শিরোনাম

১০ বছরের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি চায় মেট্রোরেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ বছরের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি চায় মেট্রোরেল
মেট্রোরেল। ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলের যাত্রীসেবার ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বর্তমানে কার্যকর থাকা এই অব্যাহতির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। তাই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০৩৬ পর্যন্ত ভ্যাট ছাড় বহাল রাখার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সুপারিশ পাঠাতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজস্ব আয়ে ক্ষতি স্বত্ত্বেও শুরু থেকেই ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে মেট্রোরেলে। তবে এখন অব্যাহতির বিষয়ে সুরাহা হবে জাতীয় সংসদ থেকে। এনবিআর থেকে নয়। অতএব ভবিষ্যতে ভ্যাট মওকুফ করা হবে কী না সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এনবিআরকে দেওয়া চিঠিতে ডিএমটিসিএল ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবের পক্ষে ১৭টি যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল একটি ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’ বা উদীয়মান শিল্প এবং এর স্থায়িত্ব ও জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এই অব্যাহতি প্রয়োজন।

এনবিআর এর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো আলাদা ‘ক্লাস’ বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। এছাড়া ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করলে স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে ভাংতি টাকা লেনদেনে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হবে। যেমন, ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে প্রথম স্ল্যাবের ভাড়া দাঁড়াবে ২৩ টাকা এবং দ্বিতীয় স্ল্যাবে ৩৪ টাকা। বর্তমান মেশিনগুলো ১০ টাকার গুণিতক নোট গ্রহণ ও ফেরত দিতে সক্ষম, তাই ক্ষুদ্র অংকের ভাংতি দেওয়া সম্ভব হবে না।

ডিএমটিসিএল আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী মেট্রোরেল শুধু ভাড়ার আয়ে লাভজনকভাবে চালানো সম্ভব হয় না; ভাড়ার আয় থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ খরচ মেটানো যায় এবং বাকি অংশ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়।

বাংলাদেশেও জনসাধারণের সাধ্যের মধ্যে ভাড়া রাখতে বাস ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এমআরটি লাইন-৬ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকলে দৈনিক যাতায়াত সময় খরচ বাবদ ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং যানবাহন পরিচালনা খরচ বাবদ ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় এতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হয় না, যা বছরে ২ লাখ ২ হাজার ৭৬২ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে ডিএমটিসিএলের অধীনে সরাসরি ১২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হবে এবং সহযোগী শিল্পে আরও ৪ গুণ বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডিএমটিসিএল ইতোমধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ছয়টি কিস্তিতে মোট ১০৬ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি মেট্রোরেলে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কার্যক্রম চললেও সেখানে যাত্রীসেবার ওপর কোনো ভ্যাট নেই। এছাড়া জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ১০ বছর পর্যন্ত ‘ট্যাক্স হলিডে’ সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।

/টিই/