মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পথে যেসব বাধা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পথে যেসব বাধা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান এমওইউর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই নতুন করে দীর্ঘ আলোচনায় না গিয়ে বিদ্যমান চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে চায় ঢাকা।
রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, নতুন এমওইউ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ, বর্তমান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রায় দুই বছর আলোচনা হয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য ওই এমওইউ সই হয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না পাওয়া এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের অভিযোগে মালয়েশিয়া অতীতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়ে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, খারাপ ব্যবহার বা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় মানবিক ও ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো কয়েক দফা বন্ধ ও চালু হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন এমওইউ সই হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে আবারও তা বন্ধ রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, এমওইউর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও নিয়মিত কর্মী নিতে পারে মালয়েশিয়া।
জনশক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ ও চালু হয়, অন্য ১৩ দেশের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। তাদের মতে, এ পরিস্থিতির পেছনে জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।
২০২২ সালে কর্মী পাঠানোর সময় একজন কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তবে অনেক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। সোমবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের কিছু শর্ত বাতিল করা হলে সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান এমওইউর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই নতুন করে দীর্ঘ আলোচনায় না গিয়ে বিদ্যমান চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে চায় ঢাকা।
রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, নতুন এমওইউ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ, বর্তমান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রায় দুই বছর আলোচনা হয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য ওই এমওইউ সই হয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না পাওয়া এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের অভিযোগে মালয়েশিয়া অতীতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়ে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, খারাপ ব্যবহার বা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় মানবিক ও ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো কয়েক দফা বন্ধ ও চালু হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন এমওইউ সই হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে আবারও তা বন্ধ রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, এমওইউর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও নিয়মিত কর্মী নিতে পারে মালয়েশিয়া।
জনশক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ ও চালু হয়, অন্য ১৩ দেশের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। তাদের মতে, এ পরিস্থিতির পেছনে জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।
২০২২ সালে কর্মী পাঠানোর সময় একজন কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তবে অনেক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। সোমবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের কিছু শর্ত বাতিল করা হলে সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পথে যেসব বাধা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান এমওইউর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই নতুন করে দীর্ঘ আলোচনায় না গিয়ে বিদ্যমান চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে চায় ঢাকা।
রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, নতুন এমওইউ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ, বর্তমান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রায় দুই বছর আলোচনা হয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য ওই এমওইউ সই হয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না পাওয়া এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের অভিযোগে মালয়েশিয়া অতীতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়ে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, খারাপ ব্যবহার বা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় মানবিক ও ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো কয়েক দফা বন্ধ ও চালু হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন এমওইউ সই হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে আবারও তা বন্ধ রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, এমওইউর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও নিয়মিত কর্মী নিতে পারে মালয়েশিয়া।
জনশক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ ও চালু হয়, অন্য ১৩ দেশের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। তাদের মতে, এ পরিস্থিতির পেছনে জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।
২০২২ সালে কর্মী পাঠানোর সময় একজন কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তবে অনেক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। সোমবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের কিছু শর্ত বাতিল করা হলে সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


