শিরোনাম

বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টা, শূন্যরেখায় আটকে ১০-১৩ জন

সিটিজেন ডেস্ক
বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টা, শূন্যরেখায় আটকে ১০-১৩ জন
বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর গ্রামে জিরো লাইনে অবস্থান করছেন কয়েকজন। ছবি: বিবিসি

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ১০ থেকে ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার বোম্বে তলার খড়ের মাঠসংলগ্ন জিরো লাইনে ওই ব্যক্তিরা অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাত, আনুমানিক সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে বিএসএফ কয়েকজন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার করে দেয়। তবে তারা এখনো আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের সম্ভাব্য চেষ্টা সম্পর্কে বিজিবির কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সে কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন লোক নিয়ে কয়েকটি যানবাহন সীমান্ত এলাকায় আসে। এ সময় সীমান্তঘেঁষা কিছু স্থানে কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে স্থাপিত আলোর ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কয়েকটি গেট খুলে লোকজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির বাড়তি প্রস্তুতি ও নজরদারির কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি ফ্ল্যাশলাইট ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানো হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সোমবার সকাল থেকে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধ ভ্রমণ নথির মাধ্যমে স্বীকৃত সীমান্তপথে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

/এমআর/