ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। অধিবেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হতে পারে– এমন আভাস মিলেছে বিভিন্ন দলের বক্তব্যে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার প্রশ্নে সংসদে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে তার এই ভাষণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে দল দুটি। ফলে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি। কালকে (আজ) আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণও শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
সংবিধান সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য
জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার প্রশ্নেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে এবং নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়টি নিয়েও সংসদে বিরোধী দলের কড়া অবস্থান দেখা যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষের।
কারণ এর আগে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ– এই তিনটি সংসদই গঠিত হয়েছিল বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি, যাদের অনেকেই ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বলে উল্লেখ করতেন। ওই সময় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি– এমন অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মহলে।
অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই বিধান অনুযায়ী ফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।
বুধবার সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ পরিচালনা করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং সংসদকে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। সেই অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
তবে এ পরিষদের সদস্য হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা শপথ নিলেও বিএনপি তা নেয়নি। ফলে পরিষদটি এখনো গঠিত হয়নি এবং সংবিধান সংস্কার উদ্যোগ শুরুতেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিএনপি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদের মূল লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও তারা বাস্তবায়ন করতে চায়।
জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংবিধান সংশোধন না করা এবং ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিষয়ে বিএনপির কিছু আপত্তি রয়েছে।
তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি চাইলে নিজেদের মত অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেপুটি স্পিকার নিয়েও আলোচনা
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং উভয় কক্ষেই বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার থাকার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে।
তবে বর্তমান সংসদেই বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিরোধী দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
ব্যতিক্রমীভাবে শুরু হবে অধিবেশন
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার সে সুযোগ নেই। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর আর প্রকাশ্যে দেখা যাননি এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের আসন খালি রেখেই অধিবেশন শুরু করা হবে। প্রথমে কোরআন তিলাওয়াত হবে। এরপর সংসদ নেতা কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করবেন এবং তার সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
প্রথম দিনের বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
সংসদে ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। সাধারণ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে।
এ নির্বাচনে ২০৯ আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। বিরোধী দলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা পেয়েছে ৬৮টি আসন। এনসিপি পেয়েছে ছয়টি আসন।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই সংসদে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুইজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিসের একজন করে সদস্য রয়েছেন। সাতজন সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে। তার ভাষায়, দেশের মানুষ যে নতুন গণতন্ত্রের প্রত্যাশা করছে, সংসদের মাধ্যমে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। অধিবেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হতে পারে– এমন আভাস মিলেছে বিভিন্ন দলের বক্তব্যে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার প্রশ্নে সংসদে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে তার এই ভাষণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে দল দুটি। ফলে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি। কালকে (আজ) আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণও শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
সংবিধান সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য
জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার প্রশ্নেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে এবং নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়টি নিয়েও সংসদে বিরোধী দলের কড়া অবস্থান দেখা যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষের।
কারণ এর আগে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ– এই তিনটি সংসদই গঠিত হয়েছিল বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি, যাদের অনেকেই ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বলে উল্লেখ করতেন। ওই সময় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি– এমন অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মহলে।
অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই বিধান অনুযায়ী ফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।
বুধবার সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ পরিচালনা করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং সংসদকে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। সেই অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
তবে এ পরিষদের সদস্য হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা শপথ নিলেও বিএনপি তা নেয়নি। ফলে পরিষদটি এখনো গঠিত হয়নি এবং সংবিধান সংস্কার উদ্যোগ শুরুতেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিএনপি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদের মূল লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও তারা বাস্তবায়ন করতে চায়।
জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংবিধান সংশোধন না করা এবং ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিষয়ে বিএনপির কিছু আপত্তি রয়েছে।
তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি চাইলে নিজেদের মত অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেপুটি স্পিকার নিয়েও আলোচনা
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং উভয় কক্ষেই বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার থাকার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে।
তবে বর্তমান সংসদেই বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিরোধী দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
ব্যতিক্রমীভাবে শুরু হবে অধিবেশন
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার সে সুযোগ নেই। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর আর প্রকাশ্যে দেখা যাননি এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের আসন খালি রেখেই অধিবেশন শুরু করা হবে। প্রথমে কোরআন তিলাওয়াত হবে। এরপর সংসদ নেতা কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করবেন এবং তার সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
প্রথম দিনের বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
সংসদে ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। সাধারণ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে।
এ নির্বাচনে ২০৯ আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। বিরোধী দলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা পেয়েছে ৬৮টি আসন। এনসিপি পেয়েছে ছয়টি আসন।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই সংসদে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুইজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিসের একজন করে সদস্য রয়েছেন। সাতজন সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে। তার ভাষায়, দেশের মানুষ যে নতুন গণতন্ত্রের প্রত্যাশা করছে, সংসদের মাধ্যমে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। অধিবেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হতে পারে– এমন আভাস মিলেছে বিভিন্ন দলের বক্তব্যে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার প্রশ্নে সংসদে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে তার এই ভাষণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে দল দুটি। ফলে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি। কালকে (আজ) আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণও শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
সংবিধান সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য
জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার প্রশ্নেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে এবং নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়টি নিয়েও সংসদে বিরোধী দলের কড়া অবস্থান দেখা যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষের।
কারণ এর আগে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ– এই তিনটি সংসদই গঠিত হয়েছিল বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি, যাদের অনেকেই ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বলে উল্লেখ করতেন। ওই সময় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি– এমন অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মহলে।
অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই বিধান অনুযায়ী ফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।
বুধবার সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ পরিচালনা করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং সংসদকে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। সেই অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
তবে এ পরিষদের সদস্য হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা শপথ নিলেও বিএনপি তা নেয়নি। ফলে পরিষদটি এখনো গঠিত হয়নি এবং সংবিধান সংস্কার উদ্যোগ শুরুতেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিএনপি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদের মূল লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও তারা বাস্তবায়ন করতে চায়।
জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংবিধান সংশোধন না করা এবং ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিষয়ে বিএনপির কিছু আপত্তি রয়েছে।
তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি চাইলে নিজেদের মত অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেপুটি স্পিকার নিয়েও আলোচনা
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং উভয় কক্ষেই বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার থাকার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে।
তবে বর্তমান সংসদেই বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিরোধী দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
ব্যতিক্রমীভাবে শুরু হবে অধিবেশন
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার সে সুযোগ নেই। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর আর প্রকাশ্যে দেখা যাননি এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের আসন খালি রেখেই অধিবেশন শুরু করা হবে। প্রথমে কোরআন তিলাওয়াত হবে। এরপর সংসদ নেতা কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করবেন এবং তার সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
প্রথম দিনের বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
সংসদে ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। সাধারণ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে।
এ নির্বাচনে ২০৯ আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। বিরোধী দলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা পেয়েছে ৬৮টি আসন। এনসিপি পেয়েছে ছয়টি আসন।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই সংসদে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুইজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিসের একজন করে সদস্য রয়েছেন। সাতজন সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে। তার ভাষায়, দেশের মানুষ যে নতুন গণতন্ত্রের প্রত্যাশা করছে, সংসদের মাধ্যমে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হবে।




