকা

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তিন দিনে ১৮ লাখ টাকা
সিটিজেন ডেস্ক

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় সাত শতকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তি ও অসন্তোষের মধ্যেই সোমবার এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সিলগালা করা তিনটি বড় ডেগ খোলা হয়। পরে সেখানে জমা হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু করা হয়।
গণনা শেষে দেখা যায়, মাত্র তিন দিনে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৯ টাকা। উদ্ধার হওয়া অর্থের মধ্যে এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোটও পাওয়া যায়। দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিদেশি মুদ্রা, যার মধ্যে রয়েছে সৌদি রিয়াল, মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ড। এছাড়া সোনা এবং ছোট ছোট স্বর্ণখণ্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
টাকা গণনার কাজে মেশিন ব্যবহার করা হয়। এ কাজে দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সফরকালে দরগাহ-সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপের পর মাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ১৫ দিন পর দানবাক্স খোলা হবে। তবে প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করেন। যদিও কিছু সময় পর তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মাথায় তার এই প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনা ও তহবিলের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কই এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোমবার সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়। ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘যুব সমাজ’ ও ‘সচেতন তরুণ’সহ বিভিন্ন ব্যানারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না’ এবং ‘সিলেটবাসীর দরকার ডিসি সারওয়ার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন। সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস, মহানগর জামায়াত, মহানগর হেফাজতে ইসলাম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল এবং খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণকারী একজন কর্মকর্তাকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা দুঃখজনক।
অন্যদিকে, মাজারে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে ‘ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটের ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন এবং সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেনসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেন। তারা দাবি করেন, দরগাহের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নজির নেই এবং এটি একটি বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হতে পারে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় সাত শতকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তি ও অসন্তোষের মধ্যেই সোমবার এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সিলগালা করা তিনটি বড় ডেগ খোলা হয়। পরে সেখানে জমা হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু করা হয়।
গণনা শেষে দেখা যায়, মাত্র তিন দিনে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৯ টাকা। উদ্ধার হওয়া অর্থের মধ্যে এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোটও পাওয়া যায়। দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিদেশি মুদ্রা, যার মধ্যে রয়েছে সৌদি রিয়াল, মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ড। এছাড়া সোনা এবং ছোট ছোট স্বর্ণখণ্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
টাকা গণনার কাজে মেশিন ব্যবহার করা হয়। এ কাজে দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সফরকালে দরগাহ-সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপের পর মাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ১৫ দিন পর দানবাক্স খোলা হবে। তবে প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করেন। যদিও কিছু সময় পর তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মাথায় তার এই প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনা ও তহবিলের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কই এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোমবার সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়। ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘যুব সমাজ’ ও ‘সচেতন তরুণ’সহ বিভিন্ন ব্যানারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না’ এবং ‘সিলেটবাসীর দরকার ডিসি সারওয়ার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন। সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস, মহানগর জামায়াত, মহানগর হেফাজতে ইসলাম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল এবং খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণকারী একজন কর্মকর্তাকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা দুঃখজনক।
অন্যদিকে, মাজারে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে ‘ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটের ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন এবং সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেনসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেন। তারা দাবি করেন, দরগাহের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নজির নেই এবং এটি একটি বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হতে পারে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তিন দিনে ১৮ লাখ টাকা
সিটিজেন ডেস্ক

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় সাত শতকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তি ও অসন্তোষের মধ্যেই সোমবার এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সিলগালা করা তিনটি বড় ডেগ খোলা হয়। পরে সেখানে জমা হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু করা হয়।
গণনা শেষে দেখা যায়, মাত্র তিন দিনে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৯ টাকা। উদ্ধার হওয়া অর্থের মধ্যে এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোটও পাওয়া যায়। দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিদেশি মুদ্রা, যার মধ্যে রয়েছে সৌদি রিয়াল, মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ড। এছাড়া সোনা এবং ছোট ছোট স্বর্ণখণ্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
টাকা গণনার কাজে মেশিন ব্যবহার করা হয়। এ কাজে দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সফরকালে দরগাহ-সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপের পর মাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ১৫ দিন পর দানবাক্স খোলা হবে। তবে প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করেন। যদিও কিছু সময় পর তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মাথায় তার এই প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনা ও তহবিলের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কই এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোমবার সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়। ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘যুব সমাজ’ ও ‘সচেতন তরুণ’সহ বিভিন্ন ব্যানারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না’ এবং ‘সিলেটবাসীর দরকার ডিসি সারওয়ার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন। সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস, মহানগর জামায়াত, মহানগর হেফাজতে ইসলাম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল এবং খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণকারী একজন কর্মকর্তাকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা দুঃখজনক।
অন্যদিকে, মাজারে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে ‘ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটের ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন এবং সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেনসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেন। তারা দাবি করেন, দরগাহের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নজির নেই এবং এটি একটি বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হতে পারে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।




